বাংলা মানেই আবেগ। বাংলা মানেই গর্ব। সেই আবেগ-গর্ব এবার মিশে যাচ্ছে পুজোর শাড়ির পাড়ে।

ছবি-সংগৃহীত।
শেষ আপডেট: 23 August 2025 08:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলা মানেই আবেগ। বাংলা মানেই গর্ব। সেই আবেগ-গর্ব এবার মিশে যাচ্ছে পুজোর (Durga Puja) শাড়ির পাড়ে (Bangla font Saree)। শান্তিপুর–ফুলিয়ার (Shantipur-Fulia) তাঁতশিল্পীদের নতুন সৃষ্টিতে শাড়ির বুননে জায়গা করে নিয়েছে বাংলা হরফ। কোথাও পাড় জুড়ে রবীন্দ্রনাথের কবিতা, কোথাও আঁচলে ফুটে উঠছে সত্যজিৎ রায়ের নাম।
শ’য়ে শ’য়ে বছর ধরে বাংলার ঐতিহ্য বহন করছে গঙ্গার পূর্বপাড়ের এই তাঁতশিল্পীরা। এ বার তাঁদের সৃষ্টিতে যোগ হচ্ছে নতুন অধ্যায়। ‘বাংলা পাড়ের’ শাড়ি যেন বাঙালির ভাষা-সংস্কৃতিকে গর্বের সঙ্গে জড়িয়ে ধরছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসছে অর্ডার। শুধু তাই নয়, বিদেশ থেকেও মিলছে দেদার চাহিদা।
ফুলিয়ার গলিতে এখন সকাল-সন্ধ্যা লুমের শব্দ। কারও হাতে পাড়ে বুনছে “আহা তোমার সঙ্গে প্রাণের খেলা, প্রিয় আমার ওগো প্রিয়”—কবিতার লাইন, আবার কোথাও শাড়ির আঁচলে ফুটে উঠছে—“পুজোর গন্ধ এসেছে”। তাঁতশিল্পীদের দাবি, এই শাড়িই হতে চলেছে এবারের পুজোর সবচেয়ে বড় ‹ট্রাম্প কার্ড।
পদ্মশ্রী বীরেন বসাকের পরিবারের তরফে অভিনব বসাক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “বাংলা লেখা শাড়ির চাহিদা গত বছর থেকেই শুরু হয়েছিল। কিন্তু এ বছর সেই চাহিদা আকাশ ছুঁয়েছে। বিদেশ থেকেও প্রচুর অর্ডার পাচ্ছি আমরা। দেড় হাজার থেকে ৭ হাজার টাকার মধ্যে মিলছে এই শাড়ি।”
ভাষা ও সংস্কৃতির সম্মান রক্ষার আন্দোলনের আবহে ‘বাংলা পাড়ের’ শাড়ি যেন বাঙালির আত্মমর্যাদার প্রতীক হয়ে উঠছে। শান্তিপুর–ফুলিয়ার তাঁতশিল্পীরা বলছেন—“এই পুজোয় বাঙালির আবেগের শাড়ি হবে একেবারেই বাংলার শাড়ি।”