‘রিসিপ্রোকাল ট্যারিফ’ নিয়ে মোদী চুপচাপ মাথা নোয়াবেন—এই ভবিষ্যদ্বাণী করলেন রাহুল গান্ধী। পীযূষ গোয়েল জানালেন, দেশের স্বার্থে কোনও চাপ মেনে নেবে না ভারত।

নরেন্দ্র মোদী, ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাহুল গান্ধী
শেষ আপডেট: 5 July 2025 11:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ‘রিসিপ্রোকাল ট্যারিফ’-এর (Donald Trump Tariff policy) সময়সীমা শেষ হতে আর মাত্র তিন দিন বাকি। এরই মধ্যে আমেরিকার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে সরগরম রাজনীতির উঠোন। এহেন পরিস্থিতিতে কংগ্রেস সাংসদ ও লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী দাবি করলেন, “দেখে নিন, মোদি ওই শুল্কের সময়সীমার আগেই চুপচাপ মাথা নত করবেন।”
এই মন্তব্যের জবাবে কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল জানিয়েছেন, দেশের স্বার্থ সুরক্ষিত না হলে কোনও বাণিজ্য চুক্তিতে সই করবে না ভারত। তাঁর কথায়, “চুক্তি হওয়া উচিত উভয়পক্ষের স্বার্থ রক্ষা করে। চাপে পড়ে নয়।”
রাহুল গান্ধীর কটাক্ষ-টুইট ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। তিনি লিখেছেন, “পীযূষ গোয়েল যতই বুক ঠুকে বলুন না কেন, মোদী ট্রাম্পের শুল্কের সময়সীমার কাছে মাথা নিচু করতেই বাধ্য হবেন।”
চুক্তি আটকে কোথায়?
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভারতকে বহুদিন ধরেই আখ্যা দিচ্ছেন ‘ট্যারিফ কিং’ (Tariff King) হিসেবে। চলতি বছরের ২ এপ্রিল তিনি ঘোষণা করেন, ‘লিবারেশন ডে ট্যারিফ’-এর আওতায় ভারতীয় পণ্যের উপর ২৬ শতাংশ শুল্ক বসবে। আপাতত ৯০ দিনের জন্য সেই সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়েছে। কিন্তু ৯ জুলাইয়ের মধ্যে কোনও চুক্তি না হলে ফের কার্যকর হবে ওই শুল্ক।
ভারতের তরফে আপাতত যেসব বিষয়ে আপত্তি রয়েছে, তার মধ্যে প্রধান হলো কৃষিজ পণ্যে শুল্ক ছাড়। মার্কিন মাছে, ভুট্টা, সয়াবিন ইত্যাদির আমদানিতে ছাড় দিতে নারাজ ভারত। সেই সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, ভারত যেন আমেরিকান দুগ্ধ শিল্পের জন্য বাজার আরও উন্মুক্ত করে। কিন্তু ভারতে ৮ কোটিরও বেশি মানুষ যেহেতু এই ক্ষেত্রে কাজ করেন, সেই কারণে ভারত সরকার কোনও ছাড় দিতে নারাজ।
অন্যদিকে ভারত চাইছে, রফতানির ক্ষেত্রে মার্কিন বাজারে আরও প্রবেশাধিকার—বিশেষ করে বস্ত্র, রত্ন ও গহনা, চামড়া এবং রাসায়নিক পণ্যে।
এই টানাপোড়েন মেটাতে ভারতীয় আলোচনাকারী দল, বিশেষ সচিব রাজেশ আগরওয়ালের নেতৃত্বে, আমেরিকায় তাঁদের সময়সীমা বাড়িয়েছেন বলেও সূত্রের খবর।
গোয়েলের স্পষ্ট বার্তা
একটি বাণিজ্য সম্মেলনে পীযূষ গোয়েল বলেন, “ভারত কখনও সময়সীমা দেখে চুক্তি করে না। চুক্তি হতে হবে দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার ভিত্তিতে, দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন না করেই। কৃষি ও দুগ্ধ শিল্প আমাদের মেরুদণ্ড। এই খাতে কোনও চাপ মেনে নেবে না ভারত।”
ট্রাম্পের ঘোষিত শুল্ক আবার কার্যকর হলে ভারতের রফতানি খাতে বড় ধাক্কা লাগতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাময়িকভাবে কিছু ছাড় দিয়ে হলেও একটি অন্তর্বর্তী চুক্তির দিকে এগোতে পারে ভারত। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত কতটা দেশের স্বার্থে, নাকি রাজনৈতিক চাপের ফলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে অনেকেই মনে করছেন রাহুল ভুল বলছে না। বরং তা ভবিষ্যতের এক সম্ভাব্য বাস্তবতার দিকেই ইঙ্গিত করছে।