শুধু কর্নাটক কংগ্রেসই নয়, শিবকুমারের টাকায় দলের তহবিলের অনেকটাই চলে।

এই ধনাঢ্য ব্যবসায়ীর মোট সম্পত্তির পরিমাণ ১৪১৩ কোটি টাকা।
শেষ আপডেট: 20 November 2025 11:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কর্নাটকের কংগ্রেসি রাজনীতির ‘টাঁকশাল’ উপমুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার মুখ্যমন্ত্রিত্বের গদি নিয়ে বৃহস্পতিবার রাজ্য সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিতে পারেন। অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্র্যাটিক রিফর্মসের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, রাজনীতিতে ডিকে নামে পরিচিত এই ধনাঢ্য ব্যবসায়ীর মোট সম্পত্তির পরিমাণ ১৪১৩ কোটি টাকা। শুধু কর্নাটক কংগ্রেসই নয়, শিবকুমারের টাকায় দলের তহবিলের অনেকটাই চলে। সেই উপমুখ্যমন্ত্রী যিনি গত বিধানসভা ভোটে একক প্রচেষ্টায় দলকে বিজেপির হাত থেকে দখল করেছিলেন, তিনি এদিন রাজ্য সভাপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন।
গান্ধী পরিবারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বিশেষত সনিয়া গান্ধীর স্বঘোষিত ‘মানসপুত্র’ ডিকে যদি সত্যিই কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি পদ থেকে সরে দাঁড়ান, তাহলে তা কন্নড় রাজনীতিতে এক বিরাট লোকসানের হবে কংগ্রেসের পক্ষে। ডিকের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়ার রেষারেষি বিধানসভা ভোটে দলের অভাবনীয় ফলের পর থেকেই। কর্নাটকে কংগ্রেস সরকার গঠন পিছিয়ে যায়, মুখ্যমন্ত্রী পদের লড়াই নিয়ে।
কিন্তু, একেবারে শেষ মুহূর্তে সনিয়া গান্ধীর হস্তক্ষেপে ডিকে মুখ্যমন্ত্রীর গদির মায়া ত্যাগ করেন। সিদ্দারামাইয়া জাতপাতের রাজনীতি ও অভিজ্ঞতার নিরিখে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসেন। কিন্তু তারপর সুশাসন, রাজধর্ম পালন ও দুর্নীতির জালে ফেঁসে যাওয়ার পর থেকে সিদ্দারামাইয়াকে সরিয়ে ডিকেকে বসানোর দাবি উঠতে থাকে। শুধু তাই নয়, রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা জানেন, শুরুতে সিদ্দারামাইয়াকে মুখ্যমন্ত্রী করে মাঝপথ থেকে শিবকুমারকে পরিবর্তনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল হাইকমান্ড থেকেই।
সেই থেকে মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়ার সঙ্গে মনোমালিন্য চলে এসেছে শিবকুমারের। এই দড়ি টানাটানিতে ডিকে বুধবার একটি ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, তিনি রাজ্য সভাপতির পদ থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন। বেঙ্গালুরুতে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আমি চিরস্থায়ী ভাবে এই পদ ধরে রাখতে পারি না। এমনিতেই আমি সভাপতি পদে আছি সাড়ে ৫ বছর ধরে। আগামী মার্চ মাসে ৬ বছর হয়ে যাবে। ডিকে সমর্থকরা তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী পদে বসানোর স্লোগান দিতে থাকলে তিনি বলেন, আপনাদের ভয় পাওয়ার কারণ নেই। আমি প্রথম সারিতেই থাকব।
আমাকে যখন যা দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তা আমি পালন করেছি। কিন্তু রাহুল গান্ধী ও দলের সভাপতি আমাকে কাজ করতে বলেছিলেন, তাই আমার কাজ করে গিয়েছি। অনুষ্ঠানের শেষে শিবকুমার বলেন, কেউ চিরস্থায়ী হতে পারে না। কতদিন একজন একটি চেয়ার আঁকড়ে ধরে রাখতে পারে। আমি যখন যুবক, তখন থেকে আমি বিধায়ক। আমি মন্ত্রীও হয়েছি। এখন আমি প্রবীণ নাগরিক। আমাদের উচিত নতুন নেতাদের সামনের সারিতে নিয়ে আসা।