ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন ওই ব়্যাপিডো রাইডার। বন্ধুর সঙ্গে একটি স্টার্টআপ শুরু করেন। যদিও সেটিও ব্যর্থ হয়। আরও প্রায় চার লক্ষ টাকা লোকসান হয়। ধীরে ধীরে নিঃশেষ হয়ে যায় সব সঞ্চয়।
.jpeg.webp)
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 23 December 2025 15:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একটি সাধারণ বাইক রাইড (Bike Ride)। গন্তব্যে পৌঁছনোর তাড়া। কিন্তু সেই র্যাপিডো (Rapido) যাত্রাই বদলে গেল এক আবেগঘন কথোপকথনে। এক তরুণ আইটি কর্মী (IT Worker) সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন এমনই এক অভিজ্ঞতা, যেখানে তাঁর সহযাত্রী র্যাপিডো চালকের (Rapido Driver) জীবনের গল্প নাড়িয়ে দিয়েছে হাজারো মানুষকে।
এক্স (প্রাক্তন টুইটার)-এ @0xChiraag নামের ওই ব্যবহারকারীর পোস্ট অনুযায়ী, দুজনের কথাবার্তার শুরুটা ছিল একেবারেই সাধারণ। কোথায় থাকেন, কোন কলেজে পড়েছেন - এইসব। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই র্যাপিডো চালক (Rapido Driver) নিজের জীবনের কথা বলতে শুরু করেন। আর তা শুনেই স্তম্ভিত হয়ে যান তিনি।
ওই যুবকের পোস্ট অনুযায়ী, অ্যামিটি থেকে হোটেল ম্যানেজমেন্ট (Hotel Management) পড়েছিলেন ব়্যাপিডো রাইডার। বাবা ছিলেন সেনাবাহিনীতে। পরিবারে ছিল একাধিক সফল ব্যবসা। কোভিডের (Covid) আগে জীবন ছিল স্বচ্ছল, আনন্দে ভরা। কিন্তু অতিমারি সব কিছু ওলটপালট করে দেয়। লকডাউনের (Lockdown) জেরে ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়াও পরিবারকে প্রায় ১৩–১৪ কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।
সেখান থেকেই শুরু হয় পতন। তবুও ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন ওই ব়্যাপিডো রাইডার। বন্ধুর সঙ্গে একটি স্টার্টআপ শুরু করেন। যদিও সেটিও ব্যর্থ হয়। আরও প্রায় চার লক্ষ টাকা লোকসান হয়। ধীরে ধীরে নিঃশেষ হয়ে যায় সব সঞ্চয়।
শেষ পর্যন্ত হাতে থাকে শুধু একটি বাইক। আর সেই বাইকই হয়ে ওঠে বেঁচে থাকার একমাত্র ভরসা। শেষমেশ র্যাপিডো চালানো শুরু করেন তিনি।
পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে, চালক বলেছিলেন - আর কিছুই নেই। এই বাইকটাই আমার সব। কিন্তু আমি হার মানছি না। আমি এখনও ঈশ্বরে বিশ্বাস রাখি।
Life is so unfair, man.
I was on a Rapido bike today, just a normal ride. The driver asked me where I live, which college I go to. Casual stuff.
Then out of nowhere, he started telling me his story. He said he did hotel management from Amity. Life was good back then when his…— Chiraag (@0xChiraag) December 22, 2025
এই কথাই যেন সবচেয়ে বেশি নাড়া দিয়েছে নেটিজেনদের। পোস্টটি ভাইরাল হওয়ার পর বহু মানুষ মন্তব্য করেছেন, কোভিড কীভাবে এক রাতের মধ্যে মানুষের জীবন বদলে দিয়েছে, তার এক বাস্তব উদাহরণ এই গল্প।
একজন লিখেছেন, “এত বড় ব্যবসা গড়ে তুলতে পারলে আবার ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব।” আরেকজনের মন্তব্য, “কেউ এখনও কোভিডের ক্ষতি সামলাচ্ছে, কেউ কোনওদিনই আর পারবে না।” অনেকে লিখেছেন, মানুষের বর্তমান পেশা দেখে তাঁকে বিচার করার প্রবণতাকে এই গল্প প্রশ্নের মুখে ফেলে দেয়।