মূলত সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে ছাড়ার কথা ছিল বিমানটির। কিন্তু সেটি শেষ পর্যন্ত দুপুর ১টা নাগাদ ছাড়ে। বোর্ডিং শুরু হয় সকাল ৬টার কিছু আগে, প্রায় ৪০ মিনিট দেরিতে।

এয়ার ইন্ডিয়া বিমান
শেষ আপডেট: 8 November 2025 12:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুম্বই থেকে লন্ডনগামী (Mumbai London) এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট (AI129) শনিবার ভোরে নির্ধারিত সময়ের প্রায় সাত ঘণ্টা পরে উড়ল (Air India Flight Delay)। বিমানটির যান্ত্রিক গোলযোগের (Technical Issues) জেরে যাত্রীদের দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকতে হয় বিমানবন্দরে (Airport)। রাতভর না ঘুমিয়ে যাত্রা করতে আসা বহু যাত্রী ক্ষোভ উগরে দেন সোশ্যাল মিডিয়ায়।
মূলত সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে ছাড়ার কথা ছিল বিমানটির। কিন্তু সেটি শেষ পর্যন্ত দুপুর ১টা নাগাদ ছাড়ে। বোর্ডিং শুরু হয় সকাল ৬টার কিছু আগে, প্রায় ৪০ মিনিট দেরিতে। যাত্রীরা বিমানে ওঠার পর প্রায় দেড় ঘণ্টা বসে ছিলেন, তারপর পাইলট ঘোষণা করেন যে বিমানটিতে টেকনিক্যাল সমস্যা ধরা পড়েছে। এরপর সকলকে নামিয়ে দেওয়া হয়।
সকাল ৮টা ১৫ মিনিটের দিকে যাত্রীদের নামানো হয় এবং তাঁদের হ্যান্ড ব্যাগেজ পুনরায় পরীক্ষা করা হয়। প্রথমে জানানো হয় দুপুর ১২টায় বিমান ছাড়বে, পরে সেই সময় পরিবর্তন করে ১টা করা হয়।
বিক্ষুব্ধ যাত্রীরা জানান, পুরো সময়টায় এয়ার ইন্ডিয়ার তরফে স্পষ্ট কোনও তথ্য দেওয়া হয়নি। কেউ কেউ জানান, যাত্রীদের খাবার বা পানীয় দেওয়াতেও দেরি করা হয়।
এয়ার ইন্ডিয়ার এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, “বিমানটির টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে দেরি হয়েছে। সমস্ত যাত্রীদের খাবার ও জল সরবরাহ করা হয়েছে।” সংস্থার তরফে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “মুম্বই থেকে লন্ডনগামী ফ্লাইট AI129 আজ টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে বিলম্বিত হয়েছে। বিমানটি সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে ছাড়ার কথা থাকলেও এখন দুপুর ১টায় ছেড়ে যাবে।”
আগের দিনও ছিল বিমান চলাচলে গোলযোগ
এর ঠিক একদিন আগে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (ATC) সিস্টেমে গোলযোগের জেরে গোটা দেশের বিমান পরিষেবা আংশিকভাবে ব্যাহত হয়। প্রায় ৮০০টিরও বেশি ফ্লাইট প্রভাবিত হয়, যার প্রভাব মুম্বই, জয়পুর ও লখনউতেও পড়ে।
প্রসঙ্গত, দেশের সবচেয়ে ব্যস্ত বিমানবন্দর হিসেবে পরিচিত দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রতিদিন প্রায় ১,৫৫০টি ফ্লাইট পরিচালনা করে। গত সপ্তাহেও এখানে সন্দেহজনক জিপিএস স্পুফিংয়ের ঘটনায় একাধিক ফ্লাইটের রুট পরিবর্তন করতে হয়েছিল।
জিপিএস স্পুফিংয়ের ক্ষেত্রে ভুয়ো স্যাটেলাইট সংকেত পাঠিয়ে বিমান পরিচালনা ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করা হয়, যার ফলে বিমান ভুল অবস্থান বা উচ্চতা নির্ধারণ করে। সাধারণ জ্যামিংয়ের মতো এটি সংকেত ব্লক না করে বরং মিথ্যা নির্দেশনা দেয়, ফলে নেভিগেশন ব্যবস্থায় ভুল পথ বা অবস্থান দেখায়।
এ ধরনের ঘটনা আগে যুদ্ধক্ষেত্রের এলাকাতেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু এখন তা আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলেও প্রভাব ফেলছে। গত মাসে ভিয়েনা থেকে দিল্লিগামী একটি বিমান জিপিএস স্পুফিংয়ের কারণে দুবাইয়ে নামতে বাধ্য হয়।