দীপাবলির পর থেকেই রাজধানীর বায়ুর মান ক্রমশ খারাপ হচ্ছে (Delhi air pollution)। উৎসবের সময় আতশবাজির ধোঁয়া, ফসল পোড়ানোর ধোঁয়া (স্টাবল বার্নিং) আর গাড়ির ধোঁয়া- সব মিলিয়ে শহরের আকাশ এখন ধোঁয়াশায় ঢেকে।

প্রতীকী ছবি (এআই নির্মিত)
শেষ আপডেট: 8 November 2025 17:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবার সকালে ঘুম ভাঙতেই দিল্লিবাসী দেখল ধোঁয়ার চাদরে ঢেকে গেছে গোটা শহর। ঘন কুয়াশার মতো মনে হলেও, আসলে সেটা দূষণের ধোঁয়া। সকাল ৯টার সময় রাজধানীর গড় বায়ুগুণ সূচক (AQI) দাঁড়ায় ৩৩৫, যা সরাসরি ‘রেড জোন’-এর মধ্যে পড়ে (Delhi air pollution)। কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের (CPCB) তথ্য বলছে, এ মুহূর্তে দিল্লিই ভারতের সবচেয়ে দূষিত শহর।
শহরের বাতাসে এখন অতিরিক্ত পিএম 2.5 ধূলিকণা, যা ফুসফুসে ঢুকে স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে (Delhi air pollution)। দূষণের পাশাপাশি ঠান্ডাও জেঁকে বসছে রাজধানীতে। আজ দিল্লির সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমেছে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা মরশুমের গড়ের থেকে প্রায় তিন ডিগ্রি কম।
দীপাবলির পর থেকেই খারাপ হচ্ছে বাতাস
দীপাবলির পর থেকেই রাজধানীর বায়ুর মান ক্রমশ খারাপ হচ্ছে (Delhi air pollution)। উৎসবের সময় আতশবাজির ধোঁয়া, ফসল পোড়ানোর ধোঁয়া (স্টাবল বার্নিং) আর গাড়ির ধোঁয়া- সব মিলিয়ে শহরের আকাশ এখন ধোঁয়াশায় ঢেকে। প্রশাসনের নানা উদ্যোগেও পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। সকালবেলা বা রাতে চোখে তীব্র জ্বালা, কাশি, শ্বাসকষ্ট- এসব এখন দিল্লির বাসিন্দাদের নিত্যসঙ্গী।
বিশেষজ্ঞদের অনুমান, হঠাৎ করে একদিনে দিল্লির দূষণ মাত্রা (Delhi air pollution) ভয়াবহ আকার নেওয়ার কারণ গুরুপরব। অর্থাৎ গুরু নানক জয়ন্তী। ওইদিন ব্যাপকহারে বাজি ফেটেছে। শুধু দিল্লিতেই নয়, সন্নিহিত এনসিআর এলাকা এবং পাঞ্জাব, হরিয়ানাতেও প্রচুর বাজি ফাটায় তা বাতাসে ভেসে ধূলিকণা ও ধাতুকণার পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
আবহাওয়ার পরিবর্তনও দায়ী
আবহাওয়া দফতরের (IMD) মতে, দিল্লির সর্বোচ্চ তাপমাত্রা আজ ২৮.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা গড়ের থেকে কিছুটা কম। তবে আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, এই বছর শীত কিছুটা দেরিতে আসবে। গত বছর অক্টোবরের শেষ থেকেই তাপমাত্রা নেমে গিয়েছিল ৯ ডিগ্রির কাছাকাছি, কিন্তু এ বছর এখনও তেমনটা হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীতকালে বাতাসের গতি কমে যায়, ফলে দূষিত বায়ু মাটির কাছেই আটকে থাকে। এতে বায়ুদূষণের প্রভাব আরও বাড়ে। তাঁদের পরামর্শ, সকালে বা রাতে বাইরে বেরোলে মাস্ক পরা, ঘরে জানলা বন্ধ রাখা ও এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহার করা উচিত। শিশু, বয়স্ক ও ফুসফুসজনিত সমস্যায় ভুগছেন, এমন রোগীদের বিশেষভাবে সাবধান থাকার বার্তা দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে দিল্লিবাসীর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ- ঠান্ডা আর দূষণের দুই দিক সামলানো। যতদিন না বাতাস পরিষ্কার হচ্ছে, ততদিন সচেতনতা আর সতর্কতাই একমাত্র ভরসা।
অন্যদিকে, কেন্দ্রের একটি তথ্য বলছে, হরিয়ানা ও পাঞ্জাবে ফসলের গোড়া পোড়ানোর কারণে রাজধানীর বাতাসে পিএম ২.৫-এর পরিমাণ গতকালই ৯.৪৮ শতাংশ বাড়িয়ে দিয়েছে। যা এই বছরের শীতে সর্বোচ্চ। শুক্রবার এর পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে ৩৮ শতাংশে পৌঁছতে পারে। কারণ উত্তর-পশ্চিমী বায়ুপ্রবাহ দিল্লির আকাশে আরও ধোঁয়া বয়ে নিয়ে আসতে পারে।