৬ জুন চিঠিতে ইউনুস লেখেন, মোদীর শুভেচ্ছাবার্তা 'দুই দেশের মধ্যে ভাগ করে নেওয়া মূল্যবোধেরই প্রতিফলন।' তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও ভারতীয় জনগণের উদ্দেশে শুভেচ্ছা ও আন্তরিক শুভকামনা জানান।

মোদী ও ইউনুস
শেষ আপডেট: 9 June 2025 09:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশ ও ভারত আগামিদিনেও পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়ার ভিত্তিতে জনগণের কল্যাণে একসঙ্গে কাজ করবে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে জানালেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস। ইদ-উল-অধার শুভেচ্ছার প্রত্যুত্তরে এই বার্তা মোদীকে পাঠালেন ইউনুস। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রবিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় দুই রাষ্ট্রপ্রধানের এই চিঠি প্রকাশ করেছে।
৬ জুন চিঠিতে ইউনুস লেখেন, মোদীর শুভেচ্ছাবার্তা 'দুই দেশের মধ্যে ভাগ করে নেওয়া মূল্যবোধেরই প্রতিফলন।' তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও ভারতীয় জনগণের উদ্দেশে শুভেচ্ছা ও আন্তরিক শুভকামনা জানান। লেখেন, 'আমি বিশ্বাস করি, জনগণের বৃহত্তর কল্যাণ নিশ্চিত করতে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়ার চেতনা দুই দেশকে ভবিষ্যতেও একসঙ্গে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করবে। ইদ-উল-অধা আত্মবিশ্লেষণের সুযোগ এনে দেয়। উৎসব, ত্যাগ, উদারতা ও ঐক্যের আবহ তৈরি করে এবং আমাদের সকলকে বিশ্বের মানুষের বৃহত্তর কল্যাণের জন্য একসঙ্গে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করে।'
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ৪ জুনে পাঠানো চিঠিতে ইদ-উল-অধাকে 'ভারতের সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ' বলে উল্লেখ করেন। লেখেন, এই উৎসব 'আমাদের ত্যাগ, সহানুভূতি ও ভ্রাতৃত্ববোধের চিরন্তন মূল্যবোধগুলির কথা মনে করিয়ে দেয়, যা শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বিশ্ব গড়ে তুলতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।'
উল্লেখ্য, গত বছর অগস্টে শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্কে চিড় ধরতে শুরু করে। ভারতে আশ্রয় নেন হাসিনা। চলতি বছরের মে মাসে তাঁর দল আওয়ামী লিগ নিষিদ্ধ ঘোষিত হলে ঢাকা সরাসরি ভারতের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তোলে। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও দুই দেশের সম্পর্কের আবহ খুব একটা সুখকর নয়। বর্তমানে বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতির সম্মুখীন।
এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী মোদী ও বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ইউনুসের মধ্যে ইদের শুভেচ্ছা বিনিময়কে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবেই দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিনের জটিলতা কাটিয়ে ফের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।