বিবাহিত পুরুষ যদি প্রাপ্তবয়স্ক কোনও মহিলার সঙ্গে সম্মতিতে লিভ-ইন সম্পর্কে থাকেন, তা আইনত অপরাধ নয়—একটি মামলার শুনানিতে এই পর্যবেক্ষণ জানাল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। একইসঙ্গে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, সামাজিক নীতি বা নৈতিকতা আদালতের কাছে নাগরিকের অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে প্রাধান্য পাবে না।
.jpeg.webp)
শেষ আপডেট: 27 March 2026 15:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিবাহিত পুরুষ যদি প্রাপ্তবয়স্ক কোনও মহিলার সঙ্গে সম্মতিতে লিভ-ইন সম্পর্কে থাকেন, তা আইনত অপরাধ নয়—একটি মামলার শুনানিতে এই পর্যবেক্ষণ জানাল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। একইসঙ্গে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, সামাজিক নীতি বা নৈতিকতা আদালতের কাছে নাগরিকের অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে প্রাধান্য পাবে না।
ওই মামলার নেপথ্যে রয়েছেন এক যুগল। এঁদের মধ্যে মধ্যে পুরুষটি বিবাহিত। মামলাটি করেছেন তাঁর বান্ধবী। তাঁর অভিযোগ, পরিবারের তরফ থেকে তাঁকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তিনি সুরক্ষা চান। মহিলার দাবি, তিনি নিজের ইচ্ছায় ওই পুরুষের সঙ্গে বসবাস করছেন, কিন্তু পরিবারের পক্ষ থেকে ‘অনার কিলিং’-এর হুমকি দেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ করা হয়, পুলিশকে জানানো সত্ত্বেও যথাযথ পদক্ষেপ করেনি।
এই প্রেক্ষিতে আদালত জানায়, “যদি দুই প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি পারস্পরিক সম্মতিতে একসঙ্গে বসবাস করেন, তা কোনওভাবেই অপরাধ নয়।” আদালতের মতে, আইন ও নৈতিকতা—দুটি ভিন্ন বিষয়। আইনের চোখে যদি কোনও অপরাধ না থাকে, তাহলে সামাজিক মতামত বা নৈতিকতার ভিত্তিতে আদালত সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।
পাশাপাশি আদালত পুলিশের ভূমিকাও নিয়ে প্রশ্ন তোলে। জানায়, দুই প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের দায়িত্ব। এই ক্ষেত্রে সেই দায়িত্ব পালনে গাফিলতির অভিযোগও উঠে এসেছে। শাহজাহানপুরের পুলিশ সুপারকে ব্যক্তিগতভাবে যুগলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ওই যুগলের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অপহরণ মামলায় আপাতত গ্রেফতারের উপর স্থগিতাদেশ দিয়েছে আদালত। একইসঙ্গে মহিলার পরিবারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাঁরা যেন কোনওভাবে দম্পতির ক্ষতি না করেন বা তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা না করেন।
এই রায়ের মাধ্যমে আবারও স্পষ্ট হল, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে আদালত সামাজিক চাপ বা প্রচলিত নীতিকে নয়, আইনের ব্যাখ্যাকেই প্রাধান্য দিচ্ছে।