বাংলার ভোটযুদ্ধের আগে ভাষাই হয়ে উঠছে প্রধান অস্ত্র—কখনও আবেগ, কখনও রাজনীতি।
.jpeg.webp)
প্রধানমন্ত্রী মোদী।
শেষ আপডেট: 22 August 2025 21:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলায় (Bangla, Bengali Language) কথা বললেই ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে গ্রেফতার বা হেনস্থার অভিযোগে বিজেপিকে 'বাংলা বিরোধী' বলে দাগিয়ে দিয়েছে তৃণমূল। এমন আবহেই শুক্রবার বাংলার মাটিতে (Kolkata, West Bengal)) দাঁড়িয়ে একাধিকবার বাংলায় ভাষণ দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Modi spoke in Bengali)।
রাজনৈতিক মহলের মতে, বছর ঘুরলেই বিধানসভা ভোট। হাতে মেরেকেটে আট মাস। তাই এদিন ৪০ মিনিট ১৪ সেকেন্ডের বক্তৃতার মধ্যে ২ মিনিট ৪২ সেকেন্ড বাংলায় ব্যয় করে বাংলার আবেগ ছুঁতে চাইলেন মোদী। এর পরই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। একই সঙ্গে জনমানসে কৌতূহল—মোদী বাংলায় ঠিক কী কী বললেন?
শুরুতেই বাংলা: বক্তৃতার একেবারে গোড়াতেই টানা ৫৭ সেকেন্ড বাংলায়। মোদীর মুখে, “ভারত মাতা কি জয়! বড়রা প্রণাম নেবেন, ছোটরা ভালবাসা।” তারপর এক নিশ্বাসে একের পর এক মন্দিরের নাম—দক্ষিণেশ্বর কালী, কালীঘাট, করুণাময়ী, দমদম বালাজি হনুমান।
ধর্মীয় আবহ: ১ মিনিট ১২ সেকেন্ডে বললেন, “আজ কৌশিকী অমাবস্যার পুণ্য তিথি।”
রাজনৈতিক বার্তা: ৩ মিনিট ৫৩ সেকেন্ডে উচ্চারণ করলেন, “বাংলার উদয় তবেই বিকশিত ভারতের জয়।”
ছন্দে আক্রমণ: ৭ মিনিট ৫৭ সেকেন্ডে গলা চড়িয়ে বললেন, “টিএমসপি যাবে, বিজেপি আসবে!”
কবিতার ঢঙে: ৯ মিনিট ৩ সেকেন্ডে, “জাগো ওঠো নবজীবনের গানে, নব আলো জ্বালাও প্রাণে প্রাণে।”
ভোটের বার্তা: ১১ মিনিট ২৫ সেকেন্ডে, “টিএমসি যাবে, তবেই আসল পরিবর্তন আসবে। সাচ্চা পরিবর্তন!”
পরিবর্তনের ডাক: ১২ মিনিট ১৭ সেকেন্ডে, “এজন্য বাংলায় চায় আসল পরিবর্তন।”
স্লোগান ঝড়:
১৪.০৯–১৪.১৭: “বাঁচতে চাই, বিজেপি তাই।”
১৭.৪২–১৭.৫০: “টিএমসিকে সরাও, বাংলাকে বাঁচাও।”
২১.৫০–২১.৫৭: “বিকশিত বাংলা, মোদীর গ্যারান্টি। বাংলা ভাষা, বাংলা সংস্কৃতি।”
৩৮.৫৮–৩৯.৩০: দু'বার, “বাঁচতে চাই, বিজেপি তাই!” পরে টানা চারবার এক নিঃশ্বাসে, 'বাঁচতে চাই'
অনেকের মতে, মোদী এদিন নিজের ভাষণে বাংলা ভাষার আবেগে ভর করে ভোট বার্তাই ছড়ালেন।
তৃণমূল অবশ্য আগেই সোশ্যাল মিডিয়ায় কটাক্ষ ছুড়ে রেখেছিল—“আপনি বলছেন বিকশিত বাংলা না হলে বিকশিত ভারত নয়, তাহলে বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাঙালিরাই কেন বারবার হেনস্তার শিকার হচ্ছেন?”
সব মিলিয়ে স্পষ্ট, বাংলার ভোটযুদ্ধের আগে ভাষাই হয়ে উঠছে প্রধান অস্ত্র—কখনও আবেগ, কখনও রাজনীতি।