লাল হলুদ বাহিনীকে হারিয়ে ডুরান্ড (Durand Cup) ফাইনালে উঠে সকলকে চমকে দিল ডায়মন্ডহারবার এফসি (East Bengal vs Diamond Harbour)। সেই সঙ্গে এই ক্লাব গড়ল ইতিহাসও। এর আগে কোনও ক্লাবই ডুরান্ড অভিষেকে ফাইনালে উঠতে পারেনি।

ছবি - দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 20 August 2025 21:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ডার্বি জেতার আত্মতুষ্টি, নাকি দুরন্ত খেলল প্রতিপক্ষ, ডুরান্ডের দ্বিতীয় সেমিফাইনাল শেষে এই প্রশ্নই ভাবাচ্ছে ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের। লাল হলুদ বাহিনীকে হারিয়ে ডুরান্ড (Durand Cup) ফাইনালে উঠে সকলকে চমকে দিল ডায়মন্ডহারবার এফসি (East Bengal vs Diamond Harbour)। সেই সঙ্গে এই ক্লাব গড়ল ইতিহাসও। এর আগে কোনও ক্লাবই ডুরান্ড অভিষেকে ফাইনালে উঠতে পারেনি।
ইস্টবেঙ্গলের কোচ অস্কার ব্রুজো সেমিফাইনালে নামার আগে প্রতিপক্ষ ডায়মন্ড হারবারকে সমীহ করার কথা জানিয়েছিলেন। একই কথা শোনা গিয়েছিল ডায়মন্ড হারবার কোচ কিবু ভিকুনার মুখেও। কিন্তু ইস্টবেঙ্গলকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ হাসি হাসল ডায়মন্ড হারবার।
প্রথমার্ধে একতরফা আক্রমণ করেও গোলের দেখা পেল না ইস্টবেঙ্গল। দ্বিতীয়ার্ধে পিছিয়ে পড়ার পরের মুহূর্তেই গোল পেয়ে যান আনোয়ার আলি। কিন্তু দ্বিতীয়বার পিছিয়ে পড়ার পর আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি লাল-হলুদ ব্রিগেড। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলে ম্যাচ জিতে ইস্টবেঙ্গলকে বিদায় জানিয়ে ডুরান্ড কাপের ফাইনালে পা রাখলেন কিবু ভিকুনার শিষ্যরা।
কোয়ার্টার ফাইনালে মোহনবাগানের বিরুদ্ধে জোড়া গোলদাতা দিমিত্রিয়স দিয়ামান্তাকোস এদিন শুরু থেকেই খেললেন৷ প্রথমার্ধে তৈরি হল প্রচুর সুযোগ৷ তবু ডায়মন্ড হারবারের বিরুদ্ধে ডুরান্ড সেমিফাইনালের প্রথমার্ধে গোলের দেখা পায়নি ইস্টবেঙ্গল৷
ডার্বিতে চোট পেয়ে উঠে যাওয়া হামিদ আহাদাদের পরিবর্তে দিয়ামান্তাকোস৷ একটি পরিবর্তন নিয়েই এদিন শেষ চারের প্রথম একাদশ সাজান অস্কার ব্রুজো৷ নাওরেম মহেশ, বিপিন সিং, মিগুয়েল ফিগেরার মধ্যে তালমিল পরিলক্ষিত হচ্ছিল শুরু থেকেই৷ ফলত আক্রমণে ঝাঁঝও অনেক বেশি ছিল লাল-হলুদের৷ বিপিন সিংয়ের সৌজন্যে মূলত বামপ্রান্তিক আক্রমণই তুলে আনছিল তাঁরা৷ পাশাপাশি মিডল-থার্ড বরাবর মিগুয়েলের নড়াচড়া সমস্যায় ফেলছিল ডায়মন্ড হারবার রক্ষণকে৷
অন্যদিকে, প্রতি-আক্রমণে গোলের মুখ প্রায় খুলে ফেলেছিল ডায়মন্ড হারবার৷ বক্সের মধ্যে জবি জাস্টিনের কাটব্যাক থেকে স্যামুয়েল লালমুয়ানপুইয়ার শট ক্রসবারে প্রতিহত হয়৷ প্রথমার্ধের শেষ দিকে নাওরেম মহেশের বাঁ-পায়ের গোলার মতো শটও পোস্ট কাঁপিয়ে ফেরত আসে৷
দ্বিতীয়ার্ধের ৬৬ মিনিটে ডেডলক ভাঙেন স্প্যানিশ ডিফেন্ডার কোর্তাজার। বাইসাইকেল কিকে দারুণ গোল করে দলকে এগিয়ে দেন তিনি। কিন্তু পরের মিনিটে গোল হজম করে কিবুর দল। গোলদাতা আনোয়ার। অবশেষে ম্যাচের ৮৩ মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ইস্টবেঙ্গলের প্রাক্তন তারকা জবি জাস্টিনের গোলে ফের এগিয়ে যায় ডায়মন্ড হারবার। বাকি সময় ইস্টবেঙ্গল আক্রমণের পসার সাজিয়ে বসলেও, এই গোল আর শোধ করতে পারেনি তারা। ফাইনালে কিবু ভিকুনার ছাত্রদের প্রতিপক্ষ নর্থ-ইস্ট ইউনাইটেড।