Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
স্কি, ক্যান্ডেললাইট ডিনার আর পরিবার, বিয়ের জন্মদিনে কোন স্মৃতিতে ভাসলেন আলিয়া? পরপর দু’বার ছাঁটাই! চাকরি হারিয়ে 'বিহারি রোল' বানানো শুরু, এখন মাসে আয় ১.৩ কোটিনববর্ষে সস্তায় পেটপুরে খাওয়া! দুই বাংলার মহাভোজ একই থালিতে, হলিডে ইন-এ শুরু হচ্ছে ‘বৈশাখী মিলনমেলা’কষা মাংস থেকে কাটলেট! নববর্ষে তাজের সমস্ত হোটেলে জিভে জল আনা ভোজ, রইল সুলুকসন্ধানপিএসএল ছেড়ে আইপিএলে আসার কড়া মাশুল! ২ বছরের জন্য সাসপেন্ড কেকেআরের এই পেসার রণবীর-দীপিকার ৮ বছরের দাম্পত্যে বিচ্ছেদ! স্বামীর সঙ্গে বাড়তে থাকা দূরত্বই কি ডিভোর্সের কারণ?'বিজেপির কথায় চললে আমাদের কাছেও তালিকা থাকবে', পুলিশ কর্তাদের চরম হুঁশিয়ারি ব্রাত্য বসুর!একসময় নীতীশকেই কুর্সি থেকে সরানোর শপথ নিয়েছিলেন! তাঁর ছেড়ে যাওয়া পদেই বসলেন শকুনি-পুত্র‘একজনকে ধরলে হাজার জন বেরোবে...’, আইপ্যাক ডিরেক্টর গ্রেফতারের পরই নাম না করে হুঁশিয়ারি মমতারনববর্ষে বাঙালিয়ানার ষোলো আনা স্বাদ! ঢাকাই কালো ভুনা থেকে আম পেঁয়াজির যুগলবন্দি, মিলবে এই রেস্তরাঁয়

মোদীর মুখে স্বদেশি প্রচার, অথচ বিদেশি ব্র্যান্ডে ঘেরা জীবন, স্ববিরোধিতা নয় কি! প্রশ্ন বিরোধীদের

স্বদেশি আন্দোলনের ডাক দিলেন মোদী (PM Narendra Modi), কিন্তু বিদেশি বিলাসবহুল ব্র্যান্ডের ব্যবহার ঘিরে উঠছে প্রশ্ন। সমালোচনায় বিরোধীরা, বিতর্কে জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু প্রধানমন্ত্রী।

মোদীর মুখে স্বদেশি প্রচার, অথচ বিদেশি ব্র্যান্ডে ঘেরা জীবন, স্ববিরোধিতা নয় কি! প্রশ্ন বিরোধীদের

প্রধানমন্ত্রী মোদী।

নিশান্ত চৌধুরী

শেষ আপডেট: 21 September 2025 19:31

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবাসরীয় সন্ধেয় জাতির উদ্দেশে বক্তৃতায় এক প্রকার স্বদেশি আন্দোলনের (Swadeshi Movement) ডাক দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Narendra Modi)। দেশের মানুষের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেছেন,“বহু বিদেশি পণ্য আমাদের রোজকারের জীবনের সঙ্গে জুড়ে গেছে। এর থেকে আমাদের মুক্তি পেতে হবে। এমন জিনিস কিনতে হবে যাতে আমাদের দেশের মানুষের শ্রম রয়েছে, ঘাম রয়েছে। সব দোকানকে সাজাতে হবে স্বদেশি পণ্যে। গর্বের সঙ্গে বলতে হবে, আমি স্বদেশি কিনি, স্বদেশি বিক্রি করি। যখন এটা হবে, তখন দেশের উন্নতিও দ্রুত হবে”।

প্রধানমন্ত্রী যখন উদ্দাত্ত কন্ঠে এ সব কথা বলছেন, তখন অনেকেরই চোখের সামনে ভেসে উঠেছে বেশ কিছু দৃশ্য। ভেসে উঠছে প্রধানমন্ত্রীর কথায় ও ব্যক্তিগত জীবনচর্চার মধ্যে ফারাক ও স্ববিরোধিতা। গত দশ-বারো বছরে বার বার দেখা গিয়েছে মোদী তাঁর জীবনযাপনে বহু বিদেশি পণ্য (Foreign Brand) ব্যবহার করেন। সেই সব জিনিস শুধু বিদেশি নয়, বহুমূল্যও বটে।

ইন্ডিয়া টুডে একটি প্রতিবেদনে লিখেছিল, নরেন্দ্র মোদীর অন্যতম দুর্বলতা হল ডিজাইনার ঘড়ি। তাঁর প্রিয় ব্র্যান্ড মুভাডো (Narendra Modi Movado watch), যা সুইজারল্যান্ডের একটি বিশ্বখ্যাত লাক্সারি ঘড়ি সংস্থা। এর দাম সাধারণত কয়েক হাজার থেকে শুরু করে কয়েক লক্ষ টাকায় পৌঁছয়। রাজনৈতিক ভাষণে দেশীয় শিল্পের প্রসার চাইলেও নিজের কব্জিতে সুইস কোম্পানির এই বিলাসবহুল ঘড়ি বাঁধা নিঃসন্দেহে এক ধরণের বৈপরীত্য।

