প্রৌঢ়ের জামাই আশুতোষ গিরির দাবি, তাঁরা তখনই KGMU-তে ছুটে যান। কিন্তু সেখানে বহু অনুরোধ সত্ত্বেও রোগীর জন্য কোনও বেড বা অক্সিজেন সিলিন্ডার দেওয়া হয়নি। প্রায় চার ঘণ্টা ধরে তাঁর শ্বশুরমশাই ট্রমা সেন্টারের স্ট্রেচারে পড়েছিলেন।
.jpeg.webp)
ছবি- এআই
শেষ আপডেট: 2 August 2025 15:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিনা চিকিৎসায় লখনউয়ের এক সরকারি হাসপাতালে মৃত্যু হল ৭০ বছরের প্রৌঢ়ের! পরিবারের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার রাতে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু বেড ও অক্সিজেনের ব্যবস্থা করা যায়নি (Allegedly being denied timely treatment)। চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেও কোনও সুরাহা মেলেনি। দীর্ঘক্ষণ বিনা চিকিৎসায় হাসপাতালেই শুয়েছিলেন প্রৌঢ়। পরে তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় হাসপাতালের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ এনেছে মৃতের পরিবার।
জানা গেছে, লখনউয়ের সরোজিনী নগরের বাসিন্দা ছিলেন কাশী প্রসাদ গোস্বামী (৭০)। অভিযোগ, বৃহস্পতিবার রাতভর পরিবার একটি অক্সিজেন সিলিন্ডার-যুক্ত বেডের খোঁজে বিভিন্ন হাসপাতালে ছুটে বেড়ালেও শেষ পর্যন্ত কোনও সাহায্য পাননি। সময়মতো চিকিৎসা না পেয়ে মৃত্যু হয় ওই বৃদ্ধের। ঘটনায় বেসরকারি হাসপাতাল এবং কিং জর্জ মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটি (KGMU)-র ভূমিকা নিয়েও উঠেছে গাফিলতির অভিযোগ।
কাশী প্রসাদ গোস্বামীকে বৃহস্পতিবার সন্ধেয় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল লখনউয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে। সেখানে তাঁর শ্বাসকষ্টের (severe difficulty breathing) সমস্যা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাঁকে কিং জর্জ মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটির ট্রমা সেন্টারে রেফার করেন।
প্রৌঢ়ের জামাই আশুতোষ গিরির দাবি, তাঁরা তখনই KGMU-তে ছুটে যান। কিন্তু সেখানে বহু অনুরোধ সত্ত্বেও রোগীর জন্য কোনও বেড বা অক্সিজেন সিলিন্ডার দেওয়া হয়নি। প্রায় চার ঘণ্টা ধরে তাঁর শ্বশুরমশাই ট্রমা সেন্টারের স্ট্রেচারে পড়েছিলেন। কিন্তু কোনও চিকিৎসক এসে দেখেননি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বারবার বলেন, কোনও বেড ফাঁকা নেই। অথচ রোগীর অবস্থা ক্রমাগত খারাপ হচ্ছিল।
শেষ পর্যন্ত, কোনও উপায় না দেখে, কাশী প্রসাদ গোস্বামীর পরিবার তাঁকে ফের নিয়ে যান সেই প্রথম বেসরকারি হাসপাতালে, যেখানে তিনি প্রথম ভর্তি হয়েছিলেন। কিন্তু শেষরক্ষা করা যায়নি। সেখানে কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনার জন্য আশুতোষ গিরি দু'টি হাসপাতালের গাফিলতিকেই দায়ী করেছেন। তাঁর অভিযোগ, 'আমরা বারবার সাহায্য চেয়েছিলাম। কিন্তু কোথাও কোনও সাড়া পাইনি। ওঁর অক্সিজেন ক্রমাগত নেমে যাচ্ছিল। কিন্তু কেউ এগিয়ে আসেনি।'
তবে KGMU-র তরফে তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। হাসপাতালের মুখপাত্র চিকিৎসক সুধীর সিং জানিয়েছেন, রোগীকে রেফার করা হয়েছিল কারণ হাসপাতালে কোনও ভেন্টিলেটর বেড খালি ছিল না। রোগী এবং তাঁর পরিবারকে অপেক্ষা করতে বলা হলেও তাঁরা নিজেরাই সেখান থেকে বেরিয়ে যান।
কাশী প্রসাদ গোস্বামীর পরিবার হাসপাতাল দু'টির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছে। তাঁদের বক্তব্য, 'সময়মতো সঠিক চিকিৎসা পেলেই প্রৌঢ় সুস্থ হতে পারতেন। কিন্তু হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের অবহেলার কারণেই এই মৃত্যু।'