দীপ্তির পরিবারের দাবি, বিয়ের পর থেকেই তাঁকে প্রতিনিয়ত মানসিক চাপে রাখা হত। পরে তা শারীরিক নির্যাতনের রূপ নেয়। দীপ্তির মা জানান, ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চে এক ভয়ানক ঘটনার মুখোমুখি হয়েছিলেন তাঁর মেয়ে।

পানমশলা ব্যবসায়ীর পুত্রবধূর রহস্যমৃত্যু!
শেষ আপডেট: 30 November 2025 14:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশের নামী পানমশলা সংস্থার ব্যবসায়ীর পুত্রবধূ দীপ্তি চৌরাসিয়ার মৃত্যুকে ঘিরে রহস্য আরও গভীর হচ্ছে (Kamla Pasand daughter-in-law death)। শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে এফআইআর করেছে দীপ্তির ভাই। এবার সামনে এল তাঁর মায়ের অভিযোগ। তিনি সরাসরি দাবি করেছেন, মেয়ের মৃত্যুর তদন্ত সিবিআই (CBI probe demand) করুক।
দীপ্তির পরিবারের দাবি, বিয়ের পর থেকেই তাঁকে প্রতিনিয়ত মানসিক চাপে রাখা হত। পরে তা শারীরিক নির্যাতনের রূপ নেয়। দীপ্তির (Deepti Chaurasia case) মা জানান, ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চে এক ভয়ানক ঘটনার মুখোমুখি হয়েছিলেন তাঁর মেয়ে।
অভিযোগ, সেই সময় দীপ্তি অন্তঃসত্ত্বা থাকলেও স্বামী অর্পিত এবং শাশুড়ি মিলে তাঁকে মারধর করেন (pregnant woman assaulted)। এমনকি বাড়ির দ্বিতীয় তলা থেকে টেনে-হিঁচড়ে নামানো হয়। ওই ঘটনার পর দীপ্তি বাপেরবাড়িতে গিয়ে মাকে সব জানান।
ঘটনার পর দুই পরিবার বসে আলোচনা করে। দীপ্তির মা জানান, সেইসময় অর্পিত ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা ক্ষমা চান এবং প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, এমন আচরণ আর হবে না। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। সন্তানের জন্মের কিছুদিন পরই দীপ্তি (Deepti Chaurasia case) জানতে পারেন, তাঁর স্বামীর অন্য এক মহিলার সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে। তা নিয়ে দাম্পত্যে অশান্তি বাধে। শেষে আর সহ্য করতে না পেরে দীপ্তি নিজের সন্তানকে নিয়ে হাওড়ায় বাপের বাড়িতে ফিরে আসেন।
এক বছর পরে শ্বশুরবাড়ির লোকেরা দীপ্তিকে ফিরিয়ে নিতে হাওড়ায় যান। অভিযোগ, ভবিষ্যতে কোনও সমস্যার সৃষ্টি হবে না—এই কথা দিয়ে, আর লোকের চোখে ইমেজ নষ্ট হবে না বলে আশ্বাস দিয়ে তাঁকে ফিরিয়ে নিয়ে আসা হয়। তখন দীপ্তির বাপেরবাড়ির পক্ষ থেকে স্বামী অর্পিতের কাছ থেকে লিখিত মুচলেকাও নেওয়া হয়। কিছুদিন পরিস্থিতি ঠিক থাকলেও দুই-তিন বছর পর আবার অত্যাচার শুরু হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।
মৃতার মা বলেন, মেয়েকে এতটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা হত যে নিজের পরিবার বা বাইরে কারও সঙ্গে ঠিকমতো যোগাযোগ করতে দেওয়া হত না। শ্বশুরবাড়ির কোনও অনুষ্ঠান বা এমনকি বাপেরবাড়ির অনুষ্ঠানেও তাঁকে যেতে দেওয়া হত না। ২০২৪ সালের এপ্রিলে স্বামীর ফোনে আপত্তিকর কিছু পাওয়া গেলে আবার তীব্র বিবাদ শুরু হয়।
মায়ের দাবি, মৃত্যুর দিন সকাল সাড়ে ৭টার দিকে দীপ্তি তাঁকে ফোন করেন। জানান—ছেলের ফোন নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়েছে। সেই কল আচমকা কেটে যায়। পরে বহুবার ফোন করলেও আর যোগাযোগ করা যায়নি। শাশুড়িকে ফোন করলে তিনি জানান, তিনি বিমানবন্দরে। অর্পিতকে ফোন করলে বলেন, তিনি জিমে আছেন।
তার কয়েকঘণ্টা পরই পরিবারের কাছে খবর আসে, দীপ্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। হাসপাতালে পৌঁছলে চিকিৎসকেরা জানান, দীপ্তি আর নেই।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘর থেকে দীপ্তির ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা, ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগিয়েই নিজের জীবনের ইতি টেনেছেন দীপ্তি (Deepti Chaurasia case)। ঘর থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি ছোট নোট। সেখানে তিনি কাউকে দায়ী করেননি বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। নোটে লেখা, “সম্পর্কে যদি ভালোবাসা ও বিশ্বাস না থাকে, তবে জীবনেরই বা মানে কী?” তদন্তকারীরা মনে করছেন, দীর্ঘদিনের পারিবারিক অশান্তিই তাঁকে চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। কিন্তু এই কথা মানতে নারাজ দীপ্তির পরিবার।