স্থানীয় ইতিহাস শিক্ষক দিগম্বর গাডে বললেন, “আমরা হয়তো অন্যদের চোখে অন্ধবিশ্বাসী। কিন্তু এ আমাদের বিশ্বাস। নিম্বা দৈত্যই আমাদের রক্ষক, আমাদের দেবতা।”

ছবি-সংগৃহীত।
শেষ আপডেট: 23 August 2025 09:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের গ্রাম মানেই কোনও না কোনও দেবদেবীর আরাধনা। শিব, বিষ্ণু, কৃষ্ণ, দুর্গা—যার যে বিশ্বাস, সেই মতো মন্দির, পূজা, সংস্কার।
কিন্তু আহমেদনগরের (Maharashtra Village Worships A 'Demon') পাঠর্দি তালুকায় আছে এক রহস্যময় জনপদ, যার নাম নান্দুর নিম্বা দৈত্য। এখানে দেবতা হলেন এক ‘দৈত্য’। হ্যাঁ, ভুল পড়ছেন না। আর তাই পুরো গ্রাম জুড়ে নেই কোনও হনুমান মন্দির (No Hanuman Temples)। নেই ‘মারুতি’ নামের গাড়িও (No Maruti Cars)।
গ্রামের প্রবীণরা বলেন, বহু শতাব্দী আগে এখানকার অধিষ্ঠাত্রী ছিলেন ‘নিম্বা দৈত্য’। লোককথায় জানা যায়, হনুমানের সঙ্গে তাঁর সংঘাত হয়। তবু নিম্বা দৈত্য ছিলেন ভগবান রামের একান্ত ভক্ত। রামচন্দ্রের আশীর্বাদেই তাঁকে এই গ্রাম দেবতা হিসাবে মান্যতা দেয়। আজও প্রতিটি বাড়িতে তাঁর পূজা হয়।
হনুমান? এ গ্রামে অশুভ নাম
গ্রামের অলিগলিতে নজর করলেই বোঝা যায়, এখানে হনুমানের নাম উচ্চারণও এড়িয়ে চলেন অনেকেই।
মন্দির: গোটা গ্রামে নেই একটি হনুমান মন্দির।
নাম: শিশুদের নাম রাখা হয় না ‘হনুমান’ বা ‘মারুতি’।
গাড়ি: সবচেয়ে বড় কুসংস্কার—এ গ্রামে চলে না Maruti ব্র্যান্ডের গাড়ি।
প্রায় দুই দশক আগে ডা. সুভাষ দেশমুখ নিজের ক্লিনিকে মারুতি ৮০০ নিয়ে আসতেই রোগীর ভিড় একেবারে উধাও হয়ে যায়। গাড়ি বিক্রি করে টাটা সুমো কেনার পরেই আবার ফিরল লাইন।
বিশ্বাসকে ঘিরে কাহিনি
স্থানীয় বাসিন্দা অশোক দাহিফলে জানান, কয়েক মাস আগে রাস্তায় কাজ করতে আসা এক শ্রমিকের নাম ছিল মারুতি। রাতে হঠাৎই তিনি চেঁচামেচি শুরু করেন, অন্য শ্রমিকদের মারধরও করেন। গ্রামবাসীরা তাঁকে নিম্বা দৈত্য মন্দিরে নিয়ে গিয়ে প্রার্থনা করেন। আশ্চর্যজনকভাবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর জ্ঞান ফেরে।
এমনকি, সরকারি স্কুলে একাধিকবার ‘মারুতি’ নামের শিক্ষক নিয়োগ হলেও তাঁরা নাকি কোনওদিনই স্কুলে আসেননি। এইসব ঘটনাই গ্রামে ‘মারুতি’ নামকে আরও নিষিদ্ধ করেছে।
দৈত্য হলেও পূজা নিষ্ঠাভরে
তবে দৈত্য বলে কোনও রক্তাক্ত রীতি নেই। নান্দুর নিম্বা দৈত্যের ভক্তরা বলেন, এখানে বলিদান হয় না, কোনও ভয়ঙ্কর আচারও নেই। কেবল ভক্তি দিয়ে পূজা করা হয়। প্রতিটি ঘরে তাঁর ছোট্ট মূর্তি।
স্থানীয় ইতিহাস শিক্ষক দিগম্বর গাডে বললেন, “আমরা হয়তো অন্যদের চোখে অন্ধবিশ্বাসী। কিন্তু এ আমাদের বিশ্বাস। নিম্বা দৈত্যই আমাদের রক্ষক, আমাদের দেবতা।”