অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল অভিষেক মরশুমেই দারুণ ফুটবল খেলে নজর কেড়েছে। সরাসরি ফাইনালে উঠে যাওয়ার স্বপ্নপূরণ করেছে।

ছবি- দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 20 August 2025 23:42
শুধু টাকা ঢাললে তো হবে না। বুদ্ধি করে দলটা তৈরি করতে হবে। নীতুদাকে (ইস্টবেঙ্গল কর্তা দেবব্রত সরকার) পইপই করে বলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। শুনিয়েছিলেন, “আপনারা যে কেন দলটা ভাল করে করছেন না!” তুলনা টেনেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) সদ্যোজাত ক্লাব ডায়মন্ড হারবার এফসি-র (Diamond Harbour FC) সঙ্গে। বলেছিলেন, “দেখে শিখুন। ওদের দেখে বুঝুন, কেমন বুদ্ধি খাটিয়ে দল গড়েছে। ইস্টবেঙ্গলের (East Bengal) কর্তারাও আগে থেকে ভাবুন, কাদের নেবেন। এক বছর ধরে পরিকল্পনা করুন। কঠোর সিদ্ধান্ত নিন। আগামী বছর যেন আর ব্যর্থতা না আসে।”
দিদির পরামর্শ শুনে সেই মতোই ডুরান্ডের দল সাজিয়েছিল লাল-হলুদ। গত ম্যাচে লবণহ্রদে (পড়ুন সল্টলেক) মোহনবাগানতরী ডুবিয়ে আত্মবিশ্বাসী ইস্টবেঙ্গল সেই নিজের তরীও তীরে এসে ডোবাল। কার কাছে? মমতার তুলনা টানা সেই ডায়মন্ড হারবার এফসির কাছে। সেই অভিষেকের দল, ডুরান্ড কাপে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে মোহনবাগানের (Mohun Bagan)কাছে যারা পাঁচ পাঁচখানা গোল খেয়েছিল। শুধু বিদেশিরা নয়, বাগানবাহিনীর তরফে সেই ম্যাচে গোল করেন স্বদেশিরাও। যদিও পরে জামশেদপুর এফসির (Jamshedpur Jamshedpur FC) মতো দলকে তাদের মাঠে হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠে ডায়মন্ড হারবার।
বুধবার সামনে ইস্টবেঙ্গলকে পেয়ে গুটিয়ে থাকেনি প্রথমবার ডুরান্ডের (Durand Cup) শেষ চারে ওঠা ডায়মন্ড হারবার। ডার্বি জয় অনেক সময় ফুটবলারদের মধ্যে গাছাড়া ভাব তৈরি করে। আজকের ম্যাচে সেই ভুলটা করেনি লাল-হলুদ বাহিনী। কিন্তু গোলের সামনে রক্ষণের ব্যর্থতাই লাল-হলুদদের মশাল নেভাল।
৮৩ মিনিটে জটলার সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রাক্তন ইস্টবেঙ্গল স্ট্রাইকার জবি জাস্টিন জয়সূচক গোল করে দেন ডায়মন্ড হারবারকে। আর সেই গোলই ডুরান্ড কাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত করে দেয় অস্কার ব্রুজোর দলের। ডুরান্ড কাপের সেমিফাইনালে ইস্টবেঙ্গলকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নেয় ডায়মন্ড হারবার।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল অভিষেক মরশুমেই দারুণ ফুটবল খেলে নজর কেড়েছে। সরাসরি ফাইনালে উঠে যাওয়ার স্বপ্নপূরণ করেছে। শনিবার শিরোপার লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ নর্থইস্ট ইউনাইটেড।
ওদিকে, দিনের শেষে বুঝি এখনও লাল-হলুদ কর্তাদের কানে বাজছে, দিদির বলা কথাগুলো, “দেখে শিখুন। ওদের দেখে বুঝুন, কেমন বুদ্ধি খাটিয়ে দল গড়েছে। এক বছর ধরে পরিকল্পনা করুন। কঠোর সিদ্ধান্ত নিন। আগামী বছর যেন আর ব্যর্থতা না আসে।”