ইউজার সংখ্যা দ্রুত বাড়ায় সারাদেশে লঞ্চের ইঙ্গিতও মিলছে। এখন দেখার, এই সরকারি মডেল (Bharat Taxi Government app) আদৌ কি ওলা-উবারের মতো সংস্থাগুলিকে টেক্কা দিতে পারবে?

গ্রাফিক্স - দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 5 January 2026 13:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশ জুড়ে দ্রুত জনপ্রিয়তা বাড়াচ্ছে নতুন ক্যাব পরিষেবা অ্যাপ ভারত ট্যাক্সি (Bharat Taxi)। কেন্দ্রীয় সরকারের সমর্থনে চালু হওয়া এই অ্যাপ ক্যাব (Government cab app) ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ব্যবহারকারীদের (Bharat Taxi users) নজর কেড়েছে। সরকারি সূত্রের দাবি, অ্যাপটি চালু হওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই প্রতিদিন দশ হাজারের বেশি নতুন রেজিস্ট্রেশন হচ্ছে।
সহযোগিতা মন্ত্রকের (Ministry of Cooperation) সমর্থনে তৈরি এই ক্যাব-হেলিং প্ল্যাটফর্ম এখন অ্যান্ড্রয়েড (android) ও আইওএস (iOS) - দু’টি প্ল্যাটফর্মেই রয়েছে। প্রাথমিক ব্যবহারের অভিজ্ঞতার নিরিখে স্পষ্ট, জনপ্রিয় রাইড-হেলিং অ্যাপগুলির ভিড়েও ধীরে ধীরে নিজের জায়গা করে নিতে শুরু করেছে ভারত ট্যাক্সি (Bharat Taxi app)।
প্রতিদিন ৪০–৪৫ হাজার নতুন ব্যবহারকারী
ভারত ট্যাক্সির দ্রুত উত্থানের তথ্য সামনে এসেছে ভারত সরকারের সহযোগিতা মন্ত্রকের অফিসিয়াল X (আগের টুইটার) হ্যান্ডেল থেকে। সেখানে জানানো হয়েছে, এখনও পর্যন্ত অ্যাপটিতে ৪ লক্ষের বেশি গ্রাহক রেজিস্টার করেছেন। গত দু’দিন ধরে প্রতিদিন গড়ে ৪০ থেকে ৪৫ হাজার নতুন ব্যবহারকারী যুক্ত হচ্ছেন।
বর্তমানে গুগল প্লে স্টোরে ভারত ট্যাক্সির অবস্থান নবম, আর অ্যাপল অ্যাপ স্টোরে রয়েছে তেরো নম্বরে। চালকদের জন্য তৈরি আলাদা অ্যাপটি গুগল প্লে স্টোরে রয়েছে ২০ নম্বরে।

সহযোগিতা মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, এটি একটি বড়সড় সর্বভারতীয় লঞ্চের আগে প্রস্তুতিমূলক পর্যায়। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সহযোগিতা মন্ত্রী অমিত শাহের ‘আত্মনির্ভর ভারত’ এবং ‘সহকার সে সমৃদ্ধি’ ভাবনার অংশ হিসেবেই ভারত ট্যাক্সিকে তুলে ধরা হচ্ছে।
কী কী সুবিধা দিচ্ছে ভারত ট্যাক্সি?
ভিড় ঠাসা ক্যাব অ্যাগ্রিগেশন বাজারে সরকারি সমর্থনে তৈরি, সমবায়ভিত্তিক বিকল্প হিসেবে ভারত ট্যাক্সির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন অমিত শাহ। অ্যাপটির দাবি, এখানে থাকছেন পুলিশ-ভেরিফায়েড ড্রাইভার, সঙ্গে যাতায়াত পরিষেবায় স্বচ্ছতার উপর বিশেষ জোর।
ব্যবহারকারীর দিক থেকে অ্যাপটির ইন্টারফেস পরিষ্কার ও সহজ। শহরের মধ্যে ক্যাব বুকিং প্রক্রিয়া বেশ সরল। শুধু ক্যাবই নয়, অ্যাপের মধ্যে রয়েছে মেট্রো টিকিট বুকিংয়ের সুবিধা, এবং রেন্টাল অপশন, যেখানে সর্বোচ্চ ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত গাড়ি বুক করা যায়।
নিরাপত্তায় জোর, তবে বাস্তব অভিজ্ঞতা এখনও বাকি
নিরাপত্তা নিয়ে অ্যাপের মধ্যে আলাদা গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন ব্যানারে দেখা যায় -
এই ফিচারগুলির অনেকটাই উবারের মতো অ্যাপে আগে থেকেই পরিচিত। তবে বাস্তবে কতটা কার্যকরভাবে এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা কাজ করবে, তা বোঝা যাবে ব্যাপক ব্যবহারের পরই।
কোথায় খামতি?
প্রাথমিক ব্যবহারে কিছু সীমাবদ্ধতাও সামনে এসেছে। যেমন -
চালকদের জন্য সবচেয়ে বড় প্রতিশ্রুতি
ভারত ট্যাক্সির সবচেয়ে বড় দাবি, এটি চালকবান্ধব প্ল্যাটফর্ম। শুরুতে চালকদের থেকে কোনও কমিশন না নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে - অর্থাৎ যাত্রী যে ভাড়া দিচ্ছেন, তার পুরোটা চালকের কাছেই যাবে।
যদিও ET Now-এর একটি রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ভবিষ্যতে ২০ শতাংশ পর্যন্ত ফি চালু হতে পারে। তবে অ্যাপ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, সেই অর্থও কোনও না কোনও ভাবে চালকদের মধ্যেই ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
এ ছাড়াও, ওলা ও উবারের মতো এয়ারপোর্টে নির্দিষ্ট পিক-আপ ও ড্রপ পয়েন্ট তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। ভবিষ্যতে বড় পরিবহন কেন্দ্রগুলিতেও এই মডেল চালু করার কথা ভাবা হচ্ছে।
সামনে কী চ্যালেঞ্জ?
এই মুহূর্তে ভারত ট্যাক্সির সাফল্য নির্ভর করছে বাস্তব প্রয়োগের উপর -
ব্যবহারকারীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে এবং সর্বভারতীয় লঞ্চের ইঙ্গিতও মিলছে। এখন দেখার, সমবায়ভিত্তিক এই সরকারি মডেল আদৌ কি ওলা-উবারের মতো প্রতিষ্ঠিত সংস্থাগুলিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে পারে, নাকি এটি ভারতের দ্রুতগতির মোবিলিটি বাজারে সীমিত পরিস্থিতিতেই আটকে থাকবে।