হাস্যকর। কাল যাঁরা খেলেছেন, তাঁরা কি মোহনবাগানের ফুটবলার ছিলেন না? সুপার জায়ান্টের জন্ম কোথা থেকে হল? সুপার জায়ান্ট আর মোহনবাগান কি এক নয়!

কুমারেশ ভাওয়াল
শেষ আপডেট: 18 August 2025 17:36
রবিবাসরীয় ডার্বির রঙ ছিল লাল-হলুদ। মোহনবাগানকে ২-১ গোলে হারিয়ে ডুরান্ড কাপের সেমিফাইনালে উঠে গিয়েছে ইস্টবেঙ্গল (East Bengal vs Mohunbagan)। দু’টি গোলই করেছেন মশাল ব্রিগেডের গ্রীক তারকা দিমিয়ান্তাকোস। গতকালের ডার্বিতে প্রতিটি ক্ষেত্রেই মেরিনার্সকে টেক্কা দিয়ে ম্যাচ জিতে নিয়েছে অস্কার ব্রুজোঁর ছাত্ররা।
এদিকে ম্যাচের পরই ইস্টবেঙ্গলের জয়কে কটাক্ষ করে বাগান সভাপতি দেবাশিস দত্ত বলেছেন, “মোহনবাগান হারেনি, হেরেছে সুপার জায়ান্ট।” তাঁর এই বক্তব্যের পরই ময়দানে ঝড় উঠে গিয়েছে। ইস্টবেঙ্গলের শীর্ষ কর্তা দেবব্রত (নীতু) সরকার যেমন দেবাশিসকে একহাত নিয়েছেন, তেমনই প্রাক্তন ফুটবলাররাও গোষ্ঠ পাল সরণির ক্লাবের সভাপতির এই বক্তব্য মেনে নিতে পারছেন না।
জাতীয় দলের প্রাক্তন ফুটবলার কুমারেশ ভাওয়াল (Kumaresh Bhowal) বাগান সভাপতির বক্তব্যকে বলেছেন, “হাস্যকর। কাল যাঁরা খেলেছেন, তাঁরা কি মোহনবাগানের ফুটবলার ছিলেন না? সুপার জায়ান্টের জন্ম কোথা থেকে হল? সুপার জায়ান্ট আর মোহনবাগান কি এক নয়!”
দুই প্রধানেই একসময় দাপিয়ে খেলেছেন কুমারেশ। প্রতিবাদী মুখ হিসাবে তাঁর আলাদা পরিচিতি রয়েছে। বরাবরই সাদাকে সাদা, কালোকে কালো বলে এসেছেন তিনি। কুমরাশে ভাওয়াল বলেছেন, এখনকার ক্লাব কর্তারা নানা সময় নানা আলটপকা মন্তব্য করে নিজেদের হাস্যকর পর্যায়ে নামিয়ে এনেছেন। এই বিষয়ে দুই ক্লাবের কর্তারা একে অপরকে টেক্কা দিতে পারেন। এতে ওনাদের আত্মসম্মান তো বটেই, ক্লাবেরও মান-সম্মান চলে হচ্ছে।
বাংলার এই প্রাক্তন ফুটবলার বলেন, “আমাদের সময় ধীরেন দে, পল্টু দাসদের খুব কাছ থেকে দেখেছি। তাঁরা জানতেন কী ভাবে ক্লাব চালাতে হয়, কী কথা বলতে হয়। আর এখনকার কর্তারা আবেগের বশে নিজেদের দলকে মৌখিকভাবে এগিয়ে রাখতে এমন কিছু বলে ফেলছেন, যা তাঁদের দলেরই ক্ষতি করছে।”
রবিবারের ম্যাচ নিয়ে দ্য ওয়াল-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কুমারেশ ভাওয়াল বলেছেন, “যোগ্য দল হিসাবেই জিতেছে ইস্টবেঙ্গল। প্রতিটি পজিশনে ওরা মোহনবাগানের থেকে এগিয়েছিল। ৫০-৫০ বলের ক্ষেত্রে ইস্টবেঙ্গলের ফুটবলাররা সর্বস্ব দিয়ে ঝাঁপিয়েছে। ফিটনেসের দিক থেকে অনেকটাই পিছিয়ে ছিল মোহনবাগান। আর সেটাই পার্থক্য গড়ে দিয়েছে। তবে মোহনবাগান কিন্তু ভাল দল। দলের ফুটবলাররা একসঙ্গে বেশ কয়েক বছর ধরে খেলছে। একটু সময় দিলে ফুটবলাররা ফিট হয়ে উঠলে কিন্তু ভয়ঙ্কর হয়ে উঠবে।”
ইস্টবেঙ্গলের প্রশংসা করে কুমারেশ বলেছেন, “এবারের দল অনেক গোছানো। জুনিয়র দলের বেশ কিছু ফুটবলার সিনিয়রদের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছে। বেশ কিছু তরুণ প্রতিভাকে দেখতে পাচ্ছি, যারা আগামীতে ইস্টবেঙ্গলকে সাফল্য এনে দেবে। এবারের বিদেশিদের মানও আগের থেকে ভাল। রবিবার যোগ্য দল হিসাবেই জিতেছে ইস্টবেঙ্গল।”
ডার্বিতে মোহনবাগানের পারফরম্যান্স নিয়েও নিজের মতামত জানিয়েছেন ভাওয়াল। বললেন, “আশিস রাই পুরোপুরি ফিট থাকলে পেনাল্টিটা হয় না। ওর ফিটনেস কম ছিল বলেই বিপিন সিংকে আটকাতে পারেনি। তাই পিছন থেকে ট্যাকেল করে। দ্বিতীয় গোলের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে। টম অলড্রেড ফিট ছিল না বলেই দিমিয়ান্তাকোস ওকে আড়াল করে গোলটা দিতে পেরেছে।”