বৃহস্পতিবার ইন্ডিগোর শীর্ষ কর্তার সঙ্গে বৈঠকে বসে সিভিল এভিয়েশন মন্ত্রক ও ডিজিসিএ। তারপর জানানো হয়, অপারেশন স্বাভাবিক করতে দ্রুত রূপরেখা তৈরি হচ্ছে। ইন্ডিগো সিইও পিটার এলবার্স কর্মীদের জানিয়েছেন, ফের পরিষেবা সম্পূর্ণ সচল করা হবে 'অত্যন্ত কঠিন টার্গেট'।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 5 December 2025 07:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশের বৃহত্তম বেসরকারি বিমান সংস্থা ইন্ডিগো (Indigo) টানা তৃতীয় দিনে আরও বিশৃঙ্খলার মুখে পড়ল। বৃহস্পতিবার একদিনেই ৫৫০-র বেশি ফ্লাইট বাতিল (Flight Cancelled) হয়েছে - ২০ বছরের ইতিহাসে যা নজিরবিহীন। সংস্থার মতে, ক্রু রোস্টার (Crew Roaster) সমস্যা, প্রযুক্তিগত জটিলতা ও নতুন ডিউটি-নর্মস (New Duty Norms) মিলিয়ে অপারেশন গোটা দেশে বিপর্যস্ত।
ইন্ডিগো প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার ৩০০ ফ্লাইট পরিচালনা করে এবং দীর্ঘদিন ধরে সময়ের ডেডলাইন (Time Bound) বজায় রাখাই তাদের পরিচয়। কিন্তু বৃহস্পতিবার এই হার নেমে আসে মাত্র ১৯.৭ শতাংশে, যেখানে মঙ্গলবারের হার ছিল ৩৫ শতাংশ। পরিস্থিতি সামাল দিতে আগামী দু’তিন দিন আরও ফ্লাইট বাতিলের সম্ভাবনার কথা আগেই জানিয়ে দিয়েছে সংস্থা।
বৃহস্পতিবার ইন্ডিগোর শীর্ষ কর্তার সঙ্গে বৈঠকে বসে সিভিল এভিয়েশন মন্ত্রক ও ডিজিসিএ (DGCA)। তারপর জানানো হয়, অপারেশন স্বাভাবিক করতে দ্রুত রূপরেখা তৈরি হচ্ছে। ইন্ডিগো সিইও (Indigo CEO) পিটার এলবার্স কর্মীদের জানিয়েছেন, ফের পরিষেবা সম্পূর্ণ সচল করা হবে 'অত্যন্ত কঠিন টার্গেট'।
বিগত কয়েকদিনে দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে যে বাতিলের ছবি মিলেছে তা হল -
মুম্বই: ১১৮
বেঙ্গালুরু: ১০০
হায়দরাবাদ: ৭৫
কলকাতা: ৩৫
চেন্নাই: ২৬
গোয়া: ১১
ইন্ডিগো স্বীকার করেছে যে নতুন ফ্লাইট ডিউটি টাইম লিমিটেশন (FDTL)–এর দ্বিতীয় ধাপ কার্যকর হওয়ার পরে সংস্থার ক্রু-চাহিদা বেড়ে গেছে। আদালতের নির্দেশে ১ নভেম্বর চালু হওয়া নতুন নিয়ম অনুযায়ী, রাতের ডিউটির (Night Duty) সংজ্ঞা বদলে যাওয়া এবং পাইলটদের ডিউটি (Pilot Duty) সময়ের কঠোর সীমাবদ্ধতা রোস্টারকে আরও চাপের মুখে ফেলে।
সংস্থা সূত্রে খবর, ফেজ–২ চালু হওয়ার পরে বিশেষ করে রাতের অপারেশনেই অতিরিক্ত পাইলটের প্রয়োজনীয়তা বহুগুণ বেড়েছে, যেখানে স্লট কম ও ডিউটি-রুলস আরও কঠোর।
এদিকে প্রযুক্তিগত সমস্যাও বাড়িয়েছে বিপদ। সংস্থার অভ্যন্তরীণ সূত্র জানাচ্ছে, প্রযুক্তিগত সমস্যাও রোস্টারিংয়ের ঘাটতি বাড়িয়েছে। এর ফলে পূর্বনির্ধারিত ফ্লাইট শিডিউল স্বাভাবিক রাখতে গিয়ে বারবার পরিবর্তন আনতে হচ্ছে।
তবে ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া পাইলোটস (FIP) সরাসরি ইন্ডিগোর ওপর অভিযোগ তুলেছে। তাদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ ফ্রিজ করে রেখেছে ইন্ডিগো। ‘অস্বাভাবিকভাবে কম’ কর্মী। তা ছাড়া পাইলটদের বেতন স্থগিত রেখেছে সংস্থা। তাদের বক্তব্য, এ সবের ফলেই আজ অপারেশন ভেঙে পড়েছে।
যদিও ইন্ডিগো বলেছে, অপারেশন স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত শিডিউল সামঞ্জস্য করে চলবে। যাত্রীদের জন্য আপডেট জারি করতে সংস্থা অতিরিক্ত হেল্পডেস্ক ও নোটিফিকেশন সিস্টেম চালু করেছে।