প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এবং নেপালি কংগ্রেসের সভাপতি শের বাহাদুর দেউবার বুধানিকণ্ঠ এলাকার বাড়ির সামনেও ঘেরাও বিক্ষোভ চলছে।

পুষ্পকমল দাহাল ‘প্রচণ্ড’
শেষ আপডেট: 9 September 2025 14:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তরুণ প্রজন্মের প্রতিবাদের জের (Gen Z Protest)। ইতিমধ্যে নেপালের প্রধানমন্ত্রীর (Nepal PM) পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন কে পি ওলি (KP Oli)। বিক্ষোভকারীরা দখল করেছে সংসদ ভবন, আগুন লাগানো হয়েছে বিমানবন্দরে। তিনি এবং আরও ৭-৮ জন মন্ত্রী দেশ ছাড়তে পারেন বলে জল্পনা। এদিকে নেপালের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, জাতীয় ব্যাঙ্কের গভর্নরের বাড়িতেও হামলা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে সিপিএন (মাওবাদী কেন্দ্র) চেয়ারপার্সন তথা নেপালের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী (EX PM) পুষ্পকমল দাহাল ‘প্রচণ্ড’র (Prachanda) খুমালতারের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। দেশের যোগাযোগমন্ত্রী পৃথ্বী সুব্বা গুরুংয়ের সুনাকোঠী বাড়িও ভেঙে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। উপপ্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী বিষ্ণু পৌডেলের ভাইসেপতির বাড়িতে ইট-পাথর ছোড়ে বিক্ষোভকারী তরুণরা। পদত্যাগী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখকের বাড়িতেও হামলা চালানো হয়েছে।
এছাড়াও নেপাল রাষ্ট্র ব্যাঙ্কের গভর্নর বিশ্ব পৌডেলের ভাইসেপতি এলাকার সরকারি বাসভবনেও ঢিল-পাথর ছোড়া হয়। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এবং নেপালি কংগ্রেসের সভাপতি শের বাহাদুর দেউবার বুধানিকণ্ঠ এলাকার বাড়ির সামনেও ঘেরাও বিক্ষোভ চলছে। এখানেই শেষ নয়। উত্তেজিত জনতা নেপালের সংসদ ভবন ভেঙে ঢুকে ভিতরে আগুন ধরিয়ে দেয়। সংসদ চত্বরে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়।
প্রবল সরকার-বিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল অবস্থায় পরবর্তী পরিস্থিতি পর্যালোচনায় সর্বদল বৈঠক ডাকেন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি। মঙ্গলবার সন্ধে ৬টায় ওই বৈঠক হবে বলে স্থির হয়েছিল। আর তাতেই বিভিন্ন মহলে তাঁর সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন মাথাচাড়া দিয়েছিল। এর কিছু পরেই তাঁর ইস্তফা দেওয়ার খবর সামনে আসে। এদিকে, নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, উপপ্রধানমন্ত্রী তথা অর্থমন্ত্রী ও কৃষিমন্ত্রীর পদত্যাগের পর ইস্তফা দেন জল সরবরাহ মন্ত্রী প্রদীপ যাদব।
দেশ ছাড়লে কে পি ওলি যাবেন কোথায়? ভারতের সঙ্গে ওলির সম্পর্ক খারাপ থাকায় তিনি এদেশে রাজনৈতিক আশ্রয় পাবেন না। নেপালের কাছের বন্ধু চিনও তাঁকে নিতে নারাজ। ইস্তফা দিয়ে নিরাপদ পলায়ন চেয়েছেন ওলি। সেইমতো সেনাবাহিনী তাঁকে দুবাই ছেড়ে দিয়ে আসতে পারে। সেনাবাহিনী ওলিকে পালাতে সাহায্য করতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। যদিও বিদ্রোহীরা ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একাংশে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে এবং গোটা চত্বর ঘিরে রেখেছে। যাতে কোনও মন্ত্রী বা পদাধিকারী পালাতে না পারেন।
ওলি এবং তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তরুণ প্রজন্মের কণ্ঠরোধ করতে সরকার ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপের মতো প্ল্যাটফর্মে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। সোমবার সকাল থেকে শুরু হওয়া প্রতিবাদ রাতের মধ্যে ভয়াবহ রূপ নেয়। সেনা ও পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান অন্তত ২১ জন, আহত হন ৩০০-র বেশি। প্রবল চাপের মুখে সোমবার গভীর রাতেই সরকার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়। কিন্তু তাতেও আন্দোলন স্তিমিত হয়নি।