সাম্প্রতিক পরিস্থিতির জন্য ভারতে পড়াশোনা করা নেপালি ছাত্রছাত্রীরা কেউ বাতিল করেছেন দুর্গাপুজো বা দীপাবলীতে দেশে ফেরার পরিকল্পনা, আবার কেউবা কয়েক ঘণ্টা পর পর ফোন করছেন পরিবারের লোকজনদের, তাঁদের নিরাপত্তার খবর নিতে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 10 September 2025 11:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অশান্ত নেপাল (Nepal)। 'জেন জি' প্রতিবাদের (Gen Z Protest) জেরে দেশজুড়ে ভয়ানক পরিস্থিতি। প্রতিবেশী দেশে কী ঘটছে তার দিকে নজর রয়েছে ভারতের (India)। কিন্তু এ দেশে থাকা নেপালি পড়ুয়াদের (Nepali Students) চিন্তা যাচ্ছে না কিছুতেই। নিজের দেশের পরিস্থিতির কথা ভেবে আতঙ্কে দিন কাটছে তাঁদের।
সাম্প্রতিক পরিস্থিতির জন্য ভারতে পড়াশোনা করা নেপালি ছাত্রছাত্রীরা কেউ বাতিল করেছেন দুর্গাপুজো বা দীপাবলীতে দেশে ফেরার পরিকল্পনা, আবার কেউবা কয়েক ঘণ্টা পর পর ফোন করছেন পরিবারের লোকজনদের, তাঁদের নিরাপত্তার খবর নিতে।
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের (Delhi University) এক স্নাতকোত্তর ছাত্র জানিয়েছেন, দীপাবলীতে বাড়ি ফেরার কথা ছিল। কিন্তু বাবা-মা জানিয়ে দিয়েছেন, আপাতত দিল্লিতেই থেকে যেতে। যতক্ষণ না পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে, দেশে যাওয়া নিরাপদ নয়। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক পড়ুয়া জানান, তাঁর বাবা-মা দিল্লিতেই থাকেন, তবে দাদু-ঠাকুমা ও আত্মীয়রা রয়েছেন নেপালে। তাই স্বাভাবিকভাবেই তাঁরা আতঙ্কিত।
অন্যদিকে, আইআইটি-ধানবাদের (IIT Dhanbad) পড়ুয়া জানান, তাঁর শহর তুলনামূলকভাবে শান্ত হলেও কাঠমান্ডুর পরিস্থিতি দেখে তিনি সব পরিকল্পনা বাতিল করেছেন। তবে এও জানান, বাড়িতে সকলে ভাল আছেন। কিন্তু রাজধানীতে অগ্নিসংযোগ ও প্রাণহানির খবর শুনে তাঁর ভয় লাগছে।
ভারত ইতিমধ্যেই তার নাগরিকদের নেপালে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "নেপালের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। আমরা মৃত্যুর ঘটনা এবং ক্ষয়ক্ষতির জন্য গভীরভাবে শোকাহত। আমাদের চিন্তা ও প্রার্থনা নিহতদের পরিবারের সঙ্গে আছে। যারা আহত হয়েছেন, আমরা তাদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি।" সরকার এই বিবৃতিতে আরও জানিয়েছে যে, প্রতিবেশী এবং বন্ধু রাষ্ট্র হিসাবে ভারত আশা করে যে, সমস্ত পক্ষ সংযম বজায় রাখবে। এর পাশাপাশি শান্তি ও আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান করা হবে।
ইতিমধ্যে জানা গেছে, নেপালের সেনাপ্রধানের (Nepal Army Chief) সঙ্গে মধ্যরাতে আলোচনায় বসেছিলেন বিক্ষোভকারীদের একাংশ। তাঁদের দাবিদাওয়া শোনেন সেনাপ্রধান। সেই প্রেক্ষিতে বুধবারই রাষ্ট্রপতি (President) রামচন্দ্র পৌডেলের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের আলোচনা হতে পারে। কিন্তু তার আগে প্রতিবাদীদের কড়া বার্তা দিয়ে সেনা স্পষ্ট করেছে, কোনওরকম ভাঙচুর, লুটপাট বা হামলা হলে কঠোর পদক্ষেপ নেবে বাহিনী।
গত দু’দিন ধরে ভয়াবহ পরিস্থিতি নেপালে। সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করে দেওয়ার প্রতিবাদে রাস্তায় নাম তরুণ প্রজন্ম। তারপর কার্যত পরিস্থিতি চলে যায় হাতের বাইরে। পুলিশের গুলিতে অন্তত ২২ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়েছে। সেই ক্ষোভেই আরও তীব্র হয় আন্দোলন।
এদিকে সেনা নিয়ন্ত্রণে এসেছে কাঠমান্ডু বিমানবন্দর ও সরকারি সচিবালয়। সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে জরুরি পরিষেবার গাড়ি যেমন অ্যাম্বুল্যান্স বা শববাহী গাড়িকে ছাড় দেওয়া হয়েছে।