রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি দিলীপ ঘোষকে (Dilip Ghosh) নিয়ে বাংলার সংগঠনে যে একটা অস্বস্তি ও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে তা নতুন নয়। ব্যাপারটা যে দিল্লি পর্যন্ত গড়িয়েছে শুক্রবার সেটাই স্পষ্ট হয়ে গেল।

শেষ আপডেট: 18 July 2025 13:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি দিলীপ ঘোষকে (Dilip Ghosh) নিয়ে বাংলার সংগঠনে যে একটা অস্বস্তি ও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে তা নতুন নয়। ব্যাপারটা যে দিল্লি পর্যন্ত গড়িয়েছে শুক্রবার সেটাই স্পষ্ট হয়ে গেল।
শুক্রবার দুর্গাপুরে সরকারি অনুষ্ঠান ও জনসভা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। ঠিক সেই প্রহরেই দিলীপ ঘোষকে ডেকে পাঠানো হয়েছে দিল্লিতে। এদিন সকালের বিমানে দিল্লিতে পৌঁছেছেন দিলীপ।
এদিন বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে একটু ফ্রেশ হয়ে দুপুর পৌনে একটা নাগাদ দলের সর্বভারতীয় সভাপতি জগৎপ্রকাশ নাড্ডার (JP Nadda) বাসভবনে পৌঁছন দিলীপ। তাঁর পরনে ছিল গোলাপি রঙের হাফ স্লিভ কুর্তা। তবে ৭ নম্বর মতি লাল নেহরু মার্গের বাংলোর মধ্যে তাঁর গাড়ি ঢুকে পাঁচ মিনিটের মধ্যেই বেরিয়ে আসে। কারণ, নাড্ডা তখন বাড়িতে ছিলেন না।
বেরিয়ে এসে দিলীপ ঘোষ বলেন, উনি বাড়িতে নেই। বিকেলে আসতে বলেছেন।
এখন কৌতূহলের বিষয় হল, জেপি নাড্ডা কী দিতে পারেন দিলীপ ঘোষকে? লোকসভা ভোটে বর্ধমান-দুর্গাপুর আসনে পরাস্ত হয়েছেন দিলীপ ঘোষ। তার পর থেকেই দলের মধ্যে প্রাসঙ্গিকতা খুঁজছেন তিনি। অথচ সংগঠনে কোনও অর্থবহ জায়গা পাচ্ছেন না। তার পর থেকেই দিলীপের মধ্যে চরম অস্থিরতা দেখতে পাচ্ছেন রাজ্য নেতাদেরই অনেকে। কারও কারও মতে, তা আরএসএস থেকে উঠে আসা কোনও নেতার মধ্যে থাকার কথা নয়। বরং অনেক স্থিতধিই থাকার কথা।
বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সূত্রে বলা হচ্ছে, আপাতত দিলীপকে হয়তো কিছুই দেওয়া হবে না। অর্থাৎ কোনও পদ দেওয়া হবে না। জেপি নাড্ডার তা দেওয়ার কোনও ক্ষমতাও নেই। কারণ, তাঁর পদই এখন নড়বড়ে। সর্বভারতীয় বিজেপি পদে নতুন মুখ তুলে না আনা পর্যন্ত তিনি একপ্রকার এখন অস্থায়ী ভাবে কাজ চালাচ্ছেন। নতুন সভাপতি এসে সংগঠন ঢেলে সাজবেন।
ফলে দিলীপকে আপাতত শান্ত থাকার পরামর্শই দেওয়া হতে পারে। পরবর্তী কালে সর্বভারতীয় সংগঠনে রদবদল হলে তাঁকে সেখানে কোনও পদ দেওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।
দীর্ঘদিন সঙ্ঘের প্রচারক হিসাবে কাজ করেছেন দিলীপ ঘোষ। তাৎপর্যপূর্ণ হল, বর্তমানে আরএসএস ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সর্বভারতীয় বিজেপির নতুন সভাপতি নির্বাচন থেকে শুরু করে রাজ্যওয়াড়ি সংগঠন সাজানোতেও সঙ্ঘের ভূমিকা দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে সঙ্ঘের ভূমিকা না থাকলে রাজনৈতিক ভাবে প্রায় ফসিল হয়ে যাওয়া রাজ্য বিজেপি নেতা অসীম ঘোষকে রাজ্যপাল পদে নিয়োগ করাও কল্পনাও করা যেত না।
এহেন পরিস্থিতিতে সঙ্ঘের হস্তক্ষেপে দিলীপের কোনও পুনর্বাসনের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে সেখানেও সমস্যা একটাই সাম্প্রতিক কালে দিলীপের কাজকর্মে সঙ্ঘের নেতারাও খুশি নয়। তাই সবমিলিয়ে দিলীপকে এখন হয়তো মুখে লাগাম টানার কথা বলা হতে পারে। তার পর সময় গড়ালে তাঁর আচরণ ও ভূমিকা বুঝে কোনও পদ দেওয়া হতে পারে ঘোষবাবুকে।