প্রথমে ফেসবুক-টিকটক নিষিদ্ধকরণের প্রতিবাদে পথে নেমেছিল মানুষ। কিন্তু সেই আগুনে ঘি ঢালে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অসন্তোষ, দুর্নীতি আর শাসকদলের প্রতি আস্থা হারানো জনতার ক্ষোভ।

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 9 September 2025 17:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'জেন জি'দের বিক্ষোভ-প্রতিবাদে জ্বলছে নেপাল। সামাজিক মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা (Social Media Banned) ও দুর্নীতির (Scam) অভিযোগ ঘিরে শুরু হওয়া বিক্ষোভে তীব্র রক্তপাতের পরে পদত্যাগ করেছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী ওলি (Nepal PM Resigns)। টানা দ্বিতীয় দিনে রাস্তায় নেমে আসা জনতার ক্ষোভ রূপ নিয়েছে হিংসায়। বিক্ষোভকারীরা দখল করেছে সংসদ ভবন, আগুন লাগানো হয়েছে বিমানবন্দরে। এই পরিস্থিতিতে দিল্লি থেকে কাঠমান্ডুগামী একাধিক বিমান পরিষেবা বাতিল করা হয়েছে। এরমধ্যে এয়ার ইন্ডিয়ার চারটি বিমান বাতিল করা হয়। পাশাপাশি ইন্ডিগো ও নেপাল এয়ারলাইন্সও (IndiGo and Nepal Airlines) দিল্লি থেকে কাঠমান্ডুতে নির্ধারিত উড়ান বন্ধ করে দেয় (Air India, IndiGo Cancel Flights To Kathmandu)।
জানা গিয়েছে, কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমান মঙ্গলবার কাঠমান্ডুর উদ্দেশে রওনা হয়েছিল, কিন্তু অবতরণের আগে রানওয়ের কাছে ধোঁয়া দেখা যাওয়ায় সেটিকে ফের দিল্লিতে ফিরে আসতে হয়।
এয়ার ইন্ডিয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, 'বর্তমান পরিস্থিতির কারণে দিল্লি-কাঠমান্ডু-দিল্লি রুটে চলাচলকারী এআই ২২৩১/২২৩২, এআই ২২১৯/২২২০, এআই ২১৭/২১৮ এবং এআই ২১১/২১২ বিমানগুলি আজ বাতিল করা হয়েছে। আমরা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছি এবং পরবর্তী আপডেট জানিয়ে দেওয়া হবে।'
প্রতিদিন দিল্লি ও কাঠমান্ডুর মধ্যে এয়ার ইন্ডিয়ার ছ’টি বিমান পরিষেবা দেয়। কিন্তু মঙ্গলবার নেপালে অশান্ত পরিস্থিতির কারণে পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে। উল্লেখ্য, নেপালে গত কয়েকদিন ধরে তীব্র সরকার বিরোধী আন্দোলন চলছে।
ওলি এবং তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তরুণ প্রজন্মের কণ্ঠরোধ করতে সরকার ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপের মতো প্ল্যাটফর্মে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। সোমবার সকাল থেকে শুরু হওয়া প্রতিবাদ রাতের মধ্যে ভয়াবহ রূপ নেয়। সেনা ও পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান অন্তত ২১ জন, আহত হন ৩০০-র বেশি। প্রবল চাপের মুখে সোমবার গভীর রাতেই সরকার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়। কিন্তু তাতেও আন্দোলন স্তিমিত হয়নি।
প্রথমে ফেসবুক-টিকটক নিষিদ্ধকরণের প্রতিবাদে পথে নেমেছিল মানুষ। কিন্তু সেই আগুনে ঘি ঢালে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অসন্তোষ, দুর্নীতি আর শাসকদলের প্রতি আস্থা হারানো জনতার ক্ষোভ। আর সেই আন্দোলনই এখন নেপালের রাজনীতিকে ঠেলে দিয়েছে অস্থিরতার গভীর খাদে।