কলকাতার সৌন্দর্য যেন প্রতিদিন একটু একটু করে ক্ষয়ে যাচ্ছে। শহরের সেতু, রাস্তা, স্টেশন—যেখানেই চোখ যায়, দেখা মিলছে পানের পিকের লাল ছোপ।

মিমি।
শেষ আপডেট: 4 December 2025 13:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতার সৌন্দর্য যেন প্রতিদিন একটু একটু করে ক্ষয়ে যাচ্ছে। শহরের সেতু, রাস্তা, স্টেশন—যেখানেই চোখ যায়, দেখা মিলছে পানের পিকের লাল ছোপ। রবীন্দ্র সেতু হোক, দ্বিতীয় হুগলী সেতু বা কোনও ফ্লাইওভার, এমনকি রেল-স্টেশন—সব জায়গাতেই একই ছবি। প্রশাসন বারবার জরিমানা, নিয়ম-কানুন, প্রচার—সব করছে, তবুও কিছু অসচেতন নাগরিকের অভ্যাসের বদল নেই। তাঁরা বারবার সেই একই কাজ করেন—এবং শহরকে আরও নোংরা করে তোলেন। আর সেই দৃষ্টিকটূ পরিস্থিতিই এবার ক্ষোভে বিস্ফোরিত করল অভিনেত্রী ও প্রাক্তন সাংসদ মিমি চক্রবর্তীকে।
বুধবার ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে মিমি শেয়ার করলেন তাঁর এক্স হ্যান্ডেলের একটি পোস্টের স্ক্রিনশট। ছবিটি মা ফ্লাইওভারের—দেওয়ালের গায়ে জমে থাকা অসংখ্য লাল পিকের দাগ যেন শহরের উপর অপমানের ছাপ। দুটি ছবি পাশাপাশি রেখে তিনি লিখলেন—“কেন? কেন? কেন??? প্রশাসনের ঘাড়ে সব দোষ চাপিয়ে দেওয়া খুব সহজ। কিন্তু আমরা কি একটু নাগরিক সচেতনতা দেখাতে পারি না? রকেট সায়েন্স তো নয়—শুধু একটু দায়িত্ববোধ। সিটি অফ জয় আমাদের গর্ব, তা হলে কেন তার প্রতি আমাদের যত্ন নেই? ছোট ছোট বদলই তো বড় পরিবর্তনের সূচনা করে।”
অভিনেত্রীর এই প্রশ্নে যেন শহরেরই প্রতিচ্ছবি ধরা পড়ে—যেখানে সৌন্দর্যের সঙ্গে অসচেতনতা যেন পাশাপাশি ছুটে চলেছে।
চলতি বছর কাজের দিক থেকেও ব্যস্ত ছিলেন মিমি। মুক্তি পেয়েছে তাঁর বহুল প্রতীক্ষিত ছবি ‘রক্তবীজ ২’—যেখানে অভিনয়ের পাশাপাশি তাঁর সাহসী বিকিনি লুক বেশ চর্চায় ছিল। প্রশংসিত হয়েছে তাঁর সিরিজ ‘ডাইনি’—অন্য রকম এক চরিত্রে তাঁকে দেখে মুগ্ধ হয়েছে দর্শক। বছরের শেষে বড়দিনের আবহে মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল ইউন্ডোজ প্রযোজনার ‘ভানুপ্রিয়া ভূতের হোটেল’।

কিন্তু একসঙ্গে বহু বাংলা ছবি মুক্তি এড়াতে প্রযোজকরা সময় পিছিয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত ঠিক হয়েছে, প্রজাতন্ত্র দিবসের মরসুমেই ছবি পৌঁছবে প্রেক্ষাগৃহে। বুধবার ছবির একটি গানও প্রকাশ্যে এসেছে। এই ছবিতে মিমির সঙ্গে রয়েছেন বনি সেনগুপ্ত, স্বস্তিকা দত্ত এবং সোহম মজুমদার। ২৩ জানুয়ারি মুক্তি পাবে ছবিটি।
মিমির পোস্টে যেন একটাই আবেদন—শহরকে নিজের বাড়ির মতো ভালবাসুন। কিন্তু প্রশ্ন দাঁড়ায়—প্রশাসনের নিয়মের ভয়েই কি বদলাবে মানুষের অভ্যাস, নাকি নিজেদের লজ্জায় কোনও দিন আমরা থুতুর দাগহীন এক নাগরিক দায়িত্বশীল শহর গড়তে পারব?