দিল্লি বিমানবন্দরের টার্মিনালে স্তূপ করে রাখা হাজার হাজার স্যুটকেস, যাত্রীরা মেঝেতে শুয়ে রাত কাটাচ্ছেন, আর ইন্ডিগোর কাউন্টার প্রায় ফাঁকা - এইসব ছবি ধরা পড়েছে। কেউ বলছেন 'মানসিক নির্যাতন', কেউ বলছেন 'সবচেয়ে খারাপ অভিজ্ঞতা'।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 5 December 2025 10:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টানা তৃতীয় দিনেও ইন্ডিগোর বিপর্যয় (Indigo) জারি। বৃহস্পতিবার সারাদিনে ৫০০–র বেশি ফ্লাইট বাতিল (Flight Cancelled) হওয়ায় দেশের একাধিক বিমানবন্দরে দেখা গেল চরম বিশৃঙ্খলার (Chaos) ছবি। রাগে ফেটে পড়ছেন যাত্রীরা, কোথাও হাজার হাজার লাগেজ ব্যাগ (Luggage Bags) ছড়িয়ে-ছিটিয়ে, কোথাও আবার ঘণ্টার পর ঘণ্টা খাবার–জল ছাড়াই (Food and Water) অপেক্ষা করতে হচ্ছে যাত্রীদের।
দিল্লি বিমানবন্দরের (Delhi Airport) টার্মিনালে স্তূপ করে রাখা হাজার হাজার স্যুটকেস, যাত্রীরা মেঝেতে শুয়ে রাত কাটাচ্ছেন, আর ইন্ডিগোর কাউন্টার প্রায় ফাঁকা - এইসব ছবি ধরা পড়েছে। কেউ বলছেন 'মানসিক নির্যাতন', কেউ বলছেন 'সবচেয়ে খারাপ অভিজ্ঞতা'। আর অধিকাংশেরই অভিযোগ, ইন্ডিগোর (Indigo) কাছ থেকে কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা মিলছে না।
এক যাত্রীর কথায়, “১২ ঘণ্টা ধরে আছি। প্রতিবার বলছে এক ঘণ্টা দেরি, তারপর দুই ঘণ্টা। বিয়েতে যাওয়ার কথা ছিল, লাগেজও পাইনি। ইন্ডিগো কোনও ব্যাখ্যাই দিচ্ছে না।” আরেকজন জানান, দুপুর থেকে রাত হয়ে গেলেও শুধু ‘ডিলে’র নোটিফিকেশন, কোনও পরিষ্কার তথ্য মিলছেই না।

হায়দরাবাদ, গোয়া, চেন্নাই - সব জায়গাতেই ক্ষোভের বিস্ফোরণ! হায়দরাবাদ বিমানবন্দরে বহু যাত্রী খাবার বা থাকার ব্যবস্থা না পেয়ে ফেটে পড়েন। এক যাত্রী জানিয়েছেন, ৭.৩০-এ উড়ানের কথা ছিল। ৬টায় এসে জানানো হল অন-টাইম। তারপর কেটে গেল ঘণ্টার পর ঘণ্টা। জল নেই, খাবার নেই।

গোয়া বিমানবন্দরে যাত্রী–কর্মীদের তর্ক চরমে ওঠে। ভিডিওতে দেখা গেছে, পুলিশ এসে পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করছে। অন্যদিকে, চেন্নাইতেও শতাধিক যাত্রী আটকে। বিশাখাপত্তনম বিমানবন্দরে কমপক্ষে ১০০-র বেশি বিমান বাতিল হয়েছে।
ইন্ডিগো প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার ৩০০ ফ্লাইট পরিচালনা করে এবং দীর্ঘদিন ধরে সময়ের ডেডলাইন (Time Bound) বজায় রাখাই তাদের পরিচয়। কিন্তু বৃহস্পতিবার এই হার নেমে আসে মাত্র ১৯.৭ শতাংশে, যেখানে মঙ্গলবারের হার ছিল ৩৫ শতাংশ। পরিস্থিতি সামাল দিতে আগামী দু’তিন দিন আরও ফ্লাইট বাতিলের সম্ভাবনার কথা আগেই জানিয়ে দিয়েছে সংস্থা।
বৃহস্পতিবার একদিনেই ৫৫০-র বেশি ফ্লাইট বাতিল (Flight Cancelled) হয়েছে - ২০ বছরের ইতিহাসে যা নজিরবিহীন। সংস্থার মতে, ক্রু রোস্টার (Crew Roaster) সমস্যা, প্রযুক্তিগত জটিলতা ও নতুন ডিউটি-নর্মস (New Duty Norms) মিলিয়ে অপারেশন গোটা দেশে বিপর্যস্ত।
ইন্ডিগো স্বীকার করেছে যে নতুন ফ্লাইট ডিউটি টাইম লিমিটেশন (FDTL)–এর দ্বিতীয় ধাপ কার্যকর হওয়ার পরে সংস্থার ক্রু-চাহিদা বেড়ে গেছে। আদালতের নির্দেশে ১ নভেম্বর চালু হওয়া নতুন নিয়ম অনুযায়ী, রাতের ডিউটির (Night Duty) সংজ্ঞা বদলে যাওয়া এবং পাইলটদের ডিউটি (Pilot Duty) সময়ের কঠোর সীমাবদ্ধতা রোস্টারকে আরও চাপের মুখে ফেলে।