সামাজিক মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন রাজপথে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে রূপ নিয়েছে। এর আগেও প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী সহ একাধিক প্রভাবশালী নেতার বাড়ি ও সংসদ ভবনে হামলার খবর পাওয়া গেছে।
.jpg.webp)
ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 10 September 2025 07:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নেপালের অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন ভারত। সরকারের বিরুদ্ধে 'জেন জি'দের বিক্ষোভে কার্যত ধ্বংসলীলা শুরু হয়েছে প্রতিবেশী দেশে। চাপের মুখ প্রধানমন্ত্রী ওলি পদত্যাগ করেছেন। তাঁর দেশ ছাড়ার জল্পনাও চলছে। রাষ্ট্রপতির ইস্তফার পর দেশের শাসনভার গেছে নেপালের সেনার হাতে। এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Narendra Modi) বন্যা কবলিত রাজ্যগুলি পরিদর্শনের পর ফিরে এসে মন্ত্রিসভায় একটি উচ্চপর্যায়ের জরুরি বৈঠক করেন। এনিয়ে এক্স হ্যান্ডেলে পোস্টও করেছেন মোদী (Narendra Modi on Nepal Clash)।
প্রধানমন্ত্রী লেখেন, 'নেপালে ঘটে যাওয়া সহিংসতা হৃদয়বিদারক। অনেক তরুণ প্রাণ হারিয়েছে, যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। নেপালের স্থিতিশীলতা, শান্তি ও সমৃদ্ধি আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।' তিনি আরও উল্লেখ করেন, 'আমি নেপালের সমস্ত ভাই ও বোনদের প্রতি বিনীতভাবে আহ্বান জানাই, শান্তি বজায় রাখুন এবং একসঙ্গে দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে সহায়তা করুন।'
On my return from Himachal Pradesh and Punjab today, a meeting of the Cabinet Committee on Security discussed the developments in Nepal. The violence in Nepal is heart-rending. I am anguished that many young people have lost their lives. The stability, peace and prosperity of…
— Narendra Modi (@narendramodi) September 9, 2025
সামাজিক মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন রাজপথে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে রূপ নিয়েছে। এর আগেও প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী সহ একাধিক প্রভাবশালী নেতার বাড়ি ও সংসদ ভবনে হামলার খবর পাওয়া গেছে। ওলি এবং তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তরুণ প্রজন্মের কণ্ঠরোধ করতে সরকার ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপের মতো প্ল্যাটফর্মে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল (Nepal's Gen Z Protest)।
বিভিন্ন ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে যেখানে দেখা যাচ্ছে, নেপালের উপপ্রধানমন্ত্রী তথা অর্থমন্ত্রী বিষ্ণু পৌডেলকে রাস্তায় দেখতে পেয়ে তাড়া করেন একদল বিক্ষোভকারী। ফেলে পেটানো হচ্ছে তাঁকে। দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবা এবং বিদেশমন্ত্রী আরজু রানাও মার খেয়েছেন আন্দোলনকারীদের হাতে। যদিও কোনও ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি দ্য ওয়াল।
মঙ্গলবার কাঠমান্ডুর (Kathmandu) দাল্লু এলাকায় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী (Ex PM) ঝালানাথ খানালের (Jhalanath Khanal) বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। সেই অগ্নিকাণ্ডে (Fire) প্রাণ হারালেন তাঁর স্ত্রী রাজ্যলক্ষ্মী চিত্রকার (Rabi Laxmi Chitrakar)।
এই অবস্থায় পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে নেপাল সেনা। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে সেনার তরফে জানানো হয়েছে, প্রাণহানি এবং সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তির ক্ষতিতে তারা গভীরভাবে মর্মাহত। নিহতদের পরিবারকে সমবেদনা ও আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছে সেনা।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, নেপালের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং জনগণের নিরাপত্তা রক্ষায় সংবিধান অনুযায়ী দায়িত্ব পালনে সেনা সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে বিশেষত তরুণ প্রজন্মকে আহ্বান জানানো হয়েছে - এই সঙ্কটের সময়ে শান্তি, সামাজিক সম্প্রীতি এবং জাতীয় ঐক্য বজায় রাখতে তারা যেন গঠনমূলক ভূমিকা পালন করে।