ওড়িশার নবরঙ্গপুরে সাপের কামড়ে দুই ভাই-বোনের মৃত্যু। হাসপাতালে না নিয়ে ওঝার কাছে যাওয়ায় নষ্ট হল মূল্যবান সময়। স্বাস্থ্য দফতর বলছে, সচেতনতায় জোর দেওয়া হচ্ছে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 10 September 2025 12:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অন্ধবিশ্বাসের কারণে সাপের কামড়ে মৃত্যু হল দুই ভাই-বোনের। ঘটনাটি ঘটেছে ওড়িশার নবরঙ্গপুর জেলার উমেরকোট থানা এলাকার রাজপুর গ্রামে। পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে না গিয়ে স্থানীয় এক ওঝার কাছে নিয়ে যাওয়ায় সঠিক চিকিৎসার অভাবে মৃত্যু হয়েছে তাদের।
মৃত শিশুরা নয় মাস বয়সী ঋতুরাজ হরিজন এবং তার এগারো বছর বয়সী দিদি অমিতা হরিজন। সোমবার রাতে তারা পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিল। রাত ১১টা নাগাদ বিষাক্ত সাপে তাদের কামড়ায়। এরপর বাবা-মা তাদের হাসপাতালে না নিয়ে গিয়ে এক ওঝার কাছে নিয়ে যান।
শিশু দুটির বাবা, ক্রুষ হরিজন জানান, প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে ওঝা মন্ত্রতন্ত্র করে তাদের সুস্থ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু শিশুদের অবস্থার অবনতি হলে, ভোর ৪টা নাগাদ তাদের হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। হাসপাতালের চিকিৎসকেরা তাদের মৃত বলে ঘোষণা করেন।
নবরঙ্গপুরের মুখ্য জেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (সিডিএমও) সন্তোষ কুমার পান্ডা বলেন, "একটি অত্যন্ত বিষধর সাপ কামড়ানোর পর প্রথম দুই ঘণ্টা হলো চিকিৎসার জন্য 'গোল্ডেন পিরিয়ড'। এই সময়ের মধ্যে অ্যান্টি-ভেনম দিলে প্রাণ বাঁচানো সম্ভব। কিন্তু পরিবারটি হাসপাতালে না এসে ওঝার কাছে গিয়ে মূল্যবান সময় নষ্ট করেছে।"
পান্ডা আরও বলেন, "আমরা গ্রামে গ্রামে সচেতনতা অভিযান চালাচ্ছি, কিন্তু মানুষের মধ্যে এখনও কুসংস্কার দূর হয়নি।" স্পেশাল রিলিফ কমিশনারের অফিসের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রাজ্যে প্রতি বছর প্রায় ৩,০০০ সাপের কামড়ের ঘটনা ঘটে, যার মধ্যে ৪০ শতাংশই মারা যায়, কারণ তাদের সময়মতো হাসপাতালে আনা হয় না।