তাঁর মতে, সমস্যা একটাই—ভারতের রাজনীতিকরা নিজেদের ‘প্রিভিলেজড ক্লাস’ মনে করেন। অথচ সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী, গরিব কৃষক—সবার মতোই তাঁদেরও আইন ও সংবিধানের সামনে সমান মর্যাদা।

দেশের প্রাক্তন সলিসিটার জেনারেল।
শেষ আপডেট: 23 August 2025 07:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: “জেলের ভিতর থেকে কেউ সচিবালয় চালাবেন—এটা গণতন্ত্রের চরম অবমাননা।” কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন বিল নিয়ে চলা তর্কবিতর্কে এই ভাষাতেই প্রতিক্রিয়া দিলেন দেশের প্রাক্তন সলিসিটার জেনারেল হরিশ সালভে (Harish Salve)।
লোকসভায় সদ্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ যে সাংবিধানিক সংশোধনী বিল (১৩০তম) পেশ করেছেন, তাতে বলা হয়েছে—প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রী যদি কোনও গুরুতর অপরাধে গ্রেফতারের পর টানা ৩০ দিন জেলে থাকেন, তবে ৩১তম দিনে তাঁদের পদ খোয়াতে হবে (Bill To Sack Ministers)। এই বিল নিয়েই এখন রাজনৈতিক মহলে তুমুল বিতর্ক। বিরোধীদের অভিযোগ, এর অপব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে টার্গেট করা হবে।
কিন্তু সালভের যুক্তি ভিন্ন। তাঁর কথায়, “এখানে পদচ্যুতি নয়, কেবলমাত্র বার্তা দেওয়া হচ্ছে—মন্ত্রীত্ব মানে পবিত্র দায়িত্ব, যা জেলখানার ভিতর থেকে পালন করা যায় না। এটা একেবারেই স্বাভাবিক।”
১৯৯১-র হাওয়ালা ডায়েরি মামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তখন কেউ গ্রেফতার হননি, অথচ অনেক নেতা নিজেরা পদত্যাগ করেছিলেন। আজকের তুলনায় সেই সময়ের রাজনৈতিক শালীনতা অনেক বেশি ছিল বলে মত তাঁর।
বিরোধীরা বলছেন, মিথ্যা মামলায় কাউকে গ্রেফতার করে এভাবে ক্ষমতাচ্যুত করা হলে তা গণতন্ত্র বিরোধী। জবাবে সালভে কটাক্ষ করে বলেন, “সুপ্রিম কোর্ট যদি জামিন না দিয়ে বলে, এই মুহূর্তে তোমার মুক্তি প্রাপ্য নয়, তবে সেটাই মানতে হবে। আদালতকে অবিশ্বাস করা মানে গোটা বিচার ব্যবস্থার উপর অনাস্থা।”
অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে পরোক্ষ আক্রমণ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন—“একজন মুখ্যমন্ত্রী যদি তিহার জেল থেকে দফতর চালান, তবে কি সেটা গণতন্ত্রের মর্যাদা বাড়ায়?”
তাঁর মতে, সমস্যা একটাই—ভারতের রাজনীতিকরা নিজেদের ‘প্রিভিলেজড ক্লাস’ মনে করেন (Politicians Think They Are Privileged Class)। অথচ সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী, গরিব কৃষক—সবার মতোই তাঁদেরও আইন ও সংবিধানের সামনে সমান মর্যাদা।
শেষে সোজাসাপটা মন্তব্য সালভের—“মন্ত্রীত্ব কোনও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, এটা জনগণের আস্থা। আর জনগণ কখনওই চায় না যে গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত কেউ জেল থেকে দেশ চালান।”