আম আদমি পার্টির (AAP) এই তরুণ নেতার এক মন্তব্য ঘিরে ফের উস্কে উঠেছে জল্পনা, ফিসফাস শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

রাঘব চাড্ডা
শেষ আপডেট: 9 April 2026 20:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নতুন রাজনৈতিক দল গড়তে চলেছেন কি রাঘব চাড্ডা (Raghav Chadha new party)? আম আদমি পার্টির (AAP) এই তরুণ নেতার এক মন্তব্য ঘিরে ফের উস্কে উঠেছে জল্পনা (Raghav Chadha controversy), ফিসফাস শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে (AAP internal rift with Raghav Chadha)।
সম্প্রতি এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে এক সমর্থক দাবি করেন, দেশের তরুণ প্রজন্ম চায় রাঘব চাড্ডা নিজের একটি রাজনৈতিক দল গড়ুন - সম্ভবত 'জেন জি পার্টি' (Gen-Z Party) নামে। ওই পোস্টে আরও বলা হয়, অন্য কোনও দলে যোগ দিলে চাড্ডা বর্তমান জনপ্রিয়তা হারাতে পারেন, এমনকি সমালোচনার মুখেও পড়তে পারেন। তাই নিজের দল গঠন করাই তাঁর জন্য সবচেয়ে ভাল পদক্ষেপ হতে পারে, এবং তাতে যুবসমাজ ব্যাপকভাবে তাঁর পাশে দাঁড়াবে।
এই পোস্টের উত্তরে চাড্ডা শুধু লিখেছেন, “interesting thought” অর্থাৎ, 'বেশ আকর্ষণীয় চিন্তাভাবনা'। কিন্তু এই ছোট একটি মন্তব্যই তাঁর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনা নিয়ে জল্পনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
আপের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে?
এই জল্পনার পিছনে রয়েছে আম আদমি পার্টি (Aam Aadmi Party)-র সঙ্গে চাড্ডার ক্রমবর্ধমান দূরত্ব। সম্প্রতি তাঁকে রাজ্যসভায় দলের ডেপুটি লিডারের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
রাজ্যসভায় এই রদবদলই ইঙ্গিত দিচ্ছে, দলের অন্দরে মতবিরোধ বাড়ছে। এমনকি রিপোর্ট অনুযায়ী, তাঁকে বক্তব্য রাখার সুযোগও সীমিত করার চেষ্টা হয়েছে, যা নিয়ে দলের ভিতরে গণতন্ত্র ও স্বাধীন মত প্রকাশ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
দ্বন্দ্বের কেন্দ্রবিন্দুতে কী?
চাড্ডা ও আপ নেতৃত্বের মধ্যে দ্বন্দ্ব চরমে ওঠে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে - প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাবে সই করতে নাকি অস্বীকার করেছিলেন চাড্ডা।
এই ঘটনায় দলের শীর্ষ নেতারা সরব হন। আতিশী এবং সৌরভ ভরদ্বাজ অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে গিয়ে চাড্ডা ‘ভয়ে পঙ্গু’ হয়ে পড়েছেন।
তবে চুপ থাকেননি রাঘব। সোশ্যাল মিডিয়ায় মুখ খুলে নিজের বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি এক পোস্টে পাঞ্জাব ইস্যু নিয়ে মুখ খুলে তিনি বার্তা দেন, 'এটা তো সবে ট্রেলার, পিকচার আভি বাকি হ্যায়...'। তিনি এই ইঙ্গিতের মাধ্যমে আপের সঙ্গে তাঁর মতবিরোধের বার্তা দিতে চেয়েছেন এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
বিজেপির আক্রমণ
এই পরিস্থিতিতে সুযোগ হাতছাড়া করেনি বিজেপি।
দিল্লি বিজেপি সভাপতি বীরেন্দ্র সচদেব আপের তরফ থেকে চাড্ডাকে ‘চুপ করিয়ে দেওয়ার’ চেষ্টাকে ‘অত্যন্ত আপত্তিকর’ বলে কটাক্ষ করেছেন। পাশাপাশি তিনি দাবি করেছেন, অরবিন্দ কেজরিওয়ালের রাজনৈতিক ইতিহাসে ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের ‘ব্যবহার করে ছেড়ে দেওয়ার’ প্রবণতা রয়েছে।
যদিও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে, আপাতত রাঘব চাড্ডার রাজ্যসভার আসন নিরাপদ। তাঁর মেয়াদ শেষ হবে ২০২৮ সালে।
তবে নতুন দল গঠনের সম্ভাবনা, আপের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং তরুণ ভোটব্যাঙ্ক - সব মিলিয়ে আগামী দিনে চাড্ডার রাজনৈতিক পথ কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।