রাজীবের বাবা পুত্রবধূ ও তাঁর পাঁচ ভাইয়ের বিরুদ্ধে থানায় খুনের চক্রান্তের অভিযোগ আনেন। তাঁর দাবি, পরিকল্পনা করেই ছেলেকে খুন করার চেষ্টা হয়েছিল (UP Woman Plots Husband's Murder)।

খুনের ছক স্ত্রীর
শেষ আপডেট: 2 August 2025 16:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্ত্রী ও শ্যালকের খুনের ষড়যন্ত্র! বরাতজোরে প্রাণে বাঁচলেন উত্তরপ্রদেশের রাজীব (Uttar Pradesh case)। 'রক্ষক' হয়ে আসেন এক অচেনা ব্যক্তি। তবে গুরতর আহত অবস্থায় ভর্তি হাসপাতালে। পুলিশ তদন্তে নেমে ছ'জনকে গ্রেফতার করেছে বলে খবর। কী কারণে এই খুনের ছক, তাও খতিয়ে দেখা হবে।
বরেলির বাসিন্দা রাজীব। এলাকায় এক চিকিৎসকের সহকারী হিসেবে কাজ করেন। অভিযোগ, স্ত্রী ও তাঁর পাঁচ ভাই খুনের ছক কষেছিল (UP Woman Plots Husband's Murder)। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ জুলাই রাতে একদল দুষ্কৃতী বাড়িতে ঢুকে রাজীবের ওপর হামলা চালায়। বেধড়ক মারধর করে তাঁর হাত-পা, ভেঙে দেওয়া হয়। পরিকল্পনা ছিল, ওই ব্যক্তিকে খুন করে জঙ্গলে পুঁতে দেওয়া হবে।
সেইমতোই বরেলির সিবি গঞ্জ এলাকার একটি গভীর জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মাটি খুঁড়ে তৈরি করা হয় কবর। কিন্তু ঠিক তখনই ঘটনাস্থলে এসে হাজির হন এক অচেনা পথচারী। তাঁকে দেখে রাজীবকে ফেলে রেখেই চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা। ভাঙা হাত-পা নিয়ে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিলেন রাজীব। গলা দিয়ে খুব একটা আওয়াজও বেরোচ্ছিল না। কিন্তু ওই অজানা ব্যক্তি তাঁকে দেখতে পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্স ডেকে পাঠান। রাজীবকে ভর্তি করা হয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে। বর্তমানে তিনি ওই হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রাজীবের বাবা পুত্রবধূ ও তাঁর পাঁচ ভাইয়ের বিরুদ্ধে থানায় খুনের চক্রান্তের অভিযোগ আনেন। তাঁর দাবি, পরিকল্পনা করেই ছেলেকে খুন করার চেষ্টা হয়েছিল (UP Woman Plots Husband's Murder)। অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি। অভিযোগের ভিত্তিতে, রাজীবের স্ত্রী সাধনা ও তাঁর পাঁচ ভাইকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়, চক্রান্তের জন্য কয়েকজন গুন্ডা ভাড়া করা হয়েছিল।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, রাজীব বরেলির নবোদয় হাসপাতালে এক চিকিৎসকের ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে কর্মরত। ২০০৯ সালে সাধনার সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। দম্পতির দুই সন্তান রয়েছে ১৪ বছরের যশ এবং ৮ বছরের লভ। দু’জনেই একটি বেসরকারি স্কুলে পড়ে। গ্রামে রাজীবের একটি বাড়ি রয়েছে। কিন্তু তাঁর বাবা জানিয়েছেন, রাজীব স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে শহরে একটি ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। কারণ, গ্রামে থাকতে চাইতেন না।
পুলিশের অনুমান, পারিবারিক বিবাদ থেকেই সম্পর্কে তিক্ততা এবং তার জেরেই খুনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে সাধনার বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক আছে কি না তাও জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।