মুম্বই পরিবহণ জানিয়েছে, বর্তমানে কালো-হলুদ ট্যাক্সির ভাড়া নন-এসি গাড়ির ক্ষেত্রে কিলোমিটার প্রতি ২০.৬৬ টাকা এবং এসি গাড়ির ক্ষেত্রে ২২.৭২ টাকা। এই হারকেই বেস ভাড়া হিসেবে মেনে চলতে হবে।

উবার, ওলা-সহ অ্যাপ ক্যাব ভাড়ায় নতুন নির্দেশ।
শেষ আপডেট: 19 September 2025 15:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুম্বই মহানগর অঞ্চলের পরিবহন কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি ওলা, উবার (uber) এবং র্যাপিডো-সহ (rapido) অ্যাপ-ভিত্তিক ট্যাক্সি ও অটো পরিষেবা সংস্থাগুলিকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে—তাদের বেস ভাড়া এখন থেকে হলুদ-কালো ট্যাক্সির ভাড়ার সমান রাখতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে নতুন ভাড়া কাঠামো (new aap cab fare) ঘোষণার আগ পর্যন্ত এই নিয়ম কার্যকর থাকবে।
১৬ সেপ্টেম্বর জারি হওয়া চিঠিতে মুম্বই পরিবহণ জানিয়েছে, বর্তমানে কালো-হলুদ ট্যাক্সির ভাড়া নন-এসি গাড়ির ক্ষেত্রে কিলোমিটার প্রতি ২০.৬৬ টাকা এবং এসি গাড়ির ক্ষেত্রে ২২.৭২ টাকা। এই হারকেই বেস ভাড়া হিসেবে মেনে চলতে হবে।
পরিবহন কমিশনারের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা এমএমআরটিএ-র সচিব ভরৎ কালাস্কার বলেন, “যখন চাহিদা কম থাকবে তখন ২৫ শতাংশ ছাড় দেওয়া যেতে পারে। আবার বেশি চাহিদার সময়ে সর্বোচ্চ ১.৫ গুণ সার্জ প্রযোজ্য হবে।” নতুন নির্দেশে আরও বলা হয়েছে, ভাড়ার ৮০ শতাংশ ড্রাইভারদের হাতে পৌঁছবে।
অ্যাপ-ভিত্তিক ট্যাক্সি ও অটোচালক ইউনিয়নগুলি দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছিল। সরকার যদি পদক্ষেপ না করে তবে তারা আন্দোলনে নামবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছিল। এই চাপের জেরেই পরিবহন কর্তৃপক্ষ জরুরি ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
যাত্রীদের ক্ষেত্রে এর ফলে বাড়তি খরচ যোগ হবে। এখনকার তুলনায় কিলোমিটারপ্রতি অন্তত ৫ টাকা বেশি দিতে হবে। বর্তমানে অ্যাপ-ভিত্তিক ছোট ক্যাবগুলিতে বেস ভাড়া ১৫-১৬ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়।
মুম্বইয়ে ‘ভারতীয় গিগ কর্মী মঞ্চ’ নামে এক সংগঠন পরিবহন কমিশনারের অফিসে বিক্ষোভ দেখায়। তারা মোটরবাইক ট্যাক্সিকে লাইসেন্স দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে। বিক্ষোভকারীরা ‘ওলা উবর র্যাপিডো মন্ত্রালয়’ লেখা বোর্ড অফিসে লাগিয়ে দেন।
তাদের নিশানায় ছিলেন মহারাষ্ট্রের পরিবহনমন্ত্রী প্রতাপ সর্ণাইকও। সম্প্রতি তিনি ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য একটি টেসলা কিনেছেন। সেই প্রসঙ্গ টেনে আন্দোলনকারীরা স্লোগান দেন—“টেসলা মন্ত্রী হায় হায়!”
ইউনিয়ন জানিয়েছে, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে নামবে তারা যদি সরকার ভাড়া না বাড়ায় এবং বাইক ট্যাক্সিকে ছাড়পত্র দেয়।
এই ঘটনা কলকাতার অ্যাপ ক্যাব পরিষেবাতেও আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। শহরের বহু যাত্রী অভিযোগ করছেন, সার্জ প্রাইসের জেরে অনেক সময় গন্তব্যভেদে ক্যাব ভাড়া দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে। আবার, ড্রাইভাররাও দাবি করছেন বর্তমান ভাড়া কাঠামোতে তাদের আয় ক্রমেই কমছে।
কালীঘাট থেকে এয়ারপোর্ট বা নিউটাউন-সহ লম্বা রুটে যাতায়াতকারীরা বলছেন, “কখনও ৪০০ টাকার ভাড়া ৭০০ টাকায় পৌঁছে যায়। এতে যাত্রীদের সমস্যার পাশাপাশি ড্রাইভারদের সঙ্গেও অশান্তি তৈরি হচ্ছে।”
পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, মুম্বইয়ের উদাহরণ টেনে কলকাতাতেও এ বিষয়ে রাজ্য সরকারকে উদ্যোগী হতে হবে। কারণ অ্যাপ ক্যাব ভাড়ায় স্পষ্ট নীতি না থাকায় প্রতিদিনই যাত্রী ও চালকদের মধ্যে টানাপড়েন বাড়ছে।
মুম্বইয়ের এই সিদ্ধান্তে যাত্রীদের জন্য বাড়তি খরচের আশঙ্কা তৈরি হলেও, চালকরা কিছুটা স্বস্তি পেতে পারেন। তবে ভবিষ্যতে কলকাতা-সহ অন্যান্য শহরে একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।