ম্যাচে প্রজ্ঞানন্দের সঠিক চালের হার ছিল ৯৩.৯ শতাংশ। যেখানে কার্লসেন থেমে যান ৮৪.৯-এ। এই জয়ের সুবাদে দাবার তিন প্রধান টাইম ফর্ম্যাটে (ক্লাসিকাল, র্যাপিড এবং ব্লিৎজ) শীর্ষবাছাই প্রতিযোগীকে হারানোর নজির গড়লেন প্রজ্ঞানন্দ। এমন কৃতিত্ব দুনিয়ার হাতেগোনা দাবাড়ুর রয়েছে।

প্রজ্ঞানন্দ বনাম কার্লসেন
শেষ আপডেট: 17 July 2025 11:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কিছুদিন আগেই উপর্যুপরি দু’বার ডি. গুকেশের (D. Gukesh) হাতে পর্যুদস্ত হয়েছিলেন ম্যাগনাস কার্লসেন (Magnus Carlsen)। প্রথমবার ক্লাসিক্যালে (Classical Chess)। হেরে জানিয়েছিলেন, দাবার এই ফর্ম্যাট ঠিক পছন্দের নয়। দ্বিতীয়বার পরাজিত হন র্যাপিডে (Rapid Chess)। তখন বক্তব্য ছিল, দাবা নামক বস্তুটা থেকেই মন উঠে যাচ্ছে। দুনিয়ার পয়লা নম্বর দাবাড়ু ভারতের এক তরুণ প্রতিপক্ষের কাছে মাত খেয়ে কার্যত প্রস্থানের চিন্তাভাবনা করছেন—এমনটা অতীতেও খুব একটা দেখা যায়নি।
দ্বিতীয় পরাজয়ের পর মাসও পেরল না, ফের একবার ভারতেরই প্রতিদ্বন্দ্বীর হাতে কিস্তিমাত কার্লসেন। লাস ভেগাসের মঞ্চে (Freestyle Chess Grand Slam in Las Vegas) নরওয়ের দাবাড়ুকে কুপোকাত করলেন রমেশবাবু প্রজ্ঞানন্দ (Rameshbabu Praggnanandhaa)। খেলা ছিল ফ্রিস্টাইল ফর্ম্যাটে (Freestyle Chess)। তাও এমন টুর্নামেন্ট, যার সহ-প্রবর্তক কার্লসেন নিজে। র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে থাকা দাবাড়ুকে তাঁর নিজের ডেরায় হারিয়ে প্রজ্ঞানন্দ জানালেন, ফ্রিস্টাইল তিনি বেশ উপভোগ করেন… ক্লাসিক্যালের চেয়েও বেশি!
চেস গ্র্যান্ড স্ল্যামের চতুর্থ রাউন্ডে ম্যাগনাস কার্লসেনকে মাত্র ৩৯ চালে হারিয়ে এককভাবে সাদা গ্রুপের শীর্ষে উঠে এলেন ঊনিশ বছরের ভারতীয় গ্র্যান্ডমাস্টার। ম্যাচে প্রজ্ঞানন্দের সঠিক চালের হার ছিল ৯৩.৯ শতাংশ। যেখানে কার্লসেন থেমে যান ৮৪.৯-এ। এই জয়ের সুবাদে দাবার তিন প্রধান টাইম ফর্ম্যাটে (ক্লাসিকাল, র্যাপিড এবং ব্লিৎজ) শীর্ষবাছাই প্রতিযোগীকে হারানোর নজির গড়লেন প্রজ্ঞানন্দ। এমন কৃতিত্ব দুনিয়ার হাতেগোনা দাবাড়ুর রয়েছে।
চেস৯৬০ বা ফ্রিস্টাইল দাবার এই টুর্নামেন্টের অন্যতম আকর্ষণ— প্রতি ম্যাচেই ঘুঁটির প্রারম্ভিক অবস্থান বদলে যায়। অর্থাৎ, অভ্যস্ত ওপেনিং মুখস্থ করে নয়, তাৎক্ষণিক বিশ্লেষণ ও গভীর কৌশলের উপর নির্ভর করেই চাল দেওয়া জরুরি। যেখানে কার্লসেনকে দাঁড়াতে দেননি প্রজ্ঞানন্দ।
আপাতত চার রাউন্ড শেষে ৩.৫ পয়েন্ট নিয়ে সাদা গ্রুপের শীর্ষে। চতুর্থ রাউন্ডে সাদা ঘুঁটি হাতে মুখোমুখি হন নরওয়ের গ্র্যান্ডমাস্টার ম্যাগনাস কার্লসেনের। খেলার শুরু থেকেই দাপট দেখান প্রজ্ঞানন্দ। সময় নিয়ন্ত্রণ ছিল ১০ মিনিট+১০ সেকেন্ড ইনক্রিমেন্ট। ম্যাচের একটা মুহূর্তও কার্লসেনের হাতে রাশ ছিল না। ৩৯টি নিখুঁত চালে কিস্তিমাত খান!
