রাজনীতির মাঠে রাহুল এর আগেও এমন ‘অপ্রত্যাশিত স্নেহপ্রদর্শন’-এর সাক্ষী থেকেছেন। সেই বছরই ফেব্রুয়ারিতে গুজরাতের এক নির্বাচনী সমাবেশে এক মহিলা সমর্থকও তাঁর গালে চুমু খেয়েছিলেন।

গ্রাফিক্স: দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 24 August 2025 19:07
বিহারের পূর্ণিয়ায় ‘ভোটার অধিকার যাত্রা’র (Voter Aadhikar Yatra) মাঝে বাইক র্যালির সময় এক যুবক আচমকাই কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর (Rahul Gandhi Kiss) বাইক থামিয়ে তাঁর গালে চুমু খেয়ে (Rahul Gandhi) বসেন। কংগ্রেস কর্মী ও নিরাপত্তারক্ষীরা তৎক্ষণাৎ ওই যুবককে ধরে সরিয়ে দেন। এমনকি ভিড়ের মধ্যেই তাঁকে সপাটে চড় মারেন কয়েকজন। এই আকস্মিক ঘটনায় যখন নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, তখন হঠাৎ মনে পড়ে যেতে পারে ওয়েনাড়ের ঘটনা। যার প্রেক্ষাপট জানতে ফিরে তাকাতে হবে ২০১৯ সালের দিকে।
সেই বার কেরলের বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে এক অপ্রত্যাশিত ঘটনার মুখোমুখি হন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। দুর্গত মানুষের সঙ্গে দেখা করে ফিরছিলেন তিনি। সেই সময় সমর্থকদের ভিড়ের মধ্যে হঠাৎ এক ব্যক্তি গাড়ির জানলা দিয়ে ঝুঁকে পড়ে রাহুলের গালে একটি চুমু (Kiss) খেয়ে বসেন।
ভোটার অধিকার যাত্রার মিছিলে রাহুল গান্ধীর গালে চুমু খেলেন যুবক #rahulgandhi #biharelection #kissing #electioncampaign pic.twitter.com/b2mwgFgfuK
— The Wall (@TheWallTweets) August 24, 2025
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ঘুরে ঘুরে পরিদর্শন শেষে নিজের গাড়িতে উঠেছিলেন রাহুল। সামনে মিডিয়ার ভিড়, চারপাশে দুর্গত মানুষের হাহাকার। কেউ করমর্দন করছেন, কেউবা এক ঝলক দেখা পাওয়ার চেষ্টা করছেন। ঠিক সেই ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা এক যুবক এগিয়ে এসে রাহুলের হাত ধরেন। তারপর আচমকাই গাড়ির ভেতরে ঝুঁকে তাঁকে টেনে নিয়ে গালে হামি খান।
রাহুল অবশ্য পুরো ঘটনায় বিচলিত হননি। হেসে হেসে সমর্থকদের সঙ্গে করমর্দন চালিয়ে যান। গাড়িও এগিয়ে যায় নির্ধারিত পথে।
রাজনীতির মাঠে রাহুল এর আগেও এমন ‘অপ্রত্যাশিত স্নেহপ্রদর্শন’-এর সাক্ষী থেকেছেন। সেই বছরই ফেব্রুয়ারিতে গুজরাতের এক নির্বাচনী সমাবেশে এক মহিলা সমর্থকও তাঁর গালে চুমু খেয়েছিলেন। আরও আগে, ২০১৭ সালে ভরুচে এক সভায় সেলফির জন্য রাহুলের গাড়ির ছাদে উঠে পড়েছিলেন এক কিশোরী।
রাজনৈতিক আক্রমণ, বিতর্ক, সমালোচনা— সব মিলিয়ে প্রায়শই আলোচনার কেন্দ্রে থাকেন রাহুল গান্ধী। কিন্তু বারবারই এ ধরনের ঘটনায় ধরা পড়ে তাঁর জনপ্রিয়তার অন্য ছবি, যেখানে সমর্থকের আবেগ গিয়ে পৌঁছয় সোজা নেতার গালে।
দশ বছরের বেশি ধরে ক্ষমতায় থাকা বিজেপি ও ডানপন্থী শিবিরের আক্রমণের প্রথম সারিতে ছিলেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। কখনও তাঁকে ‘পাপ্পু’ বলে ঠাট্টা করা হয়েছে, কখনও তাঁর রাজনৈতিক দক্ষতা নিয়ে উপহাস হয়েছে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই ইমেজ বদলেছে। আজ রাহুলকে অনেকেই নরেন্দ্র মোদীর বিকল্প মুখ হিসেবে দেখতে শুরু করেছেন।
যদিও এখনও প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে রাহুলের নাম তোলাটা হয়তো অকালপক্বতা, তবু সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনায় স্পষ্ট— তাঁকে আর সহজে হেয় করা যাচ্ছে না। সোশ্যাল মিডিয়ায় যাঁরা একসময় রাহুলকে নিয়ে ব্যঙ্গ করতেন, তাঁরাও ধীরে ধীরে তাঁকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন।
শুধু চাঁচাছোলা জবাব নয়, ব্যক্তিগত আক্রমণ সত্ত্বেও যেভাবে তিনি প্রতিপক্ষকে পাল্টা দিতে শুরু করেছেন, সেটাই তাঁকে অনেকের থেকে আলাদা করেছে। তাঁর সভা, জনসংযোগ, গ্রামীণ মানুষের সঙ্গে হেঁটে চলা— সবই যেন বুঝিয়ে দেয় কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে হলেও কার্যত রাহুলই এখন দলের মুখ। আর তাঁর প্রতি কর্মী-সমর্থকদের হইচই, মাঝে মধ্যেই চুমু এঁকে দেওয়া তো তারই প্রমাণ। রাহুলের কাছে এমন চুম্বন তো আগেও বহুবার, প্রশ্ন হচ্ছে, এবার ভোটে মিলবে কি আশ্রয়? উত্তর তোলা থাকছে ভবিষ্যতের কাছে।