সোমবার সংসদে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান (Education Minister Dharmendra Pradhan) বিকশিত ভারত অধিসংস্থান বিল পেশ করেন। ওই বিলে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন সহ একাধিক নিয়ামক সংস্থার ক্ষমতা সরকার নিজের হাতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 17 December 2025 08:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতীয় ফৌজদারী দণ্ডবিধি বা ইন্ডিয়ান পেনাল কোড (Indian Penal Code) এখন ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (Bharatiya Nyaya Sanhita)। চলতি বছরের পয়লা জুলাই থেকে চালু হওয়া নতুন অপরাধ আইনটি ভারত ন্যায় সংহিতার কোন ইংরেজি নাম নেই। ইংরেজি সহ সব ভারতীয় ভাষাতেই ভারতীয় ন্যায় সংহিতা লিখতে হবে।
মহাত্মা গান্ধী গ্রামীণ রোজগার নিশ্চয়তা প্রকল্প যা একশ দিনের কাজের প্রকল্প নামে পরিচিত সেটি বদলে দুটি আইন চালু করতে চলেছে ভারত সরকার। একটি হলো বিচ্ছেদ ভারত গ্যারান্টি ফর রোজগার এবং আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ)। সংক্ষেপে বিভি-জি এবং রামজি)।
সোমবার সংসদে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান (Education Minister Dharmendra Pradhan) বিকশিত ভারত অধিসংস্থান বিল পেশ করেন। ওই বিলে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন সহ একাধিক নিয়ামক সংস্থার ক্ষমতা সরকার নিজের হাতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। হালে ইন্ডিয়ান এয়ারক্রাফট অ্যাক্ট বদলে করা হয়েছে ভারতীয় বায়ুজান বিধয়ক।
এইভাবে একের পর এক আইনের হিন্দি নামকরণ নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন দলের সংসদেরা। সবচেয়ে মুখর দক্ষিণ ভারতের এমপিরা। তাঁদের বক্তব্য এই ভাবে ভারত সরকার হিন্দি চাপিয়ে দিচ্ছে। শিক্ষা সংক্রান্ত বিলটি নিয়ে কেরলের আরএসপি সাংসদ এন কে রামচন্দ্রান হিন্দি নামকরণের বিরোধিতা করে দীর্ঘ ভাষণ দেন।
এই ব্যাপারে সংবিধান এবং সংসদের বিধি কী বলছে? সংবিধানের ৩৪৮ (বি) (১) অনুযায়ী সরকারের যাবতীয় আইন নির্দেশিকা, বিধি অন্যান ভাষার পাশাপাশি ইংরেজিতেও হতে হবে। সংবিধানে এই সংক্রান্ত বিধি অন্তর্ভুক্ত করার সময় যে বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছিল তা হল হিন্দি ভাষা থেকে অনুবাদ সংক্রান্ত সমস্যা। বিতর্কে বলা হয়েছিল, শুধু হিন্দিতে আইন কানুন তৈরি হলে সেগুলির অন্যান্য ভারতীয় ভাষায় অনুবাদের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হবে। সেই সমস্যা কাটিয়ে ওঠার সহজ সমাধান হলো আইন এবং নির্দেশিকা বিধি ইত্যাদি ইংরেজিতেও তৈরি করা।
স্বাধীনতার আগে থেকে অর্থাৎ সংবিধান রচনার পূর্বেই এই নিয়ম মেনে ভারত সরকারের কাজকর্ম হয়ে এসেছে। কিন্তু বিজেপি সরকার বিগত কয়েক বছর যাবত সরকারি কাজে হিন্দির ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়ে দিয়েছে। এমনকী সরকারি অনুষ্ঠানে 'ইন্ডিয়া' শব্দটির ব্যবহার ও কমিয়ে ফেলা হচ্ছে। পরিবর্তে লেখা হচ্ছে ভারত। যেমন সম্প্রতি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ভারত সফরের সময় সরকারি অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সামনে নেম পেপারে লেখা ছিল প্রেসিডেন্ট অফ ভারত এবং প্রাইম মিনিস্টার অফ ভারত। বিরোধী রাজনৈতিক দল এবং সমাজের বিশিষ্টজনদের একাংশ মনে করছেন এইভাবে নরেন্দ্র মোদি সরকার 'এক দেশ এক ভাষা নীতি' কার্যকর করছে।