বেঙ্গালুরুতে বাজেয়াপ্ত নকল ঘি। বাজারে বাড়ছে ভেজালের আতঙ্ক। কোনটা আসল আর কোনটা নকল, কীভাবে বুঝবেন? জেনে নিন সহজ কয়েকটি উপায়।

ঘিয়ের ছবি
শেষ আপডেট: 18 November 2025 16:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বেঙ্গালুরুতে নকল ‘নন্দিনী’ (Nandini) ঘি ধরা পড়ার পর ফের মাথাচাড়া দিয়েছে ভেজাল ঘি নিয়ে উদ্বেগ। শহরের চামরাজপেটের নানা জায়গায় হানা দিয়ে পুলিশ উদ্ধার করেছে ৮,১৩৬ লিটার ভেজাল ঘি, যার বাজারমূল্য প্রায় ৫৬.৯৫ লক্ষ টাকা। ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে বাজেয়াপ্ত হয়েছে ১.২৬ কোটি টাকারও বেশি। তদন্তকারীদের দাবি, তামিলনাড়ুতে তৈরি এই ভেজাল ঘি বেঙ্গালুরুতে এনে নকল নন্দিনী প্যাকেটে ভরা হচ্ছিল এবং বাজারে বিক্রি করা হচ্ছিল।
সেন্ট্রাল ক্রাইম ব্রাঞ্চের (CCB) স্পেশ্যাল ইনভেস্টিগেশন স্কোয়াড ও কর্নাটক মিল্ক ফেডারেশনের (KMF) ভিজিল্যান্স টিম যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে নন্দিনী ব্র্যান্ডের নকল স্যাশে, বটল, নিম্নমানের পাম অয়েল, নারকেল তেল এবং আরও বিভিন্ন মিশ্রণের উপাদান উদ্ধার করে। সন্দেহ রয়েছে, প্রস্তুতকারীরা ঘিতে প্রাণীজ চর্বিও মেশাত, তা জানতে ল্যাব–পরীক্ষা চলছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, বাড়ির ঘি কীভাবে যাচাই করবেন? ঘি খাঁটি না ভেজাল- চিনবেন কীভাবে?
ঘরেই করুন তিনটি সহজ পরীক্ষা
১. টেক্সচার বা ‘পাম রাব’ টেস্ট
হাতের তালুতে অল্প গরম ঘি ঘষে দেখুন
খাঁটি ঘি: খুব দ্রুত গলে যায়, মসৃণ অনুভূতি দেয় এবং হালকা সুগন্ধ বেরোয়
ভেজাল ঘি: দানাদানা ভাব থাকে, তাড়াতাড়ি গলে না, মিশ্র তেলের লক্ষণ দেখা যায়।
এই পরীক্ষায় বোঝা যায় ঘি শরীরের তাপমাত্রায় কত দ্রুত নরম হচ্ছে। খাঁটি ঘি সহজেই নরম হয়ে যায়।
২. তাপমাত্রা বা ‘হিটিং’ টেস্ট
প্যানে এক চামচ ঘি নিয়ে ধীরে গরম করুন
খাঁটি ঘি: দ্রুত গলে বাদামি বা সোনালি রং ধরে, ঘি–র স্বাভাবিক বাদামি গন্ধ বেরোয়
ভেজাল ঘি: গলতে সময় নেয়, রং ফিকে থাকে, মিশ্র ভোজ্যতেলের উপস্থিতি বোঝায়।
বিশেষত বড় প্যাকেট বা আলগা ঘি কেনার পর এটি পরীক্ষা করতে সুবিধা হয়।
৩. ‘বটল অ্যান্ড সুগার’ টেস্ট
একটি কাঁচের বোতলে অল্প ঘি নিয়ে তাতে চিনি মিশিয়ে ঝাঁকিয়ে কয়েক মিনিট রেখে দিন।
খাঁটি ঘি: কোনও রঙিন অবশিষ্টাংশ থাকে না।
ভেজাল ঘি: নীচে লালচে বা গোলাপি স্তর পড়ে, কেমিক্যাল বা সিনথেটিক কালার থাকার ইঙ্গিত।
এই টেস্ট বহু ঘরেই ভেজাল ঘি ধরা পড়তে পারে। আপনি সাবধান হতে পারেন।
নকল ঘি এখন ঘরে ঘরে। তাই ঘি কিনলেই একবার অন্তত এই পরীক্ষাগুলি করে নেওয়া ভাল। সন্দেহ থাকলে ঘরে তৈরি ঘি ব্যবহারই সবচেয়ে নিরাপদ।