দুই দেশের বাণিজ্যেও বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা সমস্যায় পড়েছেন কারণ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে।

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 10 September 2025 08:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা জারির পর থেকেই নেপালে অস্থিরতা চরমে পৌঁছেছে (Nepal Clash)। সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছেন 'জেন জি'রা। রাজধানী-কাঠমান্ডু সহ একাধিক শহরে বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় নেমে ভাঙচুর চালিয়েছেন। আদালত ভবন ও রাস্তাঘাটে আগুন লাগানোর ঘটনাও ঘটেছে। ২১ জন আন্দোলনকারীর মৃত্যুর খবরও পাওয়া গেছে। এমন সময় অনির্দিষ্টকালের জন্য বাংলা থেকে নেপাল যাওয়ার বাস পরিষেবা বন্ধ করা হল (Siliguri-Nepal Bus Service Disrupted)।
নেপালের অশান্ত পরিবেশের প্রভাব সরাসরি এসে পড়েছে ভারতে। ইতিমধ্যেই ভারত-নেপাল বাস পরিষেবা (Siliguri-Nepal Bus Service Disrupted) অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শিলিগুড়ি থেকে কাঠমান্ডু পর্যন্ত এনবিএসটিসির নিয়মিত বাস চলাচল হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাত্রীরা বিপাকে পড়েছেন। বহু মানুষের কলকাতা থেকেও নেপাল যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু বাস পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁরা আটকে গেছেন। অন্যদিকে নেপালে থাকা বহু ভারতীয়ও পরিবার-পরিজনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না, ফলে দুশ্চিন্তা বেড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সতর্ক ভারত। সীমান্ত এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে সশস্ত্র বাহিনী। নজরদারি ও টহলদারি জোরদার করা হয়েছে যাতে নেপালের রাজনৈতিক অশান্তি সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে না ঢোকে। এছাড়া, দুই দেশের বাণিজ্যেও বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা সমস্যায় পড়েছেন কারণ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, সামাজিক মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন রাজপথে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে রূপ নিয়েছে। এর আগেও প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী সহ একাধিক প্রভাবশালী নেতার বাড়ি ও সংসদ ভবনে হামলার খবর পাওয়া গেছে। ওলি এবং তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তরুণ প্রজন্মের কণ্ঠরোধ করতে সরকার ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপের মতো প্ল্যাটফর্মে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল (Nepal's Gen Z Protest)।
বিভিন্ন ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে যেখানে দেখা যাচ্ছে, নেপালের উপপ্রধানমন্ত্রী তথা অর্থমন্ত্রী বিষ্ণু পৌডেলকে রাস্তায় দেখতে পেয়ে তাড়া করেন একদল বিক্ষোভকারী। ফেলে পেটানো হচ্ছে তাঁকে। দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবা এবং বিদেশমন্ত্রী আরজু রানাও মার খেয়েছেন আন্দোলনকারীদের হাতে। যদিও কোনও ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি দ্য ওয়াল। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। সেই অগ্নিকাণ্ডে (Fire) প্রাণ হারিয়েছেন তাঁর স্ত্রী রাজ্যলক্ষ্মী চিত্রকার।
এই অবস্থায় পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে নেপাল সেনা। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে সেনার তরফে জানানো হয়েছে, প্রাণহানি এবং সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তির ক্ষতিতে তারা গভীরভাবে মর্মাহত। নিহতদের পরিবারকে সমবেদনা ও আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছে সেনা।