মোদীর (PM Narendra Modi) জিএসটি সংস্কার (GST Reform) নিয়ে কংগ্রেসের কড়া সমালোচনা। জয়রাম রমেশের (Jairam Ramesh) অভিযোগ—চিনের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি দ্বিগুণ, দেশীয় ব্যবসা বিপর্যস্ত।

নরেন্দ্র মোদী ও জয়রাম রমেশ।
শেষ আপডেট: 21 September 2025 18:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেবীপক্ষের শুরুতেই রবিবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দাবি করেছেন, নতুন জিএসটি সংস্কার হল এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। সোমবার থেকেই শুরু হবে ‘জিএসটি সাশ্রয় উৎসব’, যেখানে অধিকাংশ প্রয়োজনীয় পণ্যে কর কমানো হবে, করস্ল্যাব কার্যত ৫% ও ১৮%-এ সীমাবদ্ধ থাকবে। শুধু তা নয়, মোদী দেশবাসীকে আহ্বাণ জানিয়েছেন স্বদেশি পণ্যের প্রতি আস্থা রাখতে এবং আত্মনির্ভর ভারতের পথে হাঁটতে।
তবে প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণের পরই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে কংগ্রেস। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ অভিযোগ করেছেন, মোদী আসলে জিএসটি কাউন্সিলের যৌথ সিদ্ধান্তকে নিজের কৃতিত্ব হিসেবে তুলে ধরছেন। তাঁর কথায়, মোদীর বক্তৃতায় ‘স্বদেশি’ ও ‘আত্মনির্ভরতার’ বার্তা স্রেফ লোক দেখানো। গত পাঁচ বছরে ভারত-চিন বাণিজ্য ঘাটতি দ্বিগুণ হয়ে ১০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। এর সঙ্গে দেশীয় ব্যবসা ভয়ের আবহে পঙ্গু হয়ে পড়ছে, আর বাজারে অল্প কয়েকটি সংস্থার একচেটিয়া প্রভাব (অলিগোপলি) বাড়ছে। এর জেরে বহু ব্যবসায়ীই বিদেশে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
মোদীর ভাষণ শেষ হতেই জয়রাম বলেন, “কংগ্রেস বহুদিন ধরেই জিএসটিকে ‘গ্রোথ সাপ্রেসিং ট্যাক্স’ আখ্যা দিয়ে আসছে। তাঁর অভিযোগ— জিএসটির অযথা বহু ট্যাক্স ব্র্যাকেট রয়েছে। সাধারণ ভোগ্যপণ্যে গোড়া থেকে চড়া হারে কর চাপানো হয়েছে। বিপুল কর ফাঁকি ও ভ্রান্ত শ্রেণিবিভাগ চলছে। ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য জিএসটি একটি ব্যয়সাপেক্ষ বোঝা। ইনভার্টেড ডিউটি স্ট্রাকচার (যেখানে ইনপুটে কর আউটপুটের চেয়ে বেশি) ব্যবসাকে আরও জটিল করেছে।
জয়রাম স্মরণ করান, ২০১৭ সালেই কংগ্রেস জিএসটি ২.০-র দাবি তুলেছিল। এমনকি ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনের ইস্তাহার ‘ন্যায় পত্র’-এও এটি অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার ছিল। কংগ্রেসের বক্তব্য, “প্রধানমন্ত্রী যে সংস্কারের দাবি করেছেন তা এখনও অপর্যাপ্ত। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের প্রকৃত সমস্যার সমাধান হয়নি। আন্তঃরাজ্য বাণিজ্যে থ্রেশহোল্ড আরও বাড়ানো দরকার। টেক্সটাইল, পর্যটন, রফতানি, হস্তশিল্প ও কৃষিজাত পণ্যের ক্ষেত্রে বিশেষ সমস্যাগুলি অমীমাংসিত। বিদ্যুৎ, পেট্রোলিয়াম, অ্যালকোহল ও রিয়েল এস্টেটকেও জিএসটির আওতায় আনার জন্য রাজ্যগুলিকে উৎসাহ দেওয়া হয়নি। তা ছাড়া সহযোগিতামূলক যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় রাজ্যগুলির ক্ষতিপূরণের মেয়াদ আরও পাঁচ বছর বাড়ানো উচিত ছিল, কিন্তু তাও হয়নি।
প্রধানমন্ত্রী জিএসটি সংস্কারকে “সাশ্রয়ের উৎসব” বলে দাবি করলেও, কংগ্রেসের মতে, এই সংস্কার কেবল বাহ্যিক। বাকি যে সমস্ত জটিলতা রয়েছে, তা না মিটলে জিএসটি সত্যিই দেশীয় উৎপাদন ও বিনিয়োগে সহায়ক হবে কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন থাকছে।