চ্যাম্পিয়নশিপ ব্র্যাকেটে পৌঁছনোর লড়াইয়ে এই জয় প্রজ্ঞানন্দের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাদা গ্রুপে মোট সাত রাউন্ড শেষে তাঁর সংগ্রহ ৪.৫ পয়েন্ট। সমান পয়েন্ট পেয়েছেন উজবেকিস্তানের নোদিরবেক আবদুসাত্তোরভ এবং সিনদারভ। তবে টাইব্রেকারের নিরিখে প্রজ্ঞানানন্দই এগিয়ে থাকায় উঠে যান কোয়ার্টার ফাইনালে।
এই গ্রুপের তারকা প্রতিযোগী কার্লসেন শুরুটা মন্দ করেননি। ভিনসেন্ট কেইমার ও লেভন অ্যরোনিয়ানের বিরুদ্ধে টানা দুই জয়। কিন্তু এরপরই ধস। সিনদারভের সঙ্গে ড্র। চতুর্থ রাউন্ডে প্রজ্ঞানানন্দের কাছে পরাজয়। পঞ্চম রাউন্ডে ওয়েসলি সো-র কাছে হার। ষষ্ঠ রাউন্ড ছিল আবদুসাত্তোরভের বিরুদ্ধে। শেষ হয় অমীমাংসীতভাবে। অন্তিম রাউন্ডে বিবিসারা আসাউবায়েভাকে হারালেও, গ্রুপে পঞ্চম স্থানে শেষ করেন। নকআউটে ওঠার লড়াইয়ে প্লে-অফে আবারও মুখোমুখি হন অ্যরোনিয়ানের। সেখানেও হেরে যান কার্লসেন। কোয়ার্টার ফাইনালের আগেই টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যান দাবাবিশ্বের অধুনা সবচেয়ে পরিচিত মুখ।
সাদা গ্রুপের মতোই রোমাঞ্চকর ছিল কালো গ্রুপের লড়াই। এখান থেকেই নকআউটে উঠেছেন আরও এক ভারতীয় গ্র্যান্ডমাস্টার অর্জুন এরিগাইসি। সাত ম্যাচে তিন জয় ও তিন ড্র নিয়ে তৃতীয় স্থানে শেষ করেন তিনি। এর চেয়ে বেশি পয়েন্ট পেয়েছেন শুধু হিকারু নাকামুরা এবং হ্যান্স নিয়মান। এই গ্রুপেই খেলছিলেন আর এক ভারতীয় বিদিত গুজরাতি। যিনি মাত্র ১.৫ পয়েন্ট পেয়ে তালিকায় সবার শেষে অভিযান শেষ করেন।
ম্যাচশেষে প্রজ্ঞানন্দ বলেন, ‘এই মুহূর্তে ক্লাসিকালের চেয়ে ফ্রিস্টাইল খেলতে বেশি ভাল লাগছে। এখানে অনেক নতুন ভাবনার সুযোগ থাকে। বোর্ডে আরও বেশি ইম্প্রোভাইজ করতে হয়!’