ন্যায় সেতু ভারতীয় বিচার ব্যবস্থার একটি সহায়ক ডিজিটাল সেতু, যা নাগরিক ও বিচার ব্যবস্থার মধ্যে যোগাযোগ সহজ করার একটি মাধ্যম।

গ্রাফিক্স - দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 5 January 2026 17:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আইনি পরামর্শের জন্য এবার তড়িঘড়ি আর আইনজীবীর চেম্বারে ছুটতে হবে না। নতুন বছরের প্রথম দিন, ১ জানুয়ারি ২০২৬, কেন্দ্রীয় আইন ও বিচার মন্ত্রক চালু করল অভিনব আইনি পরিষেবা (Indian Judiciary legal chatbot) ন্যায় সেতু (Nyaya Setu), তাও আবার হোয়াটসঅ্যাপে (WhatsApp free Legal Help)। এই পরিষেবার মাধ্যমে (Nyaya Setu WhatsApp legal help) নাগরিকরা একেবারে বিনামূল্যে পেতে পারেন সম্পত্তি, ডিভোর্স, পারিবারিক বিবাদ, ফৌজদারি মামলা, কর্পোরেট আইনসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রাথমিক আইনি দিকনির্দেশনা।
আইন ও বিচার মন্ত্রক (Ministry of Law and Justice) এক্স (সাবেক টুইটার)-এ জানিয়েছে, “আইনি সহায়তা এখন মাত্র একটি মেসেজ দূরে। হোয়াটসঅ্যাপে ন্যায় সেতু নিয়ে আসছে ‘Ease of Justice’। মোবাইল নম্বর যাচাই করলেই পাওয়া যাবে আইনি পরামর্শ ও তথ্যের একটি একক প্ল্যাটফর্ম।”
হোয়াটসঅ্যাপে ন্যায় সেতু কীভাবে কাজ করে?
এসকেভি ল অফিসেস-এর কাউন্সেল প্রিয়া ধনখড় জানান, ন্যায় সেতু মূলত একটি এআই-চালিত হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটবট (WhatsApp chatbot), যা ২৪ ঘণ্টাই সক্রিয়।
ব্যবহার পদ্ধতি কী?
প্রিয়া ধনখড় বলেন, “এই পরিষেবা পুরোপুরি ফ্রি এবং দেশের যে কোনও প্রান্ত থেকে ব্যবহার করা যায়। অফিসে গিয়ে আইনজীবীর সঙ্গে দেখা না করেও প্রাথমিক আইনি ধারণা পাওয়া সম্ভব।”
ন্যায় সেতুর গুরুত্ব - কী বলছেন আইনজীবীরা?
সিংহানিয়া অ্যান্ড কো-এর ম্যানেজিং পার্টনার রোহিত জৈন বলেন, হোয়াটসঅ্যাপ-ভিত্তিক এই পরিষেবা চালু হওয়ায় আর কমন সার্ভিস সেন্টার বা আইনি দফতরে গিয়ে লাইনে দাঁড়াতে হবে না।
তাঁর কথায়, “ন্যায় সেতুর লক্ষ্য হল জটিল সরকারি ওয়েবসাইটে ঘাঁটাঘাঁটি না করেই আইন ও সরকারি স্কিম সংক্রান্ত তথ্য নাগরিকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া। মামলা আদালতে যাওয়ার আগেই মানুষ যেন নিজের অধিকার ও মামলার শক্তি বুঝতে পারেন।” এই প্ল্যাটফর্ম প্রয়োজনে ব্যবহারকারীকে প্যানেলভুক্ত আইনজীবীদের সঙ্গেও যুক্ত করে দেয়।
ন্যায় সেতু কি সরাসরি আইনি পরামর্শ দেয়?
পিএসএল অ্যাডভোকেটস অ্যান্ড সলিসিটর্স-এর ম্যানেজিং পার্টনার সমীর জৈন পরিষ্কার করেন, “ন্যায় সেতু সরাসরি আইনি রায় বা চূড়ান্ত পরামর্শ দেয় না। এটি মূলত মানুষকে আইনি ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পথ সহজ করে।”
তাঁর মতে, এই প্ল্যাটফর্ম Tele-Law, Nyaya Bandhu, Legal Services Authorities-এর মতো আইনি সহায়তা ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করে। বিশেষ করে লিগাল সার্ভিসেস অথরিটিস অ্যাক্ট, ১৯৮৭ (Legal Services Authorities Act, 1987)-এর সেকশন ১২-এর আওতায় কারা বিনামূল্যে আইনি সহায়তা পাবেন, সেই তথ্য বুঝতে সাহায্য করে ন্যায় সেতু।
ডিভোর্স ও পারিবারিক মামলায় কি সাহায্য মিলবে?
এককথায়, হ্যাঁ। আইন ও বিচার মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ন্যায়া সেতুর আওতায় রয়েছে -
প্রিয়া ধনখড় জানান, “ডিভোর্সের প্রক্রিয়া, ভরণপোষণের অধিকার বা সন্তানের হেফাজত নিয়ে প্রাথমিক প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে। তবে আদালতে মামলা চালানোর জন্য অবশ্যই একজন আইনজীবীর প্রয়োজন হবে।”
কেন গুরুত্বপূর্ণ ন্যায় সেতু?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিষেবার সবচেয়ে বড় সাফল্য হল -
সব মিলিয়ে, ন্যায় সেতু ভারতীয় বিচার ব্যবস্থার একটি সহায়ক ডিজিটাল সেতু, যা আদালত বা আইনজীবীদের বিকল্প নয়, বরং নাগরিক ও বিচার ব্যবস্থার মধ্যে যোগাযোগ সহজ করার একটি মাধ্যম।