শুক্রবার রাতে ডুমেরিপাড়া গ্রামে নিজের বাড়িতেই ঘুমোচ্ছিলেন বালামাদু মাঝি (Balamadu Majhi)। সেই সময়েই তাঁকে সাপে কামড়ায় (Woman bitten by a snake)।
.jpg.webp)
সাপের কামড়ে মৃত্যু মহিলার
শেষ আপডেট: 2 August 2025 17:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী থাকল ওড়িশার কন্ধমাল (Kandhamal) জেলার মানুষ। রাস্তার অবস্থা বেহাল, গাড়ি চলাচলের যোগ্য নয়। মায়ের প্রাণ বাঁচাতে তাঁকে কাঁধে তুলে জঙ্গলের রাস্তা ধরে পাঁচ কিলোমিটার হেঁটে যেতে বাধ্য হলেন তরুণী (Daughter Carries snake-bitten mother on her back)। কিন্তু এত কষ্টের পরও শেষরক্ষা হল না। হাসপাতালে পৌঁছনোর আগেই সাপের কামড়ে মৃত্যু হল মহিলার।
জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাতে ডুমেরিপাড়া গ্রামে নিজের বাড়িতেই ঘুমোচ্ছিলেন বালামাদু মাঝি (Balamadu Majhi)। সেই সময়েই তাঁকে সাপে কামড়ায় (Woman bitten by a snake)। সঙ্গে সঙ্গে তাঁর পরিবারের লোকেরা ১০৮ নম্বরে ফোন করে অ্যাম্বুলেন্স (108 ambulance service) ডাকেন। কিন্তু গ্রামের মধ্যে গাড়ি যাওয়ার মতো পাকা রাস্তা না থাকায় অ্যাম্বুলেন্স ঢুকতে পারেনি। সেটি সারামুণ্ডি (Saramundi) পর্যন্ত গিয়েই আটকে পড়ে, যা গ্রাম থেকে প্রায় আট কিমি দূরে।
অ্যাম্বুল্যান্স পৌঁছনোর পথ না থাকায়, মেয়ে রাজনি মাঝি (Rajani Majhi) কোনও উপায় না পেয়ে অসুস্থ মাকে নিজের কাঁধে তুলে নেন। তারপর জঙ্গলের মধ্যে দিয়েই দীর্ঘ পাঁচ কিলোমিটার পথ হাঁটেন। এরপর আরও তিন কিমি রাস্তা তাঁরা বাইকে পার করে অ্যাম্বুল্যান্স পর্যন্ত পৌঁছন।
সেখান থেকে প্রথমে বালামাদুকে তুমুদিবন্ধের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে স্থানান্তরিত করা হয় বালিগুড়া (Baliguda) সাব-ডিভিশনাল হাসপাতালে। কিন্তু সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পরিবার ও স্থানীয় গ্রামবাসীরা অভিযোগ করেছেন, রাস্তার দুর্দশা আর সময়মতো প্রাথমিক চিকিৎসাটুকু না পাওয়ার কারণেই মহিলার মৃত্যু হয়েছে। তাঁরা আরও বলেন, বছর কয়েক আগে রাজনির বাবাও একইভাবে প্রাণ হারান। অর্থাৎ পরিবারটি ইতিমধ্যেই দু’জনকে হারিয়েছে একই কারণে- অবহেলা, রাস্তা না থাকা, এবং চিকিৎসার দেরি। মায়ের মৃত্যুর পরে, রাজনির পরিবার মৃতদেহ কাঁধে করে খাটিয়ায় তুলে বাড়ি নিয়ে যায়।
এই ঘটনায় গোটা আদিবাসী এলাকায় প্রবল ক্ষোভ ছড়িয়েছে। দীর্ঘদিনের অবহেলিত পরিকাঠামো আর যাতায়াতের অভাবে যে ভাবে প্রাণহানি ঘটছে, তা ঘিরে নতুন করে ক্ষোভ দানা বাঁধছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনার পর অবিলম্বে রাস্তাঘাট ও জরুরি পরিকাঠামো উন্নয়নের দাবি তুলেছেন।