শুক্রবার দুর্গাপুরে যে জনসভা হল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর, তা প্রায় সবটাই ভোটের দিকে তাকিয়ে।

শেষ আপডেট: 18 July 2025 15:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সময়ে নির্বাচন হলে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোট হতে আরও ৮ মাস বাকি। অথচ বলতে গেলে এখন থেকেই ‘ইলেকশন মোডে’ ঢুকে পড়েছে বিজেপি। শুক্রবার দুর্গাপুরে যে জনসভা হল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi – Durgapur Rally), তা প্রায় সবটাই ভোটের দিকে তাকিয়ে।
কৌতূহলের বিষয় হল, প্রধানমন্ত্রীর সভার জন্য যে দুর্গাপুরকে বেছে নিল বিজেপি, চব্বিশের ভোটে সেখানে কেমন ফলাফল করেছিল বিজেপি? বর্ধমান-দুর্গাপুর লোকসভার মধ্যে ৭টি বিধানসভা আসন রয়েছে, সেখানে বিধানসভা ধরে ধরে কেমন ফল করেছিল গেরুয়া দল?
অনেকেরই জানা যে, বর্ধমান-দুর্গাপুর লোকসভা আসনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী কীর্তি আজাদের কাছে বিপুল ব্যবধানে হেরেছিলেন দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। পরাজয়ের ব্যবধান ছিল ১ লক্ষ ৩৭ হাজার ভোট। শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর সভায় যোগ দিতে দিলীপ যাননি। দিল্লির উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে বলেছেন, দল তাঁকে ডাকেনি, তাই তিনি যাননি। যা শুনে অনেকে সন্দেহ করছেন, দুর্গাপুরে মোদীর সভার দিনে চব্বিশের ভোটের সেখানে দিলীপের হেরে যাওয়ার স্মৃতি হয়তো ফের তাজা করতে চায়নি বিজেপি।
সে যাক। প্রশ্ন হল, চব্বিশের ভোটে বিধানসভাওয়াড়ি কেমন ফল করেছিল বিজেপি?
বর্ধমান-দুর্গাপুর লোকসভার মধ্যে ৭টি বিধানসভা আসন রয়েছে। সেগুলি হল—বর্ধমান দক্ষিণ, মন্তেশ্বর, বর্ধমান উত্তর, ভাতার, গলসী, দুর্গাপুর পূর্ব এবং দুর্গাপুর পশ্চিম। ২০২১ সালে বিধানসভা ভোটের সময়েও এই দুর্গাপুরে সভা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু তার ফল বিশেষ মেলেনি। দুর্গাপুর পশ্চিম বাদ দিয়ে বাকি ৬টি আসনেই বড় ব্যবধানে হেরেছিল বিজেপি। একমাত্র দুর্গাপুর পশ্চিম আসনে জিতেছিলেন বিজেপি প্রার্থী লক্ষ্ণণ চন্দ্র ঘোরুই।
চব্বিশের লোকসভা ভোটে বর্ধমান দক্ষিণ আসনে কীর্তি আজাদের থেকে দিলীপ ঘোষ পিছিয়ে ছিলেন ৭ হাজার ভোটে। মন্তেশ্বরে দিলীপ ঘোষ পিছিয়ে ছিলেন ৪৬ হাজার ভোটে। বর্ধমান উত্তরে ৪১ হাজার ভোটে পিছিয়ে ছিলেন দিলীপ। ভাতারে ৩২ হাজার ও গলসীতে ২১ হাজার ভোটে তৃণমূলের থেকে বিজেপি পিছিয়ে ছিল। দুর্গাপুর পূর্ব আসনটিতেও দিলীপ ঘোষ ১১ হাজার ভোটে পিছিয়ে ছিলেন। একমাত্র দুর্গাপুর পশ্চিম আসনে দিলীপ এগিয়ে ছিলেন টেনেটুনে ২ হাজার ভোটে।
তাৎপর্যপূর্ণ হল, দুর্গাপুর পশ্চিম আসনে ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে প্রায় ১৫ হাজার ভোটে জিতেছিল বিজেপি। কিন্তু লোকসভা ভোটে সেই ব্যবধান মাত্র ২ হাজারে নেমে আসে।
চুম্বকে পরিসংখ্যান বলছে, শুক্রবার যে দুর্গাপুরে প্রধানমন্ত্রী সভা করতে চলেছেন, সেখানে বিজেপির নির্বাচনী সাফল্য বিশেষ নেই। উনিশের ভোটে ওই লোকসভা আসনটি বিজেপি জিতলেও চব্বিশে ধরে রাখতে পারেনি। সে ক্ষেত্রে দিলীপ যুক্তি দেন, বর্ধমান-দুর্গাপুর আসনটি তাঁর কাছে নতুন ছিল। লোককে চিনতে তাঁকে চেনাতেই সময় চলে গেছে। কিন্তু তার পাল্টা যুক্তি রয়েছে। তৃণমূল প্রার্থী কীর্তি আজাদও তো প্রথমবার বর্ধমান-দুর্গাপুরে দাঁড়িয়েছিলেন। তা ছাড়া প্রায় পাঁচ বছর বিজেপির রাজ্য সভাপতি থাকার পর রাজ্যের কোনও আসনই তাঁর জন্য নতুন হওয়ার কথা নয়।
তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, চব্বিশের পরিস্থিতি আর বর্তমান পরিস্থিতির মধ্যে ফারাক রয়েছে। টানা পনেরো বছর ধরে ক্ষমতায় থাকার পর তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে প্রবল প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা তৈরি হয়েছে। শহরাঞ্চলে এই প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা অনেক বেশি। যেহেতু বর্ধমান-দুর্গাপুর এলাকাটির মধ্যে শহরাঞ্চল উল্লেখযোগ্য ভাবে বেশি তাই এবার ভোটে অন্যরকম ফলাফল হতেই পারে। আগে থেকে তাই কিছুই পূর্বানুমান করা ঠিক হবে না।