নেপালজুড়ে তীব্র বিক্ষোভ চলছে সরকারের বিরুদ্ধে। সামাজিক মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন রাজপথে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে রূপ নিয়েছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 9 September 2025 18:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নেপালের (Nepal Protest) অশান্ত পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিল। মঙ্গলবার কাঠমান্ডুর (Kathmandu) দাল্লু এলাকায় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী (Ex PM) ঝালানাথ খানালের (Jhalanath Khanal) বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। সেই অগ্নিকাণ্ডে (Fire) প্রাণ হারালেন তাঁর স্ত্রী রাজ্যলক্ষ্মী চিত্রকার (Rabi Laxmi Chitrakar)।
পরিবারের সূত্রে খবর, বাড়িতে আগুন লাগার সময় রাজ্যলক্ষ্মী চিত্রকার ভিতরে আটকে পড়েন। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাঁকে কির্তিপুর বার্ন হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু চিকিৎসকেরা তাঁর প্রাণ ফেরাতে ব্যর্থ হন।
নেপালজুড়ে তীব্র বিক্ষোভ (Gen Z Protest) চলছে সরকারের বিরুদ্ধে। সামাজিক মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন রাজপথে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে রূপ নিয়েছে। এর আগেও প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী সহ একাধিক প্রভাবশালী নেতার বাড়ি ও সংসদ ভবনে হামলার খবর পাওয়া গেছে।
রাজধানীর বুকে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের এই মর্মান্তিক মৃত্যু নেপালের রাজনৈতিক অস্থিরতাকে আরও জটিল করে তুলল। এর আগে বিভিন্ন ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে যেখানে দেখা যাচ্ছে, নেপালের উপপ্রধানমন্ত্রী তথা অর্থমন্ত্রী বিষ্ণু পৌডেলকে রাস্তায় দেখতে পেয়ে তাড়া করেন একদল বিক্ষোভকারী। ফেলে পেটানো হচ্ছে তাঁকে। দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবা এবং বিদেশমন্ত্রী আরজু রানাও মার খেয়েছেন আন্দোলনকারীদের হাতে। যদিও কোনও ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি দ্য ওয়াল।
শুধু তাই নয়, নেপালের বিভিন্ন প্রান্তে নেতা-মন্ত্রীদের বাড়িতে আগুন লাগানোর পাশাপাশি আগুন ধরানো হয়েছে নেপালের সংসদ ভবনেও।
এই অবস্থায় পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে নেপাল সেনা। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে সেনার তরফে জানানো হয়েছে, প্রাণহানি এবং সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তির ক্ষতিতে তারা গভীরভাবে মর্মাহত। নিহতদের পরিবারকে সমবেদনা ও আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছে সেনা।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, নেপালের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং জনগণের নিরাপত্তা রক্ষায় সংবিধান অনুযায়ী দায়িত্ব পালনে সেনা সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে বিশেষত তরুণ প্রজন্মকে আহ্বান জানানো হয়েছে - এই সঙ্কটের সময়ে শান্তি, সামাজিক সম্প্রীতি এবং জাতীয় ঐক্য বজায় রাখতে তারা যেন গঠনমূলক ভূমিকা পালন করে।
সোমবার সকাল থেকে শুরু হওয়া প্রতিবাদ রাতের মধ্যে ভয়াবহ রূপ নেয়। সেনা ও পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন এখনও পর্যন্ত ২২ জন, আহত হন ৩০০-র বেশি। প্রবল চাপের মুখে সোমবার গভীর রাতেই সরকার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়। কিন্তু তাতেও আন্দোলন স্তিমিত হয়নি।