Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
West Bengal Election 2026 | ‘৫০-আসন জিতে তৃণমূলকে ১৫০-আসনে হারাব’ মাতৃত্বের দুশ্চিন্তা, ‘ভাল মা’ হওয়ার প্রশ্ন—সদগুরুর পরামর্শে স্বস্তি পেলেন আলিয়ালক্ষ্য ২০২৯ লোকসভা ভোট, তড়িঘড়ি মহিলা সংরক্ষণ কার্যকরে মরিয়া মোদী! বাধা হয়ে দাঁড়াবে কি কংগ্রেস?Gold investment: যুদ্ধের বাজারে সোনার দাম কমছে! এটাই কি বিনিয়োগের সেরা সময়? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরারহস্য আর মনের অন্ধকারে ঢুকে পড়ল ‘ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড’! টিজারে চমকজিৎ-প্রযোজক দ্বন্দ্বে আটকে মুক্তি! ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’-এর মুক্তি বিশ বাঁও জলে?কিউআর কোড ছড়িয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ! কীভাবে রাতারাতি নয়ডার বিক্ষোভের প্ল্যানিং হল, কারা দিল উস্কানি?নয়ডা বিক্ষোভ সামাল দিতে 'মাস্টারস্ট্রোক' যোগী সরকারের! শ্রমিকদের বেতন বাড়ল ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত Jeet: ভুয়ো প্রচার! ভোট আবহে গায়ে রাজনীতির রঙ লাগতেই সরব জিৎ৪ হাজার থেকে নিমেষে ১ লক্ষ ৮৫ হাজার ফলোয়ার! এক স্পেলেই সোশ্যাল মিডিয়ার নতুন তারকা প্রফুল্ল

Excise Duty cut on fuel: পেট্রোল-ডিজেলে শুল্ক কমাল কেন্দ্র, সাধারণ মানুষের লাভ হল কি?

পেট্রোল ও ডিজেলের উপর লিটার প্রতি ১০ টাকা করে শুল্ক কমালেও খুচরো বাজারে জ্বালানির দামে এখনও কোনও পরিবর্তন হয়নি। ফলে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, তাহলে এই ছাড়ের লাভ গেল কোথায়?

Excise Duty cut on fuel: পেট্রোল-ডিজেলে শুল্ক কমাল কেন্দ্র, সাধারণ মানুষের লাভ হল কি?

সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, এই ছাড়ের লাভ গেল কোথায়?

পৃথা ঘোষ

শেষ আপডেট: 27 March 2026 11:59

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পেট্রোল ও ডিজেলের উপর লিটার প্রতি ১০ টাকা করে শুল্ক কমালেও (Petrol diesel excise duty cut) খুচরো বাজারে জ্বালানির দামে এখনও কোনও পরিবর্তন হয়নি (why petrol diesel price unchanged India)। ফলে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, তাহলে এই ছাড়ের লাভ গেল কোথায়?

বিশ্লেষকদের মতে, এই শুল্ক হ্রাস মূলত ভোক্তাদের সরাসরি স্বস্তি দেওয়ার জন্য নয়, বরং তেল বিপণন সংস্থাগুলির (OMCs) আর্থিক চাপ কমাতেই এই পদক্ষেপ।

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পেট্রোলে শুল্ক কমিয়ে ১৩ টাকা থেকে ৩ টাকা করা হয়েছে এবং ডিজেলে সম্পূর্ণ শুল্ক তুলে দেওয়া হয়েছে। তবে তাতেও পাম্পের দামে কোনও হেরফের হয়নি।

তেল সংস্থার ক্ষতি সামলাতেই পদক্ষেপ

রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি যেমন হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড (HPCL), ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড (BPCL) এবং ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন লিমিটেড (IOC) গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বাড়তি ক্রুড তেলের দামের চাপ সত্ত্বেও খুচরো দাম বাড়ায়নি।

বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ১০০ ডলারের উপরে লেনদেন হচ্ছে, যেখানে গত মাসেই তা প্রায় ৬০ ডলারের কাছাকাছি ছিল। এই বিপুল বৃদ্ধির চাপ সংস্থাগুলিই নিজেদের উপর নিয়ে দাম স্থিতিশীল রেখেছে।

রেটিং সংস্থা ICRA-র হিসাব অনুযায়ী, যদি ক্রুডের গড় দাম ১০০-১০৫ ডলার প্রতি ব্যারেলে থাকে, তাহলে তেল সংস্থাগুলির পেট্রোলে লিটার প্রতি প্রায় ১১ টাকা এবং ডিজেলে ১৪ টাকা পর্যন্ত ক্ষতি হতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে সরকার শুল্ক কমিয়ে সংস্থাগুলিকে কিছুটা বাড়তি আয় করার সুযোগ করে দিয়েছে, যাতে তারা ক্ষতি সামাল দিতে পারে।

বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাব

যুক্তরাষ্ট্র, ইজরায়েল এবং ইরানকে ঘিরে চলা সংঘাত, এবং হরমুজে বাধা - এই সব মিলিয়ে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধাক্কা লেগেছে। এর ফলেই ক্রুডের দাম দ্রুত বেড়েছে।

এই পরিস্থিতিতে সরকারের নীতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, প্রথমে আর্থিক সমন্বয়ের মাধ্যমে ধাক্কা সামলানো হবে, আর পরে পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে তবেই ভোক্তাদের কাছে সুবিধা পৌঁছনো হতে পারে।

বেসরকারি সংস্থার পথে ভিন্নতা

যেখানে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলি এখনও দাম বাড়ায়নি, সেখানে বেসরকারি সংস্থাগুলি ইতিমধ্যেই খরচের চাপ গ্রাহকদের উপর চাপাতে শুরু করেছে। Nayara Energy পেট্রোলের দাম লিটার প্রতি ৫ টাকা এবং ডিজেলের দাম ৩ টাকা বাড়িয়েছে। অন্যদিকে Jio-bp এখনও পর্যন্ত দাম বাড়ায়নি, যদিও তারাও ক্ষতির মুখে রয়েছে।

এই ভিন্নতা থেকেই স্পষ্ট, বর্তমান পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলির উপরই মূল চাপ পড়ছে।

জ্বালানি নীতিতে বড় বদলের ইঙ্গিত

শুল্ক কমানোর পাশাপাশি সরকার এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল (ATF)-এর উপর অতিরিক্ত আবগারি শুল্ক আরোপ করেছে এবং রপ্তানি সংক্রান্ত সুবিধাও কিছুটা কড়া করেছে। ফলে বোঝা যাচ্ছে, সামগ্রিকভাবে জ্বালানি করনীতিতে নতুন করে সমন্বয় আনা হচ্ছে।

এই নীতির মূল লক্ষ্য তিনটি - দেশে জ্বালানির সরবরাহ নিশ্চিত রাখা, হঠাৎ দাম বাড়ার ধাক্কা থেকে ভোক্তাদের বাঁচানো এবং তেল সংস্থাগুলির আর্থিক স্থিতি বজায় রাখা।

আপাতত স্থির দাম

বর্তমানে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলি, যাদের হাতে প্রায় ৯০ শতাংশ বাজার, দাম স্থির রেখেছে। দিল্লিতে এখনও এক লিটার পেট্রোলের দাম ৯৪.৭৭ টাকা এবং ডিজেলের দাম ৮৭.৬৭ টাকা রয়েছে।

সব মিলিয়ে, শুল্ক কমানো হলেও তার সরাসরি প্রভাব এখনই গ্রাহকের পকেটে পড়ছে না। বরং এই সিদ্ধান্তের লক্ষ্য, সংকটের সময় তেল সংস্থাগুলিকে টিকিয়ে রাখা এবং বাজারকে স্থিতিশীল রাখা।


```