তদন্তকারীদের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের সময় মাজ খান জানিয়েছেন, খানুগাঁও এলাকায় একটি থার গাড়ির ভিতরে আউসাফ আলি খান ওই নাবালিকাকে নির্যাতন করে। সে সময় মাজ বাইরে দাঁড়িয়ে গাড়ির জানলা দিয়ে আইফোনে ঘটনার ভিডিও রেকর্ড করে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 13 February 2026 13:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মধ্যপ্রদেশের ভোপালে (Madhya Pradesh Bhopal Gang Rape) একাদশ শ্রেণির এক নাবালিকাকে গাড়ির ভিতরে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ব্ল্যাকমেলের অভিযোগও উঠেছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যেই একটি থার এসইউভি-সহ মোট চারটি গাড়ি বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ।
ঘটনায় মূল অভিযুক্ত আউসাফ আলি খানকে ৩ ফেব্রুয়ারি গ্রেফতার করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি জেল হেফাজতে। তাঁর সহযোগী মাজ খান, যিনি ভোপালে একটি জিম পরিচালনা করেন, তাঁকে ৮ ফেব্রুয়ারি আটক করা হয়। ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তাঁকে কোহেফিজা থানায় রিমান্ডে রাখা হয়েছে।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে পুলিশ কমিশনার বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট (SIT Investigation) গঠন করেছেন। এই দলের নেতৃত্বে রয়েছেন এসিপি অঙ্কিতা খাত্রাকার। তদন্তে উঠে এসেছে, নাবালিকাকে শহরের বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে গিয়ে চারটি আলাদা গাড়ির ভিতরে নির্যাতন করা হয়েছিল।
তদন্তকারীদের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের সময় মাজ খান জানিয়েছেন, খানুগাঁও এলাকায় একটি থার গাড়ির ভিতরে আউসাফ আলি খান ওই নাবালিকাকে নির্যাতন করে। সে সময় মাজ বাইরে দাঁড়িয়ে গাড়ির জানলা দিয়ে আইফোনে ঘটনার ভিডিও রেকর্ড করে। পরে সেই ভিডিও দেখিয়ে ৪০ হাজার টাকা চাওয়া হয় এবং তা ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। অভিযোগ, এইভাবে ভয় দেখিয়ে বারবার শারীরিক সম্পর্ক করতে বাধ্য করা হয় নাবালিকাকে।
অপরাধে ব্যবহৃত গাড়িটি সেহোর জেলার একটি গ্রামে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল বলে পুলিশ সূত্রে খবর। সেটি উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ভিডিও রেকর্ডিংয়ের জন্য ব্যবহৃত আইফোন এখনও উদ্ধার হয়নি।
তদন্ত চলাকালীন আরও একটি গুরুতর তথ্য সামনে এসেছে। মাজ খানের সঙ্গে কোহেফিজা থানায় কর্মরত এক হেড কনস্টেবলের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল বলে অভিযোগ। তাঁর বিরুদ্ধে গোপন তথ্য ফাঁসের সন্দেহ রয়েছে। ওই পুলিশকর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
পুরো ঘটনার নেপথ্যে আর কেউ জড়িত কি না, ব্ল্যাকমেলের পরিমাণ আরও বেশি ছিল কি না - সব দিক খতিয়ে দেখছে সিট। তদন্তকারীদের বক্তব্য, নির্যাতিতার সুরক্ষা ও প্রমাণ সংগ্রহ - দু’দিকেই সমান গুরুত্ব দিয়ে এগোনো হচ্ছে।