২০২৩ সালের ২৫ এপ্রিল সকালে কাজে বেরোনোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বছর ৪৫-এর পুলিশ আধিকারিক জয়ন্ত বাল্লাওয়ার। সেই সময় মেয়ে আর্যা, যিনি নিজেও একজন পুলিশকর্মী, তিনি বাবার হাতে এক গ্লাস মিল্কশেক তুলে দেন।

তিন বছর পর দাম্পত্য কলহে রহস্য ফাঁস হল
শেষ আপডেট: 27 March 2026 20:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তিন বছর আগে ডিউটিতে যাওয়ার সময় মেয়ের (Police Daughter) হাতের মিল্কশেক (Milkshake Murder) খেয়েছিলেন বাবা। তার কিছুক্ষণ পরেই জেলাশাসকের দফতরের সামনে রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয় তাঁর। সেই সময় বিষয়টিকে ‘আকস্মিক অসুস্থতা’ বলে ফাইল বন্ধ করে দিয়েছিল পুলিশ। কিন্তু তিন বছর পর পারিবারিক বিবাদেই ফাঁস হল হাড়হিম করা ঘটনা। খোদ পুলিশ কন্যাই যে তাঁর পুলিশ আধিকারিক বাবাকে বিষ খাইয়ে খুন করেছিলেন, তা স্বীকার করলেন তাঁর স্বামী। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে মহারাষ্ট্রের চন্দ্রপুরে।
২০২৩ সালের ২৫ এপ্রিল সকালে কাজে বেরোনোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বছর ৪৫-এর পুলিশ আধিকারিক জয়ন্ত বাল্লাওয়ার। সেই সময় মেয়ে আর্যা, যিনি নিজেও একজন পুলিশকর্মী, তিনি বাবার হাতে এক গ্লাস মিল্কশেক তুলে দেন। সানন্দে সেই পানীয় খেয়েই জয়ন্তবাবু রওনা দেন চন্দ্রপুর জেলাশাসকের দফতরের দিকে। কিন্তু সেখানে পৌঁছনোর পরেই তিনি মাথা ঘুরে পড়ে যান এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়। অস্বাভাবিক কিছু না মেলায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই সে সময় ফাইল বন্ধ করে দেয় পুলিশ।
তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, এই খুনের পরিকল্পনা ছিল পূর্বপরিকল্পিত। ২০২২ সাল থেকে আশিস শেডমাকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল আর্যার। কিন্তু বাবা জয়ন্তবাবু এই সম্পর্কের ঘোর বিরোধী ছিলেন। পথের কাঁটা সরাতেই প্রেমিক আশিসের সঙ্গে হাত মেলান আর্যা। খুনের জন্য নিজের তুতো ভাই চৈতন্য গেডামকে ৫ হাজার টাকা দিয়ে বিষের ব্যবস্থা করতে বলেন তিনি। চতুর্থ এক ব্যক্তি সেই বিষ সরবরাহ করেছিল বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার দিন সকালে সুযোগ বুঝে বাবার মিল্কশেকে সেই বিষ মিশিয়ে দিয়েছিলেন আর্যা।
যেভাবে ফাঁস হল রহস্য
জয়ন্তবাবুর মৃত্যুর পর আর্যা ও আশিস বিয়ে করেন। কিন্তু সেই দাম্পত্য সুখের হয়নি। শৃঙ্খলাভঙ্গ ও দুর্ব্যবহারের কারণে আশিস পুলিশ ট্রেনিং থেকে বহিষ্কৃত হন। এর পরেই দু'জনের মধ্যে অশান্তি শুরু হয়। আর্যা শ্বশুরবাড়িতে না গিয়ে নিজের বাপের বাড়িতেই থাকতে শুরু করেন। এই বিবাদের জেরে গত সপ্তাহে আচমকাই থানায় গিয়ে খুনের কথা স্বীকার করেন আশিস। তিনি জানান, তিন বছর আগে আর্যই তাঁর তুতো ভাইয়ের সাহায্যে বিষ এনে নিজের বাবাকে খাইয়েছিলেন।
স্বামীর বয়ানের ভিত্তিতে আর্যা বাল্লাওয়ার, আশিস শেডমাক, তুতো ভাই চৈতন্য এবং বিষ সরবরাহকারী, এই চারজনকেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বর্তমানে তাঁরা পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। একজন পুলিশকর্মীর হাতে আর এক পুলিশ আধিকারিকের এই নৃশংস খুনের ঘটনায় স্তম্ভিত মহারাষ্ট্রের পুলিশ প্রশাসন। ঘটনার গভীরে পৌঁছতে আরও তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।