বাংলার রাজনৈতিক পরিসরে একাংশ বাঙালির মনে বিজেপি (BJP News) সম্পর্কে যে নেতিবাচক, উগ্র হিন্দুত্ববাদী ও বাঙালি-বিরোধী ভাবমূর্তি গড়ে উঠেছে, তা ভাঙার চেষ্টায় নেমেছে বিজেপি।

গ্রাফিক্স: দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 29 July 2025 10:37
দুর্গাপুরে (Durgapur) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) সভা ঘিরে সকাল থেকেই সাজো সাজো রব। সুকান্ত মজুমদাররা স্থানীয়দের সভায় উপস্থিত থাকার জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। এই অবধি সব ঠিকই ছিল, কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ ব্যাপার হল সভার আমন্ত্রণ পত্রে বিজেপির চিরাচারিত ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান ছিল না। বদলে ‘ভারত মাতা কি জয়’-এর নীচে লেখা হয়েছিল ‘জয় মা দুর্গা, জয় মা কালী’ স্লোগান। তখন থেকেই খানিকটা আন্দাজ করা গিয়েছিল, বঙ্গ বিজেপি পুরোপুরি শুক্রবারের সভায় বঙ্গীয়করণের চেষ্টায় রয়েছে। সেই বিষয়টা আরও স্পষ্ট হল যখন খান ছয়েক দুর্গা উপহার পেলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
শমীক ভট্টাচার্য সভাপতি হওয়ার পরই এহেন পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল। ‘অবাঙালি’র দল তকমা ঝেড়ে ফেলতে মরিয়া শমীক নিজের অভিষেক মঞ্চেই বড় করে মা কালীর ছবি সাঁটিয়ে দিয়েছিলেন। আজ যখন ঠিক ৫০ দিন পর দুর্গাপুরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভাষণ শুরু করলেন, তখনও জয় শ্রী রামের কোনও উচ্চবাচ্যই শোনা গেল না। বরং বেছে নিলেন 'জয় মা কালী', 'জয় মা দুর্গা' স্লোগান।
বাংলার রাজনৈতিক পরিসরে একাংশ বাঙালির মনে বিজেপি (BJP News) সম্পর্কে যে নেতিবাচক, উগ্র হিন্দুত্ববাদী ও বাঙালি-বিরোধী ভাবমূর্তি গড়ে উঠেছে, তা ভাঙার চেষ্টায় নেমেছে বিজেপি। রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব পেয়েই শমীকেরও প্রচেষ্টা দলের সামগ্রিক ভাবমূর্তির সংস্কার ঘটানো।
রাজ্যের একাংশ মনে করেন, বিজেপির বিভিন্ন নেতৃত্ব বিশেষ করে দিলীপ ঘোষ বা শুভেন্দু অধিকারীদের প্রকাশ্যে আক্রমণাত্মক ভাষণ ওই নেতিবাচক ছাপকে আরও গভীর করেছে। ফলে রামনবমী উদ্যাপন বা সভা-সমাবেশে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান যতই উঠুক না কেন, অনেক বাঙালি নিজেদের তার সঙ্গে একাত্ম করতে পারছেন না। বিগত নির্বাচনের ফলাফলও সেই মনোভাবের প্রতিফলন ঘটিয়েছে।
ছাব্বিশেই বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে। রামনামে আর যা-ই হোক, তৃণমূল তাড়ানো মুশকিল বুঝেই দলকে বাঙালি সংস্কৃতি এবং ধর্মাচরণের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করছে পদ্মশিবির। সেকারণেই শুক্রবার মোদীর সভার আমন্ত্রণ পত্র থেকে শুরু করে উপহার, ভাষণ, সবটাই দুর্গা-কালীর নামে।