মধ্যরাতে আলোচনায় বসেছিলেন বিক্ষোভকারীদের একাংশ। তাঁদের দাবিদাওয়া শোনেন সেনাপ্রধান। বুধবারই রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের আলোচনা হতে পারে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 10 September 2025 11:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নেপালের গণ-আন্দোলন (Nepal Gen Z Protest) যেন অন্য রূপ নিয়েছে। অনেকেরই মনে পড়ছে বাংলাদেশের পরিস্থিতির কথা। প্রতিবাদের নামে চলছে লুটপাট, অত্যাচার। ঠিক এমনটা মনে করছে দেশের সেনাবাহিনীও (Nepal Army)। সেই প্রেক্ষিতেই আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে কড়া বার্তাও দিয়েছে তাঁরা।
ইতিমধ্যে জানা গেছে, নেপালের সেনাপ্রধানের (Nepal Army Chief) সঙ্গে মধ্যরাতে আলোচনায় বসেছিলেন বিক্ষোভকারীদের একাংশ। তাঁদের দাবিদাওয়া শোনেন সেনাপ্রধান। সেই প্রেক্ষিতে বুধবারই রাষ্ট্রপতি (President) রামচন্দ্র পৌডেলের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের আলোচনা হতে পারে। কিন্তু তার আগে প্রতিবাদীদের কড়া বার্তা দিয়ে সেনা স্পষ্ট করেছে, কোনওরকম ভাঙচুর, লুটপাট বা হামলা হলে কঠোর পদক্ষেপ নেবে বাহিনী।
সেনাপ্রধান জেনারেল অশোক রাজ সিগদেল মঙ্গলবার রাতে দেশবাসীর উদ্দেশে ভাষণ দেন। তিনি বলেন, “আমরা আন্দোলনকারীদের কাছে আবেদন করছি, অবিলম্বে বিক্ষোভ বন্ধ করুন এবং আলোচনায় বসুন। এখন প্রয়োজন শান্তিপূর্ণ সমাধান, ঐতিহাসিক ও জাতীয় ঐক্য রক্ষা করা।” পাশাপাশি তিনি শোকপ্রকাশ করেন নিহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি। তাঁর কথায়, “নেপালের ইতিহাস জুড়ে সেনা সবসময় দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থেকেছে। এই কঠিন পরিস্থিতিতেও আমরা সেই দায়িত্বে অবিচল।”
গত দু’দিন ধরে ভয়াবহ পরিস্থিতি নেপালে। সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করে দেওয়ার প্রতিবাদে রাস্তায় নাম তরুণ প্রজন্ম। তারপর কার্যত পরিস্থিতি চলে যায় হাতের বাইরে। পুলিশের গুলিতে অন্তত ২২ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়েছে। সেই ক্ষোভেই আরও তীব্র হয় আন্দোলন।
বিক্ষোভকারীদের একাংশ সরকারি ভবন ও নেতাদের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এমনকী সংসদ ভবনও রেহাই পায়নি। তীব্র চাপের মুখে মঙ্গলবার পদত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী ওলি সহ একাধিক মন্ত্রী। তাঁরা সকলে দেশ ছাড়বেন বলেই জল্পনা। এরই মাঝে দেশের অর্থমন্ত্রী এবং উপপ্রধানমন্ত্রী বেধড়ক মার খেয়েছেন উত্তেজিত জনতার দ্বারা। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর বাড়িতে আগুন লাগানোর মৃত্যু হয়েছে তাঁর স্ত্রীর। সবমিলিয়ে নেপালজুড়ে বর্বর ঘটনা ছেড়ে গেছে।
এদিকে সেনা নিয়ন্ত্রণে এসেছে কাঠমান্ডু বিমানবন্দর ও সরকারি সচিবালয়। সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে জরুরি পরিষেবার গাড়ি যেমন অ্যাম্বুল্যান্স বা শববাহী গাড়িকে ছাড় দেওয়া হয়েছে।
ওলি এবং তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তরুণ প্রজন্মের কণ্ঠরোধ করতে সরকার ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপের মতো প্ল্যাটফর্মে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। সোমবার সকাল থেকে শুরু হওয়া প্রতিবাদ রাতের মধ্যে ভয়াবহ রূপ নেয়। প্রবল চাপের মুখে সোমবার গভীর রাতেই সরকার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়। কিন্তু তাতেও আন্দোলন স্তিমিত হয়নি।