আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের মুখ উজ্জ্বল করা সেতারবাদক অনুষ্কা শঙ্কর নিজের সুর, সাধনা আর শিল্পের প্রতি অগাধ ভালবাসার জন্য বিশ্বজোড়া সম্মান পেয়েছেন।

অনুষ্কা।
শেষ আপডেট: 4 December 2025 14:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের মুখ উজ্জ্বল করা সেতারবাদক অনুষ্কা শঙ্কর নিজের সুর, সাধনা আর শিল্পের প্রতি অগাধ ভালবাসার জন্য বিশ্বজোড়া সম্মান পেয়েছেন। কিন্তু সম্প্রতি এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতা যেন তারই উল্টো ছবি দেখাল। দীর্ঘ সফর শেষে দেশে ফেরার পথে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানে তাঁর প্রিয় সেতারের যে পরিণতি হয়েছে, তা দেখে যেন ক্ষোভ আর অবিশ্বাস—দুটোই ভর করল শিল্পীর মনে।
বিমানে ওঠার সময় অতিরিক্ত ‘হ্যান্ডলিং চার্জ’ মিটিয়েছিলেন অনুষ্কা। নিজের বাদ্যযন্ত্রকে সুরক্ষিত রাখতেই এই বাড়তি অর্থ দেওয়া। কিন্তু তবু কী ভয়াবহ দুরবস্থা! বাড়িতে পৌঁছে যখন বাক্স খুললেন, চক্ষু চড়কগাছ হবার যোগাড়। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করা ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে—সেতারটির দেহ প্রায় দু’টুকরো হয়ে গেছে, আর যে শক্তপোক্ত বাক্স সেতারকে রক্ষা করার কথা, সেটিও বিস্ফোরিত চেহারায় ভেঙে পড়েছে।
এমন নৃশংস অবহেলা দেখে হতচকিত অনুষ্কা লিখলেন, বছরের পর বছর নানা আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থার ভরসায় নিজের বাদ্যযন্ত্র নিয়ে ঘোরেন তিনি, কিন্তু এমন নিষ্ঠুর ক্ষতির অভিজ্ঞতা কোনদিন হয়নি। তাঁর প্রশ্ন, ‘‘ইচ্ছাকৃত অবহেলা ছাড়া এমন বিপর্যয় কীভাবে সম্ভব? ভারতীয় সুরের এমন এক ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র তাদের কাছে এতটাই অসুরক্ষিত?’’
অভিযোগ এখানেই শেষ নয়। আলাদা করে টাকা নেওয়ার পরেও কেন এই অবহেলা—এই প্রশ্নও শিল্পী তোলেন সরাসরি। অথচ এই ঘটনায় এয়ার ইন্ডিয়ার তরফে এখনও একটি শব্দও উচ্চারিত হয়নি।
অনুষ্কার কথায়, প্রথমে তিনি কিছুই বুঝতে পারেননি। সেতারটি হাতে নিয়ে টিউন করতে গিয়ে বোঝা গেল আসল বিপর্যয়। সুর তো হারিয়েছেই, উপকরণের মধ্যেই লেগে আছে গভীর ক্ষতের দাগ। পনেরো-সতেরো বছরের দীর্ঘ যাত্রায় এমন বিপদ তাঁর সেতারের জীবনে আগে কখনও নেমে আসেনি।
অদ্ভুত এই অভিজ্ঞতার মাঝেই আরেকটা বড় খবর—গত মাসেই ৬৮তম গ্র্যামিতে একাধিক বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছেন অনুষ্কা। সুরের জগতে নতুন সাফল্যের সামনে দাঁড়িয়েই তাঁকে এখন ভাবাচ্ছে নিরাপত্তাহীনতার এই ছায়া। আগামী বছর ভারতে ছ’টি শহরে তাঁর একক অনুষ্ঠান রয়েছে, কলকাতাতেও আসছেন তিনি। অথচ মনের ভেতর ঘুরপাক খাচ্ছে একটাই আশঙ্কা—যদি আবার এমন কিছু ঘটে?
শেষে প্রশ্নটা থেকেই যায়—বিশ্বের মঞ্চে দেশের সুরকে যিনি তুলে ধরছেন, তাঁর হাতের মণিকেও যদি এমন বিপন্নতার মুখে পড়তে হয়, তবে শিল্পের নিরাপত্তা বলতে আদৌ কিছু অবশিষ্ট থাকল কি?