গত দেড় দশকে ভারতে ভোট কুশলী হিসেবে এক নম্বর জায়গাটি দখলে রেখেছেন তিনি। স্বভাবতই কিং মেকার প্রসাদ তাঁর প্রথম নির্বাচনী লড়াইয়ে কতটা সফল হন তা নিয়ে কৌতূহল আছে।

প্রশান্ত কিশোর
শেষ আপডেট: 7 October 2025 10:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিহারে ২৪৩ আসনেই প্রার্থী দেবে তারু দল আগেই ঘোষণা করেছেন প্রশান্ত কিশোর। সোমবার নির্বাচন কমিশন বিহারে ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর প্রশান্ত জানিয়েছেন তিনি নিজেও এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। ফলে এই প্রথম দেশে একজন ভোট কুশলী নিজেই নির্বাচনী ময়দানে ভাগ্য পরীক্ষায় নামতে চলেছেন। গত দেড় দশকে ভারতে ভোট কুশলী হিসেবে এক নম্বর জায়গাটি দখলে রেখেছেন তিনি। স্বভাবতই কিং মেকার প্রসাদ তাঁর প্রথম নির্বাচনী লড়াইয়ে কতটা সফল হন তা নিয়ে কৌতূহল আছে।
তিনি প্রার্থী হবার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই জল্পনা শুরু হয়েছে কোন আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন প্রশান্ত। এই প্রশ্নের জবাব দেননি জন সুরাজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা। জানিয়েছেন বৃহস্পতিবার তিনি ২৪৩ আসনের জন সুরাজ দলের প্রার্থীদের নাম ঘোষনা করবেন। তাঁর নিজের আসন নিয়েও যাবতীয় কৌতূহলের অবসান হবে সেদিন। প্রশান্ত দাবি করেছেন, তাঁর দলের তালিকায় অনেক চমক থাকবে। এমন ব্যক্তিরা প্রার্থী হবেন যাদের নাম কেউ কল্পনাও করেননি।
গত কয়েকদিন যাবত বিহারের নির্বাচনী ময়দানের এই নতুন খেলোয়াড় মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার এবং উপমুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা সম্রাট চৌধুরীর বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শুরু করেছেন। নীতীশ শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ নম্বরে বারে বারে প্রচার করছেন একদা বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর অত্যন্ত কাছের মানুষ তথা জনতা দল ইউনাইটেডের ভোট কুশলী প্রশান্ত। সোমবার কমিশন ভোট ঘোষণার পর কিশোর দাবি করেছেন এটাই নীতীশের শেষ নির্বাচন। আরও দাবি করেছেন, মুখ্যমন্ত্রিত্ব হারিয়ে নির্বাচনী ময়দানের ইনিংস শেষ করবেন নীতীশ। আগামী জানুয়ারিতে মকর সংক্রান্তি তিনি আর পার্টনার অ্যানে মার্গের সরকারি বাংলোয় উদযাপনের সুযোগ পাবেন না।
অন্যদিকে বিহার বিজেপির প্রথম সারির নেতা তথা রাজ্যের উপ মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর বিরুদ্ধে প্রশান্ত খুনের মামলার অভিযোগ এনেছেন। এছাড়া উপমুখ্যমন্ত্রীকে চূড়ান্ত দুর্নীতিগ্রস্ত এবং জালিয়াত বলেও প্রচার করছেন জাম সুরাজ পার্টির সুপ্রিমো। প্রশান্তের বক্তব্য সম্রাট চৌধুরী একটি খুনের মামলা থেকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে খালাস পেয়েছেন। তাঁর আসলে যাবজ্জীবন কারাবাস হওয়ার কথা। সেই সঙ্গে এই প্রাক্তন ভোট কুশলী জোরালো দাবি করেছেন লালু প্রসাদ রাবড়ি দেবীদের জমানার চেয়েও নীতীশের শাসনের বিজেপি অনেক বেশি দুর্নীতি করেছে।
প্রশান্তের এই লাগাতার আক্রমণ কৌতূহল তৈরি হয়েছে তিনি কি তাহলে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কিংবা উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাটের বিরুদ্ধে প্রার্থী হবেন?
