কেন্দ্রের নির্দেশের বিরুদ্ধে লাদাখ হাইকোর্টে মামলা করেন রাখসন্দা। তবে কোনও স্থগিতাদেশ পাওয়ার আগেই, তাঁকে আটারি-ওয়াঘা সীমান্ত দিয়ে পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

ছবি- এআই নির্মিত
শেষ আপডেট: 2 August 2025 19:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অবশেষে ভারতে স্বামী ও প্রিয়জনদের কাছে আসার অনুমতি পেলেন পাকিস্তানের নাগরিক রাখসন্দা রাশিদ। পহেলগাম হামলার (Pahalgam terror attack) পর কেন্দ্রের নির্দেশে দেশে ফিরে যেতে হয়েছিল তাঁকে। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক (Ministry of Home Affairs) জানিয়েছে, মানবিক দিক বিবেচনা করে রাখসন্দাকে ট্যুরিস্ট ভিসা দেওয়া হয়েছে। তবে এই বিষয়ে আদালতে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে জানানো হলে, মামলাটি খারিজ করে দেন বিচারপতিরা।
রাখসন্দা রশিদ (৬৫) জন্মসূত্রে পাকিস্তানি, সেখানেই বড় হয়ে ওঠা তাঁর। ৩৫ বছর আগে ভারতের জম্মুর বাসিন্দা জহুর আহমেদকে বিয়ে করে এদেশে চলে আসেন। তাঁদের চার সন্তান রয়েছে। এতগুলি বছর স্বামী সংসার নিয়ে জম্মুতেই ছিলেন প্রৌঢ়া। কিন্তু পহেলগামের জঙ্গি হামলা মুহূর্তেই সব বদলে দেয়।
গত এপ্রিল মাসে কাশ্মীরের পহেলগামে জঙ্গি হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হাত শক্ত করেছিল ভারত সরকার। সকল পাকিস্তানি নাগরিককে দেশের ফেরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তার জেরেই রাখসন্দাকে ২৮ এপ্রিল 'লিভ ইন্ডিয়া নোটিস' জারি করে জানানো হয় যে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাঁকে দেশ ছাড়তে হবে। তাঁর ভিসার মেয়াদ তখনও বৈধ ছিল ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত এবং তিনি সেটি রিনিউ করার আবেদনও করেছিলেন।
কেন্দ্রের নির্দেশের বিরুদ্ধে লাদাখ হাইকোর্টে মামলা করেন রাখসন্দা। তবে কোনও স্থগিতাদেশ পাওয়ার আগেই, তাঁকে আটারি-ওয়াঘা সীমান্ত দিয়ে পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। মামলার শুনানিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, রাখসন্দার পরিবার এবং পরিস্থিতি বিবেচনা করে তাঁকে দর্শনার্থী ভিসা (visitor's visa to Rakshanda Rashid) দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিচারপতি অরুণ পল্লি এবং বিচারপতি রজনেশ ওসওয়ালের বেঞ্চ জানান, যেহেতু সরকার নিজে থেকেই তাঁকে ভারতে ফেরার অনুমতি দিচ্ছে, তাই তাঁর পূর্বের আবেদন আর প্রয়োজন নেই।
আদালত এটাও পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, রাখসন্দাকে ভিসা দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত কোনওভাবেই ভবিষ্যতের জন্য কোনও নীতি নির্ধারণ করবে না। এটা শুধুই একটি ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে নেওয়া পদক্ষেপ। রাখসন্দার আইনজীবীরা জানান, সরকার যে পথে এগোচ্ছে, তাতে তাঁদের কোনও আপত্তি নেই। ভবিষ্যতে তিনি চাইলে নাগরিকত্ব ও দীর্ঘমেয়াদি ভিসার আবেদনের পথও খোলা থাকবে।
স্ত্রীর দেশের ফেরার খবর পেয়ে খুশি জহুর আহেমদ। তিনি বলেন, 'গত কয়েকমাসে গোটা পরিবার মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল। অবশেষে কিছুটা স্বস্তি ফিরল।'