বুধবার দুপুর সাড়ে ১২ থেকে ১টার মধ্যে এইচডিএফসি (HDFC) ব্যাঙ্কের জেপি নগর শাখা থেকে নগদভর্তি ভ্যান রওনা দিয়েছিল এইচবিআর লেআউটের দিকে।

প্রতীকী ছবি, এআই
শেষ আপডেট: 20 November 2025 14:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বেঙ্গালুরুতে ভরদুপুরে ডাকাতি (Bengaluru)। ব্যস্ত রাস্তা, যানজট আর মাঝখানেই সিনেমার মতো দুঃসাহসিক কাণ্ড। সরকারি আধিকারিকের বেশ ধরে একটি দল লুট করে নিল প্রায় ৭ কোটি ১১ লক্ষ টাকা। লক্ষ্য ছিল সিএমএস ইনফো সিস্টেমসের এটিএম ক্যাশ ভ্যান (Cash Van)। পরিকল্পনা এমন নিখুঁত যে ঘটনাস্থলে উপস্থিত দুই সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষীও কিছুই করতে পারেননি।
বুধবার দুপুর সাড়ে ১২ থেকে ১টার মধ্যে এইচডিএফসি (HDFC) ব্যাঙ্কের জেপি নগর শাখা থেকে নগদভর্তি ভ্যান রওনা দিয়েছিল এইচবিআর লেআউটের দিকে। তিনটি বাক্সে ছিল টাকা। ভ্যানের মধ্যে ছিলেন চালক বিনোদ কুমার, ক্যাশ কাস্টডিয়ান আফতাব ও রাজন্না, সঙ্গে দুই বন্দুকধারী নিরাপত্তারক্ষী।
জয়নগর দ্বিতীয় ব্লকের কাছে হঠাৎই একটি মারুতি জেন ভ্যানটির সামনে ব্রেক কষে দাঁড়িয়ে যায়। তিন জন নেমে এসে নিজেদের আরবিআই আধিকারিক বলে পরিচয় দেন। বলেন “আপনাদের বিরুদ্ধে নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ এসেছে। জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে।” এর পরই ঘটনাস্থলে এসে দাঁড়ায় একটি ইনোভা ও একটি বড় এমইউভি।
ক্যাশ ভ্যানের কর্মীরা পরিস্থিতি বুঝে ওঠার আগেই ‘তদন্তের’ নামে তাঁদের অস্ত্র রেখে ওই বড় গাড়িটিতে উঠতে বলা হয়— তাঁরা উঠেও পড়েন।
এরপর ভ্যানচালককে নির্দেশ দেওয়া হয় ডেয়ারি সার্কল ফ্লাইওভারে গিয়ে অপেক্ষা করতে। বাকিদের বলা হয়, পুলিশ স্টেশনে গিয়ে বয়ান দিতে হবে, আর নগদ ‘আরবিআইয়ে পাঠানো’ হবে। এমইউভি–টি নিমহান্স জাংশনে থামতেই স্টাফদের নামিয়ে দেওয়া হয়। তাঁরা হাঁটতে হাঁটতে সিদ্দাপুরা থানার দিকে রওনা দেন।
এদিকে চালক একাই ভ্যান নিয়ে ফ্লাইওভারে অপেক্ষা করছিলেন। কয়েক মিনিট পরে দুষ্কৃতীরা সেখানে পৌঁছে অস্ত্র দেখিয়ে নগদের বাক্সগুলি জেন গাড়িতে তোলেন। মুহূর্তে উধাও হয়ে যায় দলটি। পথের ধারে পড়ে থাকে এমইউভি আর খালি ক্যাশ ভ্যান।
ঘটনার খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছয় পুলিশ। বেঙ্গালুরু পুলিশ কমিশনার সীমন্ত কুমার সিং জানিয়েছেন, কর্মীরা খবর দিতে দেরি করেছেন। চালক নাকি বারবার নিজের বয়ানও বদলাচ্ছিল। দুই ডেপুটি কমিশনার, এক জয়েন্ট কমিশনারের নেতৃত্বে মোট আটটি বিশেষ দল তদন্তে নেমেছে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, পুরো পরিকল্পনা বহুদিন ধরে সাজানো। রুটিন মুভমেন্ট লক্ষ করে ওই দল জানত কোন সময় ভ্যান কোথায় থাকবে। তদন্তকারীদের আরও দাবি, ভ্যানের পিছনের দরজা খুলে পদ্ধতিগতভাবে নগদ কারে তোলার ঘটনায় ‘ইনসাইড হেল্প’ থাকার সম্ভাবনা প্রবল।
অভিযুক্তদের অতীত খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বড় প্রশ্ন হল, দু’জন বন্দুকধারী থাকা সত্ত্বেও কেন একটিও গুলি ছাড়া হল না? কেন এমন সহজেই দুষ্কৃতীদের কথায় বিশ্বাস করল ভ্যানের কর্মীরা?