প্রশান্তের দল গত বছর লোকসভা নির্বাচনে প্রথম ভোটের ময়দানে সামিল হয়েছিল। দশ শতাংশ ভোট পেয়ে জন সুরাজ পার্টি বিহারের রাজনৈতিক অঙ্গনে সাড়া ফেলে দিয়েছে। এর পুরো কৃতিত্বই রাজনৈতিক মহল দিচ্ছে প্রশান্তকে। লোকসভা ভোটের আগে আড়াই বছর ধরে তিনি গোটা বিহারে পদযাত্রা করেছেন। তাতে তিনি বিহারের রাজধানীর সংস্কৃতি বদলের ডাক দেন। তাঁর মতে, কোনও দলের হাতেই বিহার নিরাপদ নয়। দীর্ঘ পদযাত্রা শেষে জন সুরাজ পার্টি তৈরি করে নতুন বিহার গড়ার ডাক দিয়েছেন প্রশান্ত।
বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর দল আরও চমক সৃষ্টি করবে দাবি করে প্রশান্ত বলেছেন বিহারে কত বিধানসভা নির্বাচনে দুটি প্রধান জোট অর্থাৎ বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ এবং আরজেডির নেতৃত্বে চলা ইন্ডি জোট মোট ৭২ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। তাঁর বক্তব্য বাকি ২৮ শতাংশ ভোটার তিনি পাশে পাবেন বলে প্রবল আশাবাদী। সেই সঙ্গে তার আশা দুই জোট থেকেই জন সুরাজ পার্টি দশ শতাংশ করে ভোট কাটতে সক্ষম হবে।
যদিও রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত নীতীশ এবং সম্রাট চৌধুরীকে লাগাতার আক্রমণ করে প্রশান্ত আসলে এনডিএ জোটের ক্ষমতায় টিকে থাকার রাস্তাই তৈরি করছেন। তাঁর দল এনডিএ দিয়ে বিরোধী ভোটে ভাগ বসিয়ে আসলে আরজেডির নেতৃত্বাধীন ইন্ডি জোটকে আটকাতে চাইছে। সে ক্ষেত্রে প্রশান্তের কী লাভ? রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের বক্তব্য, ভোট কুশলী প্রসাদ আপাতত বিজেপি বিরোধী শিবিরের মুখ হতে চাইছেন। আপাতত তাঁর আসল লক্ষ্য লালু প্রসাদ পুত্র তেজস্বীকে রাজনীতিতে কোণঠাসা। বিরোধী শিবিরের সেই শূন্যস্থান তিনি পূরণ করার স্বপ্ন দেখছেন। ভবিষ্যতে রামবিলাস পুত্র চিরাগের সঙ্গেও তাঁকে টক্কর দিতে হতে পারে। তবে আপাতত টার্গেট তেজস্বী। বিহারের রাজনীতির বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিজেপির দুর্বলতা নিয়েও প্রশান্ত সচেতন। প্রায় ২৫ বছর নীতীশ কুমারের সঙ্গে জোট সরকার চালিয়েও বিজেপি বিহারে কোন আকর্ষণীয় মুখ তৈরি করতে পারেনি। প্রশান্ত এই বিষয়টিকেও সামনে রেখে আগামী দিনে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখেন। যদিও রাজনৈতিক মহলের একাংশ আবার মনে করে এই ভোট কুশলী আসলে বিজেপির হয়েই ময়দানে অবতীর্ণ হয়েছেন। বিজেপি তথা এনডিএ বিরোধী ভোটে ভাগ বসিয়ে তিনি আসলে ওই জোটকেই ক্ষমতা ধরে রাখার সুযোগ করে দিতে চান। আরজেডি এবং ইন্ডি জোটকে আটকানোই তাঁর প্রাথমিক লক্ষ্য। ওই জোট তেজস্বী যাদবকেই মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থী করবে বলে স্থির করেছে।