২০০৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর মালেগাঁওয়ে একটি মোটরবাইকে বিস্ফোরক বসিয়ে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। প্রাণ যায় ছ’জনের। গুরুতর জখম হন অনেকে।

সাধ্বী প্রজ্ঞা
শেষ আপডেট: 31 July 2025 16:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০০৮ সালের মালেগাঁও বিস্ফোরণ মামলায় যাবতীয় বেকসুর খালাস বিজেপির প্রাক্তন সাংসদ সাধ্বী প্রজ্ঞা সিং ঠাকুর। বৃহস্পতিবার মুম্বইয়ের এনআইএ বিশেষ আদালত রায় দেয়, বিস্ফোরণে ব্যবহৃত মোটরবাইকটি প্রজ্ঞা ঠাকুরের বলে কোনও প্রমাণ মেলেনি। সেই কারণে তাঁকে নির্দোষ বলে ঘোষণা করা হয়। প্রায় ১৭ বছরের টানাপড়েন শেষে বিস্ফোরক মামলায় রেহাই পেলেন ‘হিন্দু সন্ত্রাস’-এর মুখ বলে একসময় পরিচিত এই নেত্রী।
আদালত জানিয়েছে, বিস্ফোরণ যে ঘটেছিল, তা প্রমাণ করতে পেরেছে তদন্তকারী সংস্থা। কিন্তু যে এলএমএল ফ্রিডম মোটরবাইকে বিস্ফোরক বসানো হয়েছিল বলে অভিযোগ, সেটি প্রজ্ঞার ছিল, তা প্রমাণ করা যায়নি। বিচারকের পর্যবেক্ষণ, 'বাইকের চেসিস নম্বর মুছে ফেলা হয়েছিল। ইঞ্জিন নম্বর নিয়েও সন্দেহ রয়েছে। কোনও প্রমাণ নেই যে সাধ্বী প্রজ্ঞা বাইকটির মালিক।'
২০০৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর মালেগাঁওয়ে একটি মোটরবাইকে বিস্ফোরক বসিয়ে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। প্রাণ যায় ছ’জনের। গুরুতর জখম হন অনেকে। তদন্তে নামে মহারাষ্ট্র এটিএস। বিস্ফোরণে ব্যবহৃত বাইকের নম্বর ছিল ভুয়ো। ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে বাইকের ইঞ্জিন নম্বর উদ্ধার হয়। এবং তখনই দাবি করা হয়, বাইকটি প্রজ্ঞা ঠাকুরের নামে রেজিস্টার্ড। সেই সূত্রে ২০০৮ সালের ২৩ অক্টোবর গ্রেফতার হন তিনি।
এদিন রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন প্রজ্ঞা ঠাকুর। বিচারকের উদ্দেশে তিনি বলেন, 'আমি প্রথম থেকেই বলে এসেছি, তদন্তে কাউকে ডাকলে তার ভিত্তি থাকা উচিত। আমাকে ডাকা হল, গ্রেফতার করা হল এবং নির্মম অত্যাচার চালানো হল। সন্ন্যাসিনী হিসেবে জীবন কাটাচ্ছিলাম, অথচ আমাকে দোষী সাজানো হল। আমার গোটা জীবনটা ধ্বংস করে দেওয়া হল। কোনও বিচার পাইনি তখন। আজ ভগবান বিচার করলেন। আজ ভগবানের বিজয় হল, হিন্দুত্বের জয় হল।'
এই রায় নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন প্রজ্ঞার বোন উপমা সিং। সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানান, প্রজ্ঞা শুরু থেকেই বলে এসেছেন, তিনি নির্দোষ। বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থা ছিল।
এক সময় এই মামলার ভিত্তিতে প্রজ্ঞা ঠাকুর হয়ে ওঠেন তথাকথিত ‘হিন্দু সন্ত্রাস’-এর প্রতীক। অভিযোগ ছিল, প্রতিশোধস্পৃহা থেকেই ২০০৬ সালের মুম্বই লোকাল ট্রেন বিস্ফোরণের জবাবে মালেগাঁও বিস্ফোরণ ঘটানোর পরিকল্পনা করেন তিনি ও প্রাক্তন সেনা অফিসার প্রসাদ পুরোহিত। পুরোহিত বিস্ফোরক জোগাড় করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। এদিনর তাঁকেও নির্দোষ ঘোষণা করে আদালত। বেকসুর খালাস পান আরও পাঁচ অভিযুক্ত।
তবে প্রজ্ঞার বিরুদ্ধে অত্যাচারের অভিযোগ নিয়েও বিতর্ক কম হয়নি। তিনি বারবার দাবি করেছেন, পুলিশি হেফাজতে তাঁকে ভয়ঙ্কর নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। ২০১৪ সালে তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে মানবাধিকার কমিশন তদন্ত শুরু করলেও, কোনও নির্দিষ্ট প্রমাণ মেলেনি।
২০১৯ সালে বিজেপি তাঁকে প্রার্থী করে ভোপাল থেকে। কংগ্রেস নেতা দিগ্বিজয় সিংকে বিপুল ব্যবধানে হারিয়ে সাংসদ হন। তবে শপথ নেওয়ার পর থেকেই নানা বিতর্কিত মন্তব্যে একাধিকবার সংবাদ শিরোনামে উঠে আসেন। কখনও মহাত্মা গান্ধীর হত্যাকারী নাথুরাম গডসেকে ‘দেশভক্ত’ বলা, কখনও আবার মুম্বই এটিএস প্রধান হেমন্ত করকরের মৃত্যু নিয়ে ‘শাপ’ দেওয়ার মন্তব্য, সব মিলিয়ে প্রজ্ঞার রাজনৈতিক যাত্রা বড়ই বিতর্কে মোড়া।
আজকের রায়ে প্রজ্ঞা সিং ঠাকুরের জীবনের এক দীর্ঘতম আইনি লড়াইয়ের পরিসমাপ্তি ঘটল। প্রশ্ন থাকল অন্যত্র, ১৭ বছরের তদন্তের শেষে বিস্ফোরণ প্রমাণ হল, তাহলে দোষীটা কে?