ওই প্রতিবেদনেই লেখা হয়েছিল, মোদী বিশেষ পছন্দ করেন মঁ ব্ল (Montblanc) ফাউন্টেন পেন। এই জার্মান লাক্সারি ব্র্যান্ডের কলম আন্তর্জাতিকভাবে ধনকুবের, আমলাতন্ত্র ও শীর্ষ রাজনীতিকদের পরিচায়ক হিসেবে বিবেচিত হয়। এর দাম কয়েক হাজার টাকা থেকে কয়েক লক্ষ টাকার মধ্যেই ঘোরাফেরা করে।

টাইম এবং ওয়াশিংটন পোস্ট-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইতালির প্রিমিয়াম ব্র্যান্ড বুলগারির (Bvlgari) চশমা পরেন মোদী। আন্তর্জাতিকভাবে প্রসিদ্ধ এই ব্র্যান্ডকে সাধারণত ফ্যাশন-প্রেমী সেলিব্রিটি ও অভিজাত সমাজের সঙ্গে জুড়ে দেখা হয়। একবার সূর্যগ্রহণের সময়ে তাঁকে মে ব্যাক সানগ্লাস পরতেও দেখা যায়। ওই বিদেশি ব্র্যান্ডের বাজার মূল্য ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা বলে পত্রপত্রিকায় লেখালেখি হয়েছিল।

মোদীকে শুধু রাজনীতিক হিসেবেই নয়, আন্তর্জাতিক মিডিয়া তাঁকে এক “ফ্যাশন আইকন” হিসেবেও চিহ্নিত করেছে। তাঁর বিদেশ সফরে বারগান্ডি বন্ধগলা স্যুট, কালো টেইলর্ড ব্ল্যাক স্যুট, কিংবা গ্রে প্যাটার্নড স্যুট আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৫ সালে হ্যানোভার ফেয়ারে জার্মানিতে পড়া তাঁর কালো স্যুটকে অনেকেই ‘টাইমলেস’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। এই পোশাকগুলো সাধারণ দেশীয় উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত নয়, বরং উচ্চমূল্যের ফ্যাশন হাউস থেকে এসেছে বলে মনে করা হয়।

চীনের টেরাকোটা মিউজিয়ামে মোদীর গাঢ় রঙের সানগ্লাস পরে তোলা ছবি একসময় সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছিল। আন্তর্জাতিক ফ্যাশন সাংবাদিকরা বারবার বলেছেন, এই সানগ্লাসগুলিও বিশ্বের প্রিমিয়াম ব্র্যান্ডের তালিকায় পড়ে।

টাইম, নিউ ইয়র্ক টাইমস এবং ওয়াশিংটন পোস্ট একযোগে মোদীর ফ্যাশন সেন্স নিয়ে বারবার প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তারা উল্লেখ করেছেন, মোদী তাঁর রাজনৈতিক ইমেজ তৈরিতে পোশাককে এক বিশেষ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেন। দেশীয় কুর্তা, শাল বা রুদ্রাক্ষ মালার পাশাপাশি ইউরোপীয় ব্র্যান্ডের বিলাসবহুল সামগ্রী ব্যবহার করে তিনি এক প্রকার মিশ্র ইমেজ দাঁড় করিয়েছেন—যা আবার তাঁর ‘প্রো-বিজনেস’ মনোভাবের প্রতিফলন বলে মনে করে আন্তর্জাতিক মিডিয়া।

একদিকে স্বদেশি ডাক—“আমাদের বিদেশি পণ্য থেকে মুক্ত হতে হবে”—অন্যদিকে নিজের জীবনযাপনে বিদেশি লাক্সারি ব্র্যান্ডের উপর নির্ভরশীলতা—এই বৈপরীত্য মোদীর বক্তব্যকে এদিন প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। বিলাসবহুল বিদেশি ব্র্যান্ডে ঘেরা জীবন, আর মুখে স্বদেশি প্রচার—এই দ্বৈত বাস্তবতাই এখন জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে। বিরোধীরা বলছেন, স্বদেশি প্রচার আসলে এক রাজনৈতিক স্লোগান, বাস্তব জীবনে তার প্রতিফলন নেই। সমর্থকরা অবশ্য দাবি করছেন, মোদীর ব্যক্তিগত ফ্যাশন পছন্দ তাঁর রাষ্ট্রনায়কসুলভ দায়িত্বের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়।

তবে তাঁরা যাই বলুন, অনেক পর্যবেক্ষকের মতে, “স্বাধীনতা-পূর্ব সময়ে স্বদেশি আন্দোলন ছিল ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক প্রতিরোধের প্রতীক। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেটিকে কৌশলগত ভাবে ব্যবহার করতে চাইছেন মোদী। আমেরিকার শুল্ক হুমকি থেকে শুরু করে ভিসা ফি বাড়ানোর মতো পদক্ষেপে নয়াদিল্লির বিদেশনীতির দুর্বলতা যখন বারবার প্রকট হয়ে পড়ছে, মোদী তখন আশ্রয় নিয়েছেন স্বদেশি আন্দোলনে। কিন্তু তাঁর নিজের জীবনযাত্রার সঙ্গে না সে কথার সুর যদি না মেলে, তাহলে জনগণের কাছে বার্তাটি দুর্বল হয়ে পড়তে বাধ্য